প্রাইম ভিশন ডেস্ক
রাজনৈতিক কারণে দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে আছেন সাকিব আল হাসান। মাঝেমধ্যে তাকে জাতীয় দলে ফেরানোর কথা উঠলেও সেটা আর এগোয়নি। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) জাফনা কিংসের হয়ে খেলার ফাঁকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘রেভস্পোর্টস’-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসান কথা বলেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট এবং নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে।
প্রশ্ন: আপনি এবং আপনার পরিবার কি বাংলাদেশ মিস করেন? অদূর ভবিষ্যতে দেশে ফিরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি?
সাকিব আল হাসান: হ্যাঁ, অবশ্যই। আমরা সবাই বাংলাদেশকে মিস করি। দেশে ফেরার বিষয়ে আমি খুবই আশাবাদী এবং আশা করি খুব শীঘ্রই তা সম্ভব হবে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের ক্রিকেটে পেসারদের উত্থান কি দারুণ এক ইতিবাচক দিক?
সাকিব আল হাসান: আমি মনে করি এটি আমাদের ক্রিকেটের জন্য দারুণ এক সম্ভাবনা, কারণ পেসাররা খুব ভালো করছে। তবে ব্যাটিং এবং স্পিন বোলিংয়ের মতো অন্য বিভাগগুলোতে আমরা পিছিয়ে পড়তে পারি না। এগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পেসাররা ভালো করছে এটা যেমন ঠিক, তেমনি আমাদের ব্যাটার ও স্পিনাররাও যদি তাদের খেলা উন্নত করে, তবে দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
প্রশ্ন: নাহিদ রানার অনুপস্থিতি বাংলাদেশ দলের জন্য কত বড় ধাক্ক?
সাকিব আল হাসান: বাংলাদেশের জন্য এই টেস্ট সিরিজে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে বড় ধাক্কা। এমনকী অস্ট্রেলিয়ানরাও তাদের মাটিতে নাহিদের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। তারা এই চ্যালেঞ্জ আনন্দের সঙ্গেই গ্রহণ করত। তাই তার না থাকাটা বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট ক্ষতি।
প্রশ্ন: ১৭ বছর পর লর্ডসে টেস্ট খেলার সুযোগ পাওয়াকে কীভাবে দেখছেন?
সাকিব আল হাসান: লর্ডসের মতো ভেন্যুতে আমরা যত বেশি খেলব, তা আমাদের ক্রিকেটের জন্য ততই ভালো। আমি আশা করি ভবিষ্যতে আমরা এ ধরনের আরও সুযোগ পাব।
প্রশ্ন: আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) হয়ে আপনার দারুণ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই টুর্নামেন্টকে কি মিস করেন?
সাকিব আল হাসান: আইপিএলে না থাকাটা অবশ্যই মিস করি। তবে সবকিছুরই একটা সময় থাকে। ভুল যদি না করি… তবে আমি আট মৌসুম খেলেছি। ব্যক্তিগত কারণ ও এনওসি সমস্যার কারণে আরও দুই মৌসুম হয়তো খেলতে পারতাম। তাহলে প্রায় ১০ মৌসুম খেলা হতো। খুব কম খেলোয়াড়ই আইপিএলে ৮ থেকে ১০ মৌসুম খেলার সুযোগ পায়। তাই আমি যা অর্জন করেছি তা নিয়ে খুবই খুশি। সুযোগ পেলে আমি এখনও ম্যাচগুলো দেখি।
প্রশ্ন: আসন্ন ভারত সফরে বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মাকে নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
সাকিব আল হাসান: তারা ভারতীয় ক্রিকেটের দূত। তাদের অর্জনের কারণেই মানুষ তাদের অনুসরণ করে। তারা ভারতীয় ক্রিকেটে অসাধারণ অবদান রেখেছে এবং এখনও ভালো করে চলেছে, বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে। তাদের দুজনেই যদি ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলে, তবে ভারতের জেতার খুব ভালো সুযোগ থাকবে।
প্রশ্ন: বয়সের কারণে যারা বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাদের উদ্দেশ্যে আপনার কী বলার আছে? পারফরম্যান্স কি একমাত্র মাপকাঠি হওয়া উচিত?
সাকিব আল হাসান: এটাই আমি বিশ্বাস করি। পারফরম্যান্সই একমাত্র মাপকাঠি হওয়া উচিত।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলা কি মিস করেন? দেশে একটি বিদায়ী ম্যাচ খেলার ইচ্ছার কথাও আপনি প্রকাশ করেছিলেন।
সাকিব আল হাসান: বাংলাদেশের হয়ে খেলাটা আমি সেভাবে মিস করি না, কারণ আমি অনেক বছর খেলেছি। আপনি যখন এত দীর্ঘ সময় দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, তখন ৬০ বছর বয়সেও সেই স্মৃতিগুলো আপনার মনে থাকবে। তবে তার মানে এই নয় যে আপনি চিরকাল খেলে যেতে পারবেন। আমার একটি লম্বা ক্যারিয়ার ছিল, তাই খেলাটাকে আমি অত মিস করি না। তবুও, আরও কিছুদিন খেলতে পারলে ভালো লাগত।
প্রশ্ন: লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?
সাকিব আল হাসান: সত্যি বলতে, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট খেলার জন্য একটি চমৎকার জায়গা। কারণ এখানকার সবাই খেলাটিকে ভালোবাসে। সে কারণেই ক্রিকেট উপভোগ করার জন্য এটি একটি দুর্দান্ত জায়গা। জাফনা কিংসের অংশ হতে পেরে আমি খুব খুশি। এখন পর্যন্ত আমরা ভালো করছি এবং টুর্নামেন্টটিও সুন্দরভাবে এগোচ্ছে। দুই বছর বিরতির পর এটি ফেরায় ছোটখাটো কিছু সমস্যা হয়েছে, তবে ধারা অব্যাহত থাকলে এটি আরও বাড়বে। মাত্র পাঁচটি দল থাকায় এখানে প্রতিযোগিতাও অত্যন্ত তীব্র।
প্রশ্ন: যেসব বাংলাদেশি ভক্ত আপনাকে ভালোবাসে এবং শ্রদ্ধা করে, তাদের জন্য আপনার বার্তা কী?
সাকিব আল হাসান: আমি জানি, যেকোনো পরিস্থিতিতেই তারা আমাকে সমর্থন করে যাবেন।


