Saturday, June 27, 2026
spot_img
Homeসংবাদজাতীয়শতাধিক আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীরা ‘চিন্তামুক্ত’

শতাধিক আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীরা ‘চিন্তামুক্ত’

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও সুষ্ঠু করতে চায় আওয়ামী লীগ। দলীয় প্রধানের সবুজ সংকেতে নৌকার বিপরীতে আওয়ামী লীগের নেতারা স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। তবে বেশ কিছু আসনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত দলটির হেভিওয়েট প্রার্থীরা। এই তালিকায় দলের প্রথম শ্রেণির নেতা ও মন্ত্রী রয়েছেন। আর যেসব আসনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে- তাদের মধ্যে নৌকা বনাম আওয়ামী লীগের (নেতা) স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচনি লড়াই জমে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপিবিহীন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ ২৮টি দল অংশ নিচ্ছে। নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দেখাতে ৩০০টি আসনের মধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ আসনে দলীয় নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে রয়েছেন। অন্য ছোট দলের নেতারাও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থীকে স্থানীয় ভোটাররা চিনেনই না। অথবা স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে আগে থেকে এসব প্রার্থীর যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে ছিল না। তারা নির্বাচনের মাঠে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছাতেও পারেননি। আর যেসব আসনে আওয়ামী লীগের নেতারা স্বতন্ত্র হয়ে নৌকার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সেসব আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে। এর মধ্যেও ৯৭টি আসনে নৌকার প্রার্থীর বিপরীতে দলের উচ্চপর্যায়ের কোনো নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াননি, এসব আসনে নৌকার প্রার্থীরা ঝুঁকিমুক্ত রয়েছেন।

তবে ঝুঁকিমুক্ত হলেও নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন নৌকার মনোনীত প্রার্থীরা। দিন-রাত এক করে ভোটারদের ঘরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। বিশেষ করে বেশি ভোটার উপস্থিতি দেখাতে ভোট কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন প্রার্থীরা। নেতা-কর্মীদেরও সেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছেন দলের হেভিওয়েট থেকে তৃণমূলের প্রার্থীরা।

রাজধানীসহ সারা নৌকার মনোনীত প্রার্থীদের আসনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোপালগঞ্জ-২ আসনে নৌকার প্রার্থী শেখ ফজলুল করিম সেলিমের আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী হেভিওয়েট প্রার্থী নেই।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নোয়াখালী-৫ আসনে ৫ জন প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন। তবে হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় তিনিও ঝুঁকিমুক্ত আছেন। বাকি ৫টি আসনের মধ্যে ২টি ঝুঁকিমুক্ত। আসন দুটি হলো নোয়াখালী-১ এইচ এস ইব্রাহিম, নোয়াখালী-৬ মোহাম্মদ আলী।

রাজধানীর ৪টি আসন ছাড়া বাকিগুলোতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নৌকার প্রার্থীরা ঝুঁকিমুক্ত আছেন। আসনগুলো হচ্ছে- ঢাকা-৬ মোহাম্মদ সাইদ খোকন, ঢাকা-৭ মোহাম্মদ সোলায়মান সেলিম, ঢাকা-৮ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা-৯ সাবের হোসেন চৌধুরী, ঢাকা-১০ ফেরদৌস আহমেদ, ঢাকা-১১ মোহাম্মদ ওয়াকিল উদ্দিন, ঢাকা-১২ আসাদুজ্জামান খান, ঢাকা-১৩ জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা-১৫ কামাল আহমেদ মজুমদার, ঢাকা-১৬ মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, ঢাকা-১৭ মোহাম্মদ আলী আরাফাত। রাজধানীর বাইরে ঢাকা-২ মো. কামরুল ইসলাম, ঢাকা-৩ নসরুল হামিদ, ঢাকা-২০ বেনজীর আহমদ ঝুঁকিমুক্ত।

যশোরের ৬টি আসনের মধ্যে শুধুমাত্র যশোর-৪ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এনামুল হক বাবুলের (নৌকা) বিজয় প্রায় নিশ্চিত। স্থানীয়দের মতে, বাকি প্রার্থীরা নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে ধোপে টিকবে না।

উত্তরবঙ্গে নৌকার প্রার্থীদের সঙ্গে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে। তবে বেশ কিছু আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় অনেকটাই ঝুঁকিমুক্ত নৌকার মনোনীত প্রার্থীরা। তারা হচ্ছেন, পঞ্চগড়-২ নুরুল ইসলাম সুজন, দিনাজপুর-২ খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর-৫ মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, রংপুর-৬ শিরীন শারমিন চৌধুরী, জয়পুরহাট-২ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।

রাজশাহী বিভাগের মধ্যে ঝুঁকিমুক্ত আসনগুলো হচ্ছে- বগুড়া-৫ মো. মজিবর রহমান (মজনু), চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ মো. আব্দুল ওদুদ, নওগাঁ-১ সাধন চন্দ্র মজুমদার, রাজশাহী-৩ মোহা. আসাদুজ্জামান আসাদ, সিরাজগঞ্জ-১ তানভীর শাকিল জয়, সিরাজগঞ্জ-২ মোছা. জান্নাত আরা হেনরী, সিরাজগঞ্জ-৪ মো. শফিকুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ-৬ চয়ন ইসলাম। পাবনা-৪ গালিবুর রহমান শরীফ, পাবনা-৫ গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স। নওগাঁ-২ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় এ আসনে ভোট স্থগিত করা হয়েছে।

