প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
আমাকে ছেড়ে চলে গেলে। এখন আমাদের কে দেখবে? আমাদের দুই মেয়ে আরাধ্য ও তিথিকে কে দেখবে? বেড়াতে গিয়ে কেন এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে গেলে—এভাবে বিলাপ করছেন কাশ্মিরের আগুনে নিহত গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী অনিন্দ্য কৌশলের সহধর্মিণী প্রিয়াংকা রাণী দেবী। কিন্ত দুই মেয়ে জানে বাবা আর বেঁচে নেই।
রবিবার (১২ নভেম্বর) বিকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর জামালখান এলাকার ইউরেকা ভবনে নিহত অনিন্দ্যের বাসায় গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়। মৃত্যুর খবর শুনে ইউরেকা ভবনের নিচে তার স্বজনরা এসেছে। তারা প্রিয়াংকাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করে।
শনিবার শ্রীনগরে বিখ্যাত ডাল লেকে পাঁচটি হাউসবোটে আগুন লাগার ঘটনায় বাংলাদেশি তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতরা হলেন—রাঙামাটি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অনিন্দ্য কৌশল, গণপূর্ত বিভাগ চট্টগ্রাম-২-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমন দাশগুপ্ত। অন্যজন মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন। তিনি পেশায় একজন ঠিকাদার; তার বাড়ি রাউজান কদলপুর ইউনিয়নে।
অনিন্দ্য চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের পুরকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি মিরসরাই। আর প্রকৌশলী ইমন দাশগুপ্ত খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের পুরকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি রাউজানের কদলপুরে।
নিহত অনিন্দ্য কৌশলের বাবা স্বপন কুমার নাথ বলেন, ‘আমাদের ছেলে অনিন্দ্য ৩ নভেম্বর তীর্থের উদ্দেশে ভারতে গেছে। দুয়েক দিনের মধ্যে তার ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে আমার ছেলে নাকি আগুনে পুড়ে মারা গেছে।
গণপূর্তের রাঙামাটি কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) জয় বড়ুয়া বলেন, ‘স্যার (অনিন্দ্য কৌশল) ৩ নভেম্বর ভারতে গেছেন। তিনি এ সফরে ভ্রমণের পাশাপাশি ভারতে ডাক্তার দেখানোর কথা ছিল। এ ছাড়া আজমির শরিফ যাওয়ার কথা। সেখান থেকে কাজ শেষে কাশ্মিরে যাচ্ছিলেন বলেও জানিয়েছিলেন। ঘটনা শুনে খুব খারাপ লাগছে।’


