প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
সৌদি আরবগামী বিমানে চড়ার পর ১৬ জন ভিক্ষুক শনাক্ত করে পাকিস্তান। এরপর তাদেরকে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়। দেশটির মুলতান বিমানবন্দরে সম্প্রতি এই ঘটনা ঘটে।
পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) এর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এমন খবর দিয়েছে ডন। খবরে বলা হয়েছে, দুই দিন আগে মুলতান বিমানবন্দরে সৌদি আরবগামী ফ্লাইটে ওমরাহ যাত্রীদের ছদ্মবেশে ১৬ জন অভিযুক্ত ভিক্ষুককে শনাক্ত করা হয়। পরে তাদেরকে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়।
এফআইএ জানিয়েছে, ওই ভিক্ষুকদের মধ্যে একজন শিশু, ১১ জন নারী এবং চার জন পুরুষ রয়েছে। তারা ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব যাচ্ছিল।
এফআইএ কর্মকর্তারা তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তারা স্বীকার করেন যে, ভিক্ষা করার জন্যই সৌদি আরব যাচ্ছিলেন তারা।
ওই ভিক্ষুকরা জানিয়েছেন, তাদের ভিক্ষা থেকে যে অর্থ আয় হবে তার অর্ধেক ওই এজেন্টদের দিতে হবে, যারা এই ভ্রমণের ব্যবস্থা করেছেন। ওমরাহ ভিসার মেয়াদ থাকা পর্যন্ত তাদের সৌদি আরব থাকার পরিকল্পনা ছিল।
এফআইএ মুলতান সার্কেল তাদেরকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের ও আইনি ব্যবস্থার জন্য তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা বলেছে, প্লেন থেকে নামিয়ে দেওয়া সবার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থার জন্য তাদের মানবপাচার ও চোরাচালান বিরোধী শাখায় পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইন, ২০১৮-এর অধীনে মামলা হবে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব জুলফিকার হায়দার জানান, বিদেশে গ্রেফতার হওয়া ভিক্ষুকদের ৯০ শতাংশই পাকিস্তানি। তিনি জানান, জুলফিকার হায়দার জানান, দেশ ছেড়ে যাওয়া পাকিস্তানিদের মধ্যে ভিক্ষুকরাই সবচেয়ে বেশি বিদেশে যাচ্ছে।
কিছুদিন আগেই আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত পাকিস্তান সরকারকে হজযাত্রী বাছাইয়ের বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছিল সৌদি সরকার। হজযাত্রায় কোটায় আবেদনকারীদের মনোনয়নের বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার কথা বলা হয় ওই বার্তায়। কোনোভাবেই যাতে ভিক্ষুক কিংবা পকেটমারের মতো অপরাধীরা হজের সুযোগ না পান, সে কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় রিয়াদ।


