Homeএই মুহুর্তেবৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ার পর দেশের সার্বিক অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল। তারপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে আবারও সংকট দেখা দেয়। এর প্রভাবে ২০২২ সালের মার্চ থেকে দেশের আর্থিক খাতে ডলার সংকট দেখা দেয়। চাপ সামাল দিতে আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৯২৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ পেয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে আবারও রিজার্ভ ছাড়িয়েছে ৩১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ঈদের ছুটির আগের কার্যদিবসে রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার। এর আগে গত ১৫ জুন রিজার্ভ ছিল ২৯ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। সম্প্রতি এডিবির বাজেট সহায়তার ৪০ কোটি ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক থেকে পাওয়া গেছে ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সম্প্রতি আরও কিছু ঋণ পাওয়ায় রিজার্ভের পরিমাণ বেড়েছে। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে ২০২১ সালের আগস্টে। পরবর্তীতে তা কমতে কমতে গত ৮ মে ৩০ বিলিয়নের নিচে নেমে আসে।

এদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণে চলতি অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে ১ হাজার ৩৫৮ কোটি ডলার বিক্রি করা হয়। এর ফলে গত এক বছরে রিজার্ভ কমেছে ১০ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। আশানুরূপ বিদেশি বিনিয়োগ না আসা, নতুন বাণিজ্য ঋণ কমে যাওয়া এবং আগে নেওয়া ঋণ পরিশোধের চাপে ডলার সংকট দ্রুত কাটছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে ১ হাজার ৩৫৮ কোটি ডলার বিক্রি করা হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে (২০২১-২২) সর্বোচ্চ ৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার বিক্রি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে চলতি জুন মাসে রেমিট্যান্স আসায় ব্যাপক উত্থান হয়েছে। সদ্য বিদায়ি জুনের প্রথম ২৫ দিনে প্রবাসীরা ২০২ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে জুনের ২৫ জুন পর্যন্ত ২ হাজার ১০২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। যার পরিমাণ এর আগের অর্থবছরের পুরো সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার। গত বছর একই সময়ে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪১ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার।

তবে বাংলাদেশের প্রকৃত রিজার্ভ আরও কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব পদ্ধতিতে আপত্তি আন্তর্জাতিক মূদ্রা তহবিলের (আইএমএফ)। রিজার্ভের অর্থে বিদেশে বিভিন্ন বন্ড, মুদ্রা ও স্বর্ণে বিনিয়োগ; রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল গঠন, বাংলাদেশ বিমানকে উড়োজাহাজ কিনতে সোনালী ব্যাংককে ধার, পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের খনন কর্মসূচিতে অর্থ দেওয়া এবং শ্রীলঙ্কাকে অর্থ ধার দেওয়া বাবদ খরচ ৮২০ কোটি ডলার রয়েছে, যা এখন ৬০০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। তবে মুদ্রানীতিতে আইএমএফ ও বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমান যে পদ্ধতিতে রিজার্ভ হিসাব করে, তা মেনে চলার ঘোষণা দেওয়া হয়। অর্থাৎ দুই পদ্ধতিতে রিজার্ভ হিসাব করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে নিট রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ করবে না।

এদিকে ডলারের দর হু হু করে বাড়তে থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যস্থতায় গত সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকগুলো কেনা ও বিক্রির সর্বোচ্চ দর ঠিক করে দিচ্ছে। যদিও অনেক ব্যাংক নির্ধারিত দরের বেশিতে ডলার কিনছে। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে কয়েক দফা সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ গত ২১ মে বিএফআইইউ সাতটি ব্যাংকের রেমিট্যান্স সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নিয়ে বৈঠক করে। এরপর এখনও অনেক ব্যাংক নির্ধারিত দর মানছে না। অনেক ব্যাংক বেশি পরিমাণ টাকা খরচ করে ডলার কিনছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ঈদুল আজহার আগে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। এর ফলে রিজার্ভ বৃদ্ধিতে রেমিট্যান্সের অবদান রয়েছে। সদ্য বিদায়ি অর্থবছরের ২৫ জুন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ১৪৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে বাংলাদেশ। তার আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়