প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
চট্টগ্রামে গ্যাস নেই। আমদানিকৃত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় দুই মাস ধরে চলছে এই একটানা সংকট। বেশিরভাগ এলাকাতেই ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাস থাকছে না। ফলে নাগরিকরা সময়মতো রান্না করতে পারছেন না। গ্যাস সংকটের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষজন রান্না করতে না পারায় না-খেয়ে দিন-রাত কাটাচ্ছেন। খাবারের দোকানগুলো সকাল থেকে লাইন পড়ে গেছে খাবারের জন্য।
চট্টগ্রামের কাফকো, সিইউএফএল, শিকলবাহা বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ গ্যাসনির্ভর সব শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাস নেই ৬৮টি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনসহ কয়েক হাজার বাণিজ্যিক এবং ৬ লাখেরও বেশি আবাসিক গ্রাহকের সংযোগে।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের কর্মকর্তারা বলেছেন, এলএনজি টার্মিনালের সাথে পাইপ লাইনের সংযোগ দেয়ার চেষ্টা চলছে। তবে এতে কতক্ষন সময় লাগবে তা নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না।
জানা গেছে, সংস্কার কাজ শেষ করে সিংগাপুর থেকে আনা এলএনজিবাহী জাহাজ (টার্মিনাল) মহেশখালীতে সাগরের তলদেশে পাইপ লাইনে সংযোগ দেয়ার সময় গতকাল বিপর্যয় ঘটে। জাহাজের সাথে পাইপের সংযোগ দেয়া সম্ভব না হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
চট্টগ্রাম পর্যন্ত ৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপ লাইনের গ্যাস দিয়ে কয়েক ঘন্টা চললেও ভোররাত থেকে পুরো চট্টগ্রামে গ্যাস প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।
চট্টগ্রামে আগে সিলেট এবং কুমিল্লা অঞ্চলের গ্যাস আনা হতো বিদ্যমান আশুগঞ্জ বাখরাবাদ পাইপ লাইন দিয়ে। এলএনজি আমদানি শুরু করার পর আশুগঞ্জ বাখরাবাদ পাইপ লাইনকে বাল্ব লাগিয়ে ওয়ান ওয়ে করে ফেলা হয়। এতে চট্টগ্রামের দিক থেকে গ্যাস শুধু নেয়া যায়, চট্টগ্রামে আনা যায় না।
গ্যাসের চাপ কম থাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দেখা যাচ্ছে গাড়ির দীর্ঘ সারি। কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিতে হচ্ছে চালকদের।


