Homeবাণিজ্যবাণিজ্য সংবাদনতুন করদাতা খুঁজতে এজেন্ট নিয়োগ করছে এনবিআর

নতুন করদাতা খুঁজতে এজেন্ট নিয়োগ করছে এনবিআর

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

নতুন করদাতা খুঁজে বেরে করতে চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এ জন্য এজেন্ট কিংবা থার্ড পার্টি নিয়োগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাদের করযোগ্য আয় আছে অথচ আওতায় নেই, এমন লোকদের খুঁজে বের করা হবে। কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তৃতীয় কোনো পক্ষ দিয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এদের চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর।

যোগাযোগ করা হলে এনবিআরের সাবেক সদস্য আলমগীর হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, এজেন্টদের কাজ হবে করসংক্রান্ত যাবতীয় সেবা দেওয়া। নতুন করদাতা খুঁজে তাদের করের আওতায় আনা এবং আয়কর রিটার্ন পূরণ করে দেওয়া হবে। তারা কোনো কর আদায় করবে না।

উল্লেখ্য, মূল্যসংযোজন কর আদায় করতে এর আগে ভ্যাট বিভাগে এজেন্ট নিয়োগ করেছে এনবিআর। এখন ভ্যাটের পাশাপাশি আয়কর বিভাগেও একই নিয়ম চালু করা হচ্ছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে টিআরপি। যদিও এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন কর আইনজীবীরা।

জানা গেছে, নতুন করদাতা খুঁজতে এর অংশ হিসেবে আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকারী (টিআরপি) নিয়োগ করবে সংস্থাটি। ইতোমধ্যে টিআরপি বিধিমালাও জারি করা হয়েছে। অবশ্য এ ধরনের বেসরকারি সংস্থা দিয়ে রিটার্ন প্রস্তুত করা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে? আয়কর আইনজীবীরা এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে বলেছেন, এটা কার্যকর করা হলে তা হবে আয়কর আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। টিআরপি বিধিমালাকে ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন কর আইনজীবীরা।

এনবিআর সূত্র বলেছে,আইনজীবীদের অভিযোগ সত্য নয়। নতুন আইনে থার্ড পার্টি কিংবা এজেন্টে নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যাদের নিয়োগ দেওয়া হবে, কর আদায় করতে পারবে না তারা। তাদের কাজ হবে নতুন করদাতা খোঁজা। আয়কর রিটার্ন ফরম, কর নিরূপণ কীভাবে করতে হয় সে সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়। এ ছাড়া আয়কর সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে গড়ে তোলা।

এনবিআর সূত্র জানায়, দেশে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারীর সংখ্যা সাড়ে ৯৩ লাখ। অথচ রিটার্ন দাখিল করেন মাত্র ৩৫ লাখ। দেশের মানুষের আয় ও সম্পদ বাড়লেও সামর্থ্যবান বেশির ভাগ মানুষই করের আওতায় নেই। বাংলাদেশ জিডিপির তুলনায় কর অনুপাত মাত্র ৯ শতাংশ। এটি বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম।

কর ফাঁকি দেওয়া ও কর মওকুফ সুবিধা বেশি থাকার কারণে বাংলাদেশ রাজস্ব আদায় জিডিপির তুলনায় অনেক কম। এ জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল অব্যাহতি কমিয়ে রাজস্ব আদায় আরও বাড়াতে বলেছে। কাঙ্ক্ষিত কর আদায় না বাড়ালে সংস্থাটি বাংলাদেশকে ৪৭০ কোটি ডলার দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার পুরো অর্থ ছাড় না-ও হতে পারে। এ জন্য আইএমএফের শর্ত পালনে কর অব্যাহতির তালিকা ছোট করার কাজ শুরু করেছে এনবিআর।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়