Homeমুল পাতাত্বক সুন্দর রাখতে কোলাজেনে নজর দিন

ত্বক সুন্দর রাখতে কোলাজেনে নজর দিন

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

আচ্ছা, কখনো ভেবেছেন আজকাল কোলাজেন নিয়ে মেয়েরা এত ভাবছে কেন? কারণ, ত্বকের কোলাজেন কমে যাওয়া মানেই হলো অকাল বার্ধক্যের শুরু। কোলাজেন হলো একধরনের প্রোটিন, যা আমাদের ত্বকের গঠন শক্ত রাখতে, টানটান রাখতে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। সাধারণত ২৫ বছর বয়সের পর থেকেই প্রতিবছর শরীর প্রাকৃতিকভাবে কোলাজেন উৎপাদন একটু একটু করে কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত রোদ, স্ট্রেস এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণেও ত্বকে কোলাজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ত্বকে কোলাজেনের অভাব দেখা দিলে শরীর নিজেই কিছু বাহ্যিক সংকেত দিতে শুরু করে। কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে হবে ত্বকে কোলাজেনের ঘাটতি হয়েছে।

বলিরেখা ও ফাইন লাইন স্পষ্ট হয়ে ওঠে
কোলাজেন কমে যাওয়ার সবচেয়ে প্রথম এবং প্রধান লক্ষণ হলো মুখে সূক্ষ্ম রেখা এবং বলিরেখা পড়া। বিশেষ করে চোখ ও মুখের চারপাশে এবং কপালে এই রেখাগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। হাসলে বা ভ্রু কুঁচকালে যে রেখা তৈরি হয়, কোলাজেনের অভাবে তা স্থায়ী বলিরেখায় রূপ নেয়।

কোলাজেন আমাদের ত্বকের গঠন শক্ত রাখতে, টানটান রাখতে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। ছবি: পেক্সেলস
কোলাজেন আমাদের ত্বকের গঠন শক্ত রাখতে, টানটান রাখতে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। ছবি: পেক্সেলস
ত্বক ঝুলে পড়া
কোলাজেন ত্বককে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো এবং দৃঢ়তা দেয়। যখন এর উৎপাদন কমে যায়, তখন ত্বক তার ইলাস্টিসিটি বা স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে ফেলে। ফলে গাল, চোয়াল এবং চোখের নিচের ত্বক আলগা হয়ে ঝুলে পড়তে শুরু করে।

গভীর শুষ্কতা ও খসখসে ভাব
ত্বকের ভেতরে পানি বা আর্দ্রতা ধরে রাখতে কোলাজেন সাহায্য করে। শরীরে এর ঘাটতি হলে সাধারণ ময়শ্চারাইজার ব্যবহারের পরেও ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, নিস্তেজ এবং খসখসে মনে হতে পারে।

চোখ ও গাল বসে যাওয়া
কোলাজেন কমে গেলে মুখের ত্বকের নিচের চর্বির স্তরও তার গঠন ধরে রাখতে পারে না। ফলে চোখের চারপাশ ও গাল বসে যেতে শুরু করে এবং চোখের নিচে কালো দাগ বা ডার্ক সার্কেল বেশি দৃশ্যমান হয়।

হেয়ার পারফিউম ব্যবহার কতটা নিরাপদহেয়ার পারফিউম ব্যবহার কতটা নিরাপদ
নখ ও চুলের ভঙ্গুরতা
শুধু ত্বক নয়, চুল ও নখের গঠনের জন্যও কোলাজেন সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোলাজেনের অভাব হলে নখ সহজেই ভেঙে যায় বা চামড়া উঠতে শুরু করে। একই সঙ্গে চুল রুক্ষ হয়ে পড়ে এবং চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যায়।

ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া
ত্বকের যেকোনো কেটে যাওয়া বা ক্ষতস্থান দ্রুত মেরামত করতে কোলাজেন প্রোটিন সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। যদি দেখেন, ত্বকের সাধারণ কোনো দাগ বা ক্ষত সহজে সারছে না, তবে বুঝতে হবে, ভেতরে কোলাজেন তৈরির প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেছে।

যেভাবে কোলাজেনের ঘাটতি পূরণ করা যায়
ত্বকের কোলাজেন কমে গেলে শুধু কোলাজেনযুক্ত খাবার খেলেই তা সরাসরি ত্বকে গিয়ে জমা হয় না। বরং শরীর যাতে নিজে কোলাজেন তৈরি করতে পারে এবং তৈরি হওয়া কোলাজেন দ্রুত নষ্ট না হয়; সেটিই হওয়া উচিত খাবার ও জীবনযাপনের মূল লক্ষ্য।

