প্রাইম ভিশন ডেস্ক
বিগত আড়াই বছরে উত্তর চট্টগ্রামের রাউজান রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িতে ৫০টির বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে আধিপত্য বিস্তার, বালুমহাল, মাটি কাটার নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এসব খুনের ঘটনা ঘটেছে। কোন মতেই থামানো যাচ্ছে না খুনের ঘটনা।
এ অবস্থায় তিন থানায় চারটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। যেখানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) সদস্যরা নিয়োজিত থাকবে। অপরাধী শনাক্তে এসব ক্যাম্পে থাকবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন ফেস ডিটেক্টর ক্যামেরা, ব্যবহার করা হবে থার্মাল ড্রোন।
এদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী এলাকার আইনশ্ঙ্খৃলার স্বার্থে রাজানগরের ঠান্ডাছড়ি ও পদুয়ার দ্বারিকোপে দুটি পুলিশ ক্যাম্পের কথা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠিও দিয়েছেন।
এপিবিএন ক্যাম্প স্থাপনের উদ্দেশ্যে হচ্ছে, এলাকাগুলোতে সন্ত্রাসীরা পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় ভারী অস্ত্র যেমন রিভলবার, রাইফেল, এসএমজি, একে-৪৭ রাইফেলের মতো অস্ত্র বহন করে। এপিবিএন সদস্যদের ভারী অস্ত্র বহন ও চালানোর সক্ষমতা রয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নাজিমুল হক জানান, গত দুই তিনমাস আগে তিনদিনের ব্যবধানে রাউজানে দুটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়। যা এখনো চলামান রয়েছে। পরবর্তীতে সেখানে আর কোন গুলি কিংবা খুনের ঘটনা ঘটেনি।
তিনি বলেন, অতীতে জঙ্গল সলিমপুর পুলিশ যেভাবে নিয়ন্ত্রণে এনেছে, ঠিক একইভাবে উত্তর চট্টগ্রামের এ তিন উপজেলাকে অপরাধমুক্ত করার প্রক্রিয়া এগুচ্ছে। এডিশনাল ডিআইজি নাজিমুল বলেন, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িতে চারটি ক্যাম্প বসানোর প্রস্তাবনা জানিয়ে ইতিমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ক্যাম্পগুলোতে মাইন ডিটেক্টর মেশিন, অত্যাধুনিক এআই বেইস ফেস ডিটেক্টর ক্যামেরা ও থার্মাল ড্রোনের ব্যবস্থা থাকবে।
থার্মাল ড্রোন হচ্ছে চোখের আলো দিয়ে নয়, বরং মানুষের শরীরের ‘‘গরম বা তাপ’’ দেখে অন্ধকারেও নিখুঁতভাবে মানুষ খুঁজে বের করে। আশা করছি এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন হলে সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রবেশ করলেই জানা ও শনাক্ত করা সহজ হবে।
ক্যাম্প থাকলে তিন থানার সকল বাহির ও প্রবেশমুখে ২৪ ঘণ্টা চেকপোস্ট থাকবে, এআই ক্যামেরার কারণে মানুষের ছবি রেকর্ড থাকবে, যেসব যানবাহন প্রবেশ করবে সবগুলো ট্র্যাকিংয়ের আওতায় থাকবে। তাছাড়া থার্মাল ড্রোনের সাহায্যে যে কোন বিস্ফোরক এলাকায় প্রবেশ করলেই বহনকারীকে চিহ্নিত করা যাবে। তিন উপজেলায় ক্যাম্প স্থাপনের ব্যাপারে চলতি বছরের গত ৭ জুলাই পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয় চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে। চিঠিতে বলা হয়েছে, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি উপজেলার ভৌগলিক অবস্থান, বিস্তীর্ণ পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকা।
অপরিবর্ধিত আন্তঃজেলা যোগাযোগ ব্যবস্থায় উপজেলাগুলোতে প্রায় সময় নানা ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চল সংলগ্ন যোগাযোগ পথ ব্যবহার করে এসব এলাকা দিয়ে অস্ত্র, মাদক, বন্যপ্রাণী ও অন্যান্য অবৈধ পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। তিন উপজেলার অনেক এলাকা পাহাড়ি ও দুর্গম হওয়ায় থানা পুলিশ নিয়মিত টহল পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতা থাকে।


