Sunday, July 12, 2026
spot_img
Homeএই মুহুর্তেশেষ মুহূর্তের গোলে স্পেনকে সেমিফাইনালে নিয়ে গেলেন ‘জাদুকর’ মেরিনো

শেষ মুহূর্তের গোলে স্পেনকে সেমিফাইনালে নিয়ে গেলেন ‘জাদুকর’ মেরিনো

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

আরও একবার ফিরে এল মিকেল মেরিনোর জাদুকরী মুহূর্ত। দলকে সেমিফাইনালের পথে তুলে দিয়ে কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে তার উদযাপনের সঙ্গী হলো সারা দেশ।

দু-বছর আগে স্পেনকে ইউরো কাপের সেমিফাইনালে এবং চার দিন আগে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তোলার পথেও এভাবে শেষ মুহূর্তে গোল করেছিলেন মিলেনো। তবে এবারের তৃপ্তি আরও বেশি, কারণ গ্যালারিতে উপস্থিত ছিল তার দুই মাসের ছেলে মার্কো, যাকে এখনও ঠিকমতো সুযোগই পাননি তিনি। ‘কোয়ার্টার ফাইনালে ও মাঠে ছিল না। তাই সেমিফাইনালেও আমাকে একই কাজ করতে হতো, যাতে ও এই অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকতে পারে,’ বললেন মেরিনো।

ঘটনাটা রূপকথার গল্পের মতো! মেরিনো যা করলেন, তা যুক্তির অতীত। এমন ঘটনা একবার ঘটলে তা নাটকীয় শোনায়। দুবার ঘটলে ঘোর তৈরি হয়। আর পরপর তিনবার ঘটলে তা বিস্ময়ের চরম সীমায় পৌঁছে দেয়।

খেলার ফল তখন ১-১। দ্রুত সময় ফুরিয়ে আসছে, জয়সূচক গোলের সন্ধানে মরিয়া হয়ে উঠেছে স্পেন। সেই মুহূর্তেই আবারও বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হল মেরিনোকে।

খেলা শেষ হতে তখন পাঁচ মিনিটেরও কম সময় বাকি। কিন্তু মেরিনোর ততটা সময়ও লাগল না—জয়সূচক গোলটি করে ফেললেন।

‘অবিশ্বাস্য’ শব্দটাই সম্ভবত এর জন্য সবচেয়ে মানানসই। মেরিনো যখন মাঠে নামলেন, তখন খেলার ৮৫ মিনিট ৩২ সেকেন্ড। পাউ কুবারসি যখন শট নিচ্ছেন, তখন সময় ৮৭ মিনিট ২৭ সেকেন্ড। চোট পাওয়া থিবো কোর্তোয়ার বদলে নামা বেলজিয়ামের বদলি গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স বলের নিয়ন্ত্রণ হারান। আর সেই সুযোগে ফিরতি বল জালে জড়িয়ে দেন মেরিনো।

মাঠে নামার পর দু-মিনিটেরও কম সময় এবং একটি মাত্র টাচ! জার্মানির বিরুদ্ধে ১১৯ মিনিট ও পর্তুগালের বিরুদ্ধে ৯১ মিনিটে করা গোলের পর এবার ৮৮ মিনিটে গোল করে নিজেকে সেরা ‘সুপারসাব’ হিসেবে প্রমাণ করলেন তিনি।

বাবা অ্যাঞ্জেলের প্রতি সম্মান জানিয়ে মেরিনো যখন তার পরিচিত উদযাপনে মাতলেন, তখন বেঞ্চে বসে হতাশায় মুষড়ে পড়া কোর্তোয়া কেবল চেয়ে চেয়ে দেখলেন। তিনি মাঠে থাকলে হয়তো গোলটি আটকাতে পারতেন, বেলজিয়ামের প্রতিরোধ আরও কিছুটা দীর্ঘায়িত করতে পারতেন।

বেলজিয়ামের কাছে বিষয়টা নিষ্ঠুর মনে হলেও স্পেন মনে করবে সুবিচারই হয়েছে। গোটা ম্যাচে তারা যেভাবে দাপট দেখিয়েছে এবং পরপর দুই ম্যাচে যেভাবে নাটকীয় জয় পেয়েছে, তাতে তাদের মনে হতেই পারে—নিয়তিই হয়তো তাদের ডাক দিচ্ছে।

প্রথম পরিবর্তন ছিল পেদ্রির জায়গায় ফাবিয়ান রুইজকে নামানো। ১০ মিনিটের মাথায় রদ্রিকে পাস বাড়িয়ে পিএসজি-র এই মিডফিল্ডার যে কেবল প্রথম সত্যিকারের সুযোগটি তৈরি করলেন তা-ই নয়, ২০ মিনিট পরে এমন একটি গোলও করলেন যা দেখে মনে হচ্ছিল স্পেনের জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা।