না জেনেই কি কন্ডিশনার ব্যবহার করছেন? ভুল হলে হতে পারে চুলের ক্ষতিনা জেনেই কি কন্ডিশনার ব্যবহার করছেন? ভুল হলে হতে পারে চুলের ক্ষতি
কোলাজেন ধরে রাখতে ও তৈরিতে সহায়ক খাবার
ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার

কোলাজেন তৈরির জন্য ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ বা এনআইএইচের অফিস অব ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট বলছে, শরীরে কোলাজেন তৈরির জন্য ভিটামিন সি প্রয়োজনীয়। এ ভিটামিন সংযোজক কলা এবং ক্ষত নিরাময়ের সঙ্গেও যুক্ত। এ জন্য খেতে পারেন আমলকী, পেয়ারা, কমলা, লেবু, কাঁচা মরিচ, ক্যাপসিকাম, টমেটো, ব্রকলি।

পর্যাপ্ত প্রোটিন

কোলাজেন একটি প্রোটিন। শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিডের জোগান দিতে ডিম, মাছ, মুরগি, দুধ ও দই, ডাল, ছোলা, মসুর ডাল, সয়াবিন ইত্যাদি রাখা ভালো।

জিংক ও কপারযুক্ত খাবার

কোলাজেন সংশ্লেষণ ও টিস্যু মেরামতের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় এসব খনিজ ভূমিকা রাখে। বাদাম, বীজ, ডাল, সামুদ্রিক খাবার, পূর্ণ শস্য ও মাংস থেকে এগুলো পাওয়া যায়।

অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টসমৃদ্ধ ফল-সবজি

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ত্বকের ক্ষতি বাড়াতে পারে। তাই রঙিন ফল ও সবজি—বেরি, আঙুর, পেয়ারা, পেঁপে, গাজর, পালংশাক, টমেটো ইত্যাদি নিয়মিত খাওয়া উপকারী।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড

চর্বিযুক্ত মাছ, যেমন ইলিশ, সার্ডিন, ম্যাকারেল বা স্যামন এবং কিছু বাদাম-বীজে ওমেগা-৩ পাওয়া যায়। এগুলো ত্বকের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি

পানি সরাসরি কোলাজেন তৈরি করে না। তবে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও ত্বকের হাইড্রেশন বজায় রাখতে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। পানি শরীরের সামগ্রিক উন্নতিতে সহায়তা করে।

কোন অভ্যাসগুলো কোলাজেন রক্ষা করতে সাহায্য করবে?
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে ত্বকে অতিবেগুনি রশ্মি পড়া কোলাজেন ভাঙার অন্যতম কারণ। বাইরে গেলে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন, ছাতা, টুপি ও প্রয়োজনমতো পোশাক ব্যবহার করা ভালো।

ধূমপান এড়িয়ে চলুন। ধূমপান ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিনের ক্ষতি করতে পারে এবং ত্বকের বয়সজনিত পরিবর্তন ত্বরান্বিত করতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন। ঘুমের সময় শরীরের মেরামত ও পুনর্গঠনমূলক প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম ত্বকের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু এটি সরাসরি কোলাজেন বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত নয়।

অতিরিক্ত চিনি ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চিনি ও চিনি দিয়ে তৈরি খাবার খাওয়ার সঙ্গে গ্লাইকেশনের সম্পর্ক রয়েছে; এতে কোলাজেনের গঠন ও স্থিতিস্থাপকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

একটি সহজ দৈনিক খাদ্য-রুটিন
সকাল: ডিম+আটার রুটি/ওটস+পেয়ারা বা কমলা

দুপুর: ভাত+মাছ+ডাল+অন্তত দুই ধরনের সবজি

বিকেল: বাদাম/বীজ+একটি ফল

রাত: মাছ/মুরগি/ডাল+সবজি+পরিমিত ভাত বা রুটি

সারা দিন: পর্যাপ্ত পানি

বয়স বাড়ার সঙ্গে কোলাজেন কমা প্রাকৃতিক ব্যাপার। কোনো নির্দিষ্ট খাবার বা ঘরোয়া উপাদান দিয়ে হারানো কোলাজেন পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা যায় না। কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট নিয়েও গবেষণা আছে, কিন্তু এর উপকারিতা ব্যক্তি ও পণ্যের ধরনভেদে ভিন্ন এবং এগুