প্রাইম ভিশন ডেস্ক
ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে লিওনেল মেসিকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। শুধু মেসি নয়, ওই সময় আর্জেন্টিনা দলসহ বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়, ফিফার কর্মকর্তা, রেফারি ও পুলিশ সদস্যদেরও হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীকে একাধিক হুমকিমূলক ই-মেইল ও বার্তা দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের একটি গোপন প্রতিবেদনের কিছু অংশ ফাঁস হয়েছে। স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘ইনফরমেসিয়ন.ইএস’ ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে বিশ্বকাপজুড়ে সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কা এবং বিভিন্ন হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে আর্জেন্টিনা দলসহ কয়েকটি দলের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া পুলিশের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী সবচেয়ে বড় হামলার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচকে ঘিরে। এক ব্যক্তি ফোন করে হুমকি দিয়ে দাবি করেন, তিনি ও আরও দুজন ঘরে তৈরি বোমা এবং এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করবেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল মেসিসহ আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা। পাশাপাশি জর্ডান দলের সদস্য এবং পুলিশকেও হামলার হুমকি দেওয়া হয়। তবে মেসিকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ ঘিরেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যক্তি দাবি করেন, শরীরে চারটি বোমা বেঁধে তিনি আটলান্টার স্টেডিয়ামে প্রবেশ করবেন এবং বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মেসিকে হত্যা করবেন। একই দিন অজ্ঞাতপরিচয় আরেক ব্যক্তি পুলিশকে ফোন করে দাবি করেন, স্টেডিয়ামের ভেতরে তিনটি ময়লার স্থানে বোমা রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনী কোনো হুমতিকেই হালকাভাবে নেয়নি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ ও এফবিআইকে তদন্তে যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কো-অপারেশনের (আইপিসিসি) সহায়তাও নেওয়া হয়। ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ হুমকিই ছিল মেসিকে কেন্দ্র করে। তবে আর্জেন্টিনা দল, অন্যান্য দলের খেলোয়াড়, ফিফা কর্মকর্তা, রেফারি ও পুলিশ সদস্যদেরও হুমকির তালিকায় রাখা হয়েছিল।
মেসির পাশাপাশি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছিল। ফিফার এক কর্মী জানান, সন্দেহজনক এক ব্যক্তি রোনাল্ডো কখন, কোথায় থাকবেন—এমন তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। যদিও ওই ব্যক্তি সরাসরি কোনো হুমকি দেননি, বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়।
বিশ্বকাপের বিভিন্ন ভেন্যুতে রোনাল্ডোর কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করা কয়েকজনকেও নিরাপত্তার কারণে দূরে রাখা হয়। হিউস্টন, টরন্টো ও মায়ামিতে এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি এক পর্যায়ে সন্দেহজনক এক ব্যক্তি পর্তুগাল দলের হোটেলেও ঢুকে পড়েন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ঘটনাটি কোথায় ঘটেছিল, তা ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
বিশ্বকাপ চলাকালে ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছিল। একাধিকবার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তাঁর কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ পরিচালনাকারী ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেক্সিয়ঁর কাছে হোয়াটসঅ্যাপে ছয় হাজারের বেশি হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়েছিল। ওই ম্যাচের ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজন রেফারি ও কর্মকর্তাও হুমকিমূলক ই-মেইল ও বার্তা পেয়েছিলেন বলে ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।


