প্রাইম ভিশন ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে করা আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমীনের করা আবেদনের ওপর এ আদেশ দেন।
ফলে সংসদ সদস্য হিসেবে সরোয়ার আলমগীর কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।
আদালতে সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমীনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
এর আগে ৯ জুলাই বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। ওই দিনই শপথ নেন সরোয়ার আলমগীর।
পরে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন নুরুল আমীন।
সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বৈধ হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমীন।
শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করে। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর।
গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ স্থগিত করেন। একই সঙ্গে তাঁকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়ে রুল জারি করা হয়। এর বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমীন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন।
ফলে সরোয়ার আলমগীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত থাকবে এবং ফলাফল প্রকাশ করা হবে না বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর বিজয়ী হন। কিন্তু আদালতের আদেশের কারণে ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। পরে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমীনের করা আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ আদেশ দেন। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া ওই আদেশে সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
একইসঙ্গে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ বহাল থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়।


