প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
চলতি বছর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে নির্মিত বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ প্রযোজনায় বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘মুজিব-একটি জাতির রূপকার’। আনুষ্ঠানিক মুক্তির আগেই কানাডার টরন্টোতে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে ছবিটি। এই উৎসব বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম সম্মানজনক উৎসব হিসেবে স্বীকৃত।
কানাডার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে বেললাইট বক্স সিনেমা-৭ প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনীতে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে সেখানে উড়ে যান ছবির প্রধান দুই অভিনয়শিল্পী আরিফিন শুভ ও নুসরাত ফারিয়া। আরও অংশ নেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ। ছবিটি প্রদর্শনীর আগে তিনি এই চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট এবং বিষয়বস্তু তুলে ধরেন।
বলেন, ‘যারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন, তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হতে চান, তাকে আরও ভালো করে জানতে চান এবং বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস জানতে চান, এই চলচ্চিত্র তাদের অনেক কিছু দিতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিন ঘণ্টা সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর জীবন, বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম ও ১৯৭৫ সালের মর্মন্তুদ ঘটনাকে যেভাবে তুলে আনা হয়েছে, সেখানেই চলচ্চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগালের মুন্সিয়ানা, অন্য পরিচালকের সাথে পার্থক্য।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার ফলেই এ চলচ্চিত্র নির্মাণের শুরু থেকে মুক্তি পর্যন্ত সঙ্গে থাকার সুযোগ হচ্ছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘অবর্ণনীয় ব্যস্ততার মধ্যেও এই চলচ্চিত্র নির্মাণে আন্তরিক সময়দানের জন্য বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জানাই গভীর কৃতজ্ঞতা। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার সিনেমাটি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। এক নিঃশ্বাসে দেখার মতো এমন চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য পরিচালক শ্যাম বেনেগাল ও শিল্পী, কলা-কুশলী ও নেপথ্য কারিগরদের আবারও অকুণ্ঠ ধন্যবাদ।’
প্রাথমিকভাবে বাংলা ও হিন্দি ভাষায় চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাবে এবং বিশ্বব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান মন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু চরিত্রাভিনেতা আরিফিন শুভ তার বক্তব্যে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয়ের পর যদি আর কোনও চলচ্চিত্রে অভিনয় নাও করি বা যদি পৃথিবী থেকে চলেও যেতে হয়, তাতেও কোনও আক্ষেপ নেই।’
ভারত থেকে আগত চিত্রনাট্যকার অতুল তেওয়ারি বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ যে তিনি তার পিতার জীবনের চলচ্চিত্র নির্মাণে আমাদের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছেন।’ বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করা নুসরাত ফারিয়া ও কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড.খলিলুর রহমান।
আরও উপস্থিত ছিলেন বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিন, যুগ্ম সচিব কাউসার আহমেদ, উৎসব কর্মকর্তারাসহ দেশি-বিদেশি দর্শক। সবাই ছবিটি দেখে প্রশংসা করেন।