লামিনে ইয়ামালের নিখুঁত টাইমিং আর মাপে মাপে ফেলা একটি বল ধরে পেদ্রো পোরো দ্রুতগতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন। সেখান থেকে তিনি বল বাড়ান দানি ওলমোকে। ওলমোর প্রথম শট কোর্তোয়া আটকে দিলেও ফিরতি বলে গোল করতে ভুল করেননি রুইজ।

বেশ কিছুক্ষণ ধরেই খেলায় দাপট দেখাচ্ছিল স্পেন। এরপর তারা যে লিড পেল, সেটি হাতছাড়া হওয়ার কথা ভাবা কঠিন ছিল। কুবারসির একটি চমৎকার বল প্রায় গোলরক্ষকের সঙ্গে ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছিল অ্যালেক্স বায়েনাকে। মিকেল ওয়ারজাবাল ব্যাকহিলে ওলমোকে বল বাড়াতে গেলে বক্সের ঠিক বাইরে একটি অসাধারণ ওয়ান-টাচ মুভমেন্ট নষ্ট হয়। ইয়ামাল একটি অনবদ্য টাচে জেরেমি ডোকুকে কাটিয়ে শট মারলেও তা গিয়ে লাগে সাইড-নেটে। সত্যি বলতে, তখন স্পেনকে বেশ স্বচ্ছন্দ দেখাচ্ছিল।

ছবি: রয়টার্স
কিন্তু আচমকাই ছবিটা বদলে যায়। ষষ্ঠ ম্যাচের ৪০ মিনিট ১২ সেকেন্ডের মাথায় চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম গোলটি হজম করে স্পেন। হেডে গোল করে বেলজিয়ামকে সমতায় ফেরান চার্লস ডে কেটেলারে।

বেলজিয়ামের অন্য আক্রমণগুলোর মতোই এই মুভমেন্টও শুরু হয়েছিল ডোকুর দৌড় থেকে। আর শেষ হয় কেভিন ডে ব্রুইনের অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধিতে। তার দ্রুত ও নিখুঁত ফার্স্ট-টাইম পাসে বল পেয়ে টিমোথি কাস্তানে চমৎকার ক্রস বাড়ান। কুবারসিকে পেছনে ফেলে গোলটি করেন ডে কেটেলারে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কুবারসির আরও একটি দারুণ পাস থেকে বল পান ইয়ামাল। যদিও তার শট আটকে দেন কোর্তোয়া। অফসাইডের গ্ল্যাগ উঠলেও স্পেনের আক্রমণের সুরটি বাঁধা হয়ে গিয়েছিল। ইয়ামালের একটি নিচু শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। এরপর এই তরুণ ফরোয়ার্ডের একটি বাঁকানো শট ও ওয়ারজাবালের একটি আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া।

ছবি: রয়টার্স
তবে অন্য প্রান্তেও বিপদের আভাস ছিল। ডোকু আর ডে ব্রুইন মিলে আক্রমণ শানান। ফাঁকায় বল পেয়ে ম্যাক্সিম ডে কুইপার জোরালো শট মারলেও তা সাইড-নেটে লাগে।

বেলজিয়াম মরিয়া হয়ে লড়াই করলেও তাদের রক্ষণে ফাটল দেখা যাচ্ছিল। ক্রমশ শক্তি হারাচ্ছিল তারা। খেলা শুরুর ঠিক আগেই প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়েছিলেন ইউরি তিলেমানস।

এরপর বিরতির ঠিক পরেই থাইয়ে চোট পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন কোর্তোয়া। শেষ পর্যন্ত ডে ব্রুইনকেও মাঠ ছাড়তে হয়।

ছবি: রয়টার্স
স্পেনের সামনে থেকে বড় কাঁটা সরে গেলেও গোলের মুখ খুলতে পারছিল না তারা। অজস্র পাস আদানপ্রদান হলেও শেষ মুহূর্তে গিয়ে তা আটকে যাচ্ছিল। রক্ষণাত্মক হয়ে প্রতিরোধ গড়ছিল বেলজিয়াম।

প্রশ্ন ছিল, তারা আর কত ক্ষণ এই চাপ সামলাতে পারবে? মিকেল মেরিনো মাঠে নামার পর উত্তরটা মিলল: খুব বেশিক্ষণ নয়। মাত্র এক মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের মধ্যেই মেরিনো আরও একটি অবিশ্বাস্য অধ্যায় লিখে ফেললেন। আর স্পেন পৌঁছে গেল সেমিফাইনালে।

১৬ বছর পর আরও সেমিফাইনালের টিকিট পাওয়া স্পেনের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। মঙ্গলবার রাতে ডালাসে হবে ম্যাচটি।

Related Topics

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়