খুলনা বিভাগের মধ্যে নৌকার প্রার্থীর ঝুঁকিমুক্ত আসনগুলো হচ্ছে- যশোর-৪ এনামুল হক বাবুল, মাগুরা-১ সাকিব আল হাসান, মাগুরা-২ শ্রী বীরেন শিকদার, নড়াইল-১বি, এম কবিরুল হক, বাগেরহাট-১ শেখ হেলাল উদ্দীন, বাগেরহাট-২ শেখ তন্ময়, বাগেরহাট-৪ এইচ, এম, বদিউজ্জামান সোহাগ।

খুলনা-১ ননী গোপাল মণ্ডল, খুলনা-২ সেখ সালাহউদ্দিন, খুলনা-৩ এস এম কামাল হোসেন, সাতক্ষীরা-৩ আ ফ ম রুহুল হক।

বরিশাল বিভাগের মধ্যে অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত আসনগুলো হচ্ছে- বরগুনা-১ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, পটুয়াখালী-২ আ স ম ফিরোজ। ভোলা-১ তোফায়েল আহমেদ, ভোলা-২ আলী আজম, ভোলা-৩ নুরন্নবী চৌধুরী, ভোলা-৪ আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। বরিশাল-১ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্।

ঝালকাঠি-১ আসনে নৌকার প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে বিএনপি থেকে আসা শাহজাহান ওমর আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়ে অনেকটাই জয়ের পথে। ঝালকাঠি-২ আসনে বর্ষীয়ান নেতা আমির হোসেন আমুর প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ নেই।

ঢাকা বিভাগের ঝুঁকিমুক্ত আসনগুলো হচ্ছে- টাঙ্গাইল-১ মো. আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-৬ আহসানুল ইসলাম (টিটু)। জামালপুর-১ নূর মোহাম্মদ, জামালপুর-৩ মির্জা আজম। শেরপুর-২ মতিয়া চৌধুরী, নরসিংদী-২ আনোয়ারুল আশরাফ খান।

দুটি আসনে নৌকার প্রার্থী ঝুঁকিমুক্ত। ময়মনসিংহ-২ শরীফ আহমেদ, ময়মনসিংহ-৬ মো. মোসলেম উদ্দিন। কিশোরগঞ্জ দুইটি আসনে নৌকার মনোনীত প্রার্থী অনেকটা জয়ের পথে। তারা হচ্ছেন- কিশোরগঞ্জ-২ আসনের আবদুল কাহার আকন্দ, কিশোরগঞ্জ-৬ নাজমুল হাসান। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে জাহিদ মালেক ঝুঁকিমুক্ত রয়েছেন। মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে সাগুফতা ইয়াসমিনের শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে মো. নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমান জয়ের পথে রয়েছেন। রাজবাড়ী-১ আসনে কাজী কেরামত আলী ও রাজবাড়ী-২ আসনে মো. জিল্লুল হাকিমও জয়ের পথে রয়েছেন। এই দুই আসনে নৌকার বিপরীতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।

মাদারীপুর-১ আসনে নূর-ই-আলম চৌধুরী ও মাদারীপুর-২ শাজাহান খানের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। আওয়ামী লীগের এই হেভিওয়েট দুই নেতাই জয়ের পথে। একই চিত্র শরীয়তপুর-১ মো. ইকবাল হোসেন, শরীয়তপুর-৩ নাহিম রাজ্জাক আসনেও।

সিলেট বিভাগে মন্ত্রীসহ দলের যেসব নেতারা ঝুঁকিমুক্ত রয়েছেন, তারা হচ্ছেন- সুনামগঞ্জ-৩ এম এ মান্নান, সিলেট-১ এ কে আব্দুল মোমেন, সিলেট-৪ ইমরান আহমদ, মৌলভীবাজার-১ মো. শাহাব উদ্দিন, মৌলভীবাজার-৩ মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, মৌলভীবাজার-৪ মো. আব্দুস শহীদ, হবিগঞ্জ-৩ মো. আবু জাহির।

চট্টগ্রাম বিভাগে নৌকার প্রার্থীর ঝুঁকিমুক্ত আসনগুলো হচ্ছে- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আনিসুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম। কুমিল্লা-৭ প্রাণ গোপাল দত্ত। কুমিল্লা-৮ আবু জাফর মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, কুমিল্লা-৯ মো. তাজুল ইসলাম, কুমিল্লা-১০ আ হ ম মুস্তফা কামাল। চাঁদপুর-২ মোফাজ্জল হোসাইন চৌধুরী। ফেনী-১ আলাউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, ফেনী-২ নিজাম উদ্দিন হাজারী। নোয়াখালী-১ এইচ এম ইব্রাহিম, নোয়াখালী-৫ ওবায়দুল কাদের, নোয়াখালী-৬ মোহাম্মদ আলী। লক্ষ্মীপুর-২ নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন।

চট্টগ্রামে ঝুঁকিমুক্ত আসনগুলো হচ্ছে, চট্টগ্রাম-৬ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৯ মহিবুল হাসান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৩ সাইফুজ্জামান চৌধুরী। খাগড়াছড়ি- কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, রাঙ্গামাটি- দীপংকর তালুকদার, বান্দরবান- বীর বাহাদুর উ শৈ সিং। খবর সূত্র খবরের কাগজ।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়