প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এক্সে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা। জন্মদিনে আপনার জন্য রইল অনেক শুভকামনা। ভারতের জনগণের প্রতি আপনার নিবেদিত সেবার পথচলা সবসময় সুস্বাস্থ্য ও প্রফুল্লতার সঙ্গে অব্যাহত থাকুক।’
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পোস্টেও নরেন্দ্র মোদির ছবি-সংবলিত কার্ড প্রকাশ করে তাকে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এই পোস্ট দেওয়ার আধা ঘণ্টার মাথায় তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এক্সে তারেক রহমানের পোস্ট শেয়ার করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আপনার আন্তরিক শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আপনার সদয় কথাগুলোকে আমি গভীরভাবে মূল্যায়ন করছি।’
গতকাল ৭৬তম জন্মদিন পার করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়নের সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মেধাবীদের উৎসাহ ও সঠিক মূল্যায়ন করতে পারলে এর সুফল অবশ্যই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে। এতে দেশ ও দেশের মানুষ উপকৃত হবে। মেধাবীদের উৎসাহিত করা ও সঠিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ভালো যা কিছু অর্জন করবে, সরকার সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।’ প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ীদের এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আপনারা যে পুরস্কার জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন না। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সব মুসলমানের অর্জন।’
হাফেজদের উৎসাহিত ও সম্মান জানানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘আপনারা প্রায় সবাই উল্লেখ করেছেন যে, দীর্ঘদিন পর হাফেজদের উৎসাহিত করা হয়েছে, সম্মান জানানো হয়েছে। এটা বর্তমান সরকারের একটি নীতি, দেশের সন্তান যারা আছে, যারা দেশের ভবিষ্যৎ, তারা তাদের যোগ্যতা দিয়ে, মেধা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সেটাকে সরকার চেষ্টা করবে রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য।’
সরকার গঠনের পর থেকে মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেছেন, এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সামনে হয়তো এ ধরনের আরও প্রতিযোগিতা আসবে। ভবিষ্যতে এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারের যদি কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, আপনারা নিয়মমতো আমাদের জানাবেন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, সেই ব্যবস্থা করব।’
তারেক রহমান বললেন, ‘আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা এরকম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করুক এবং অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে তাদের নিজেদের জন্য, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য সম্মান এবং গৌরব নিয়ে আসুক।’
সরকারের জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া চেয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে চলতে চাই। সবাইকে নিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু পরিবর্তন আনতে চাই।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের বই উপহার দেন। এর আগে হাফেজরা প্রতিযোগিতায় যে সুরা তিলাওয়াত করে পুরস্কার জিতেছেন, সেই সুরার আয়াত তাদের কণ্ঠে শোনেন তিনি।
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় হন।
এ ছাড়া হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম এবং পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্লা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর, সাজেদা খাতুন উপস্থিত ছিলেন।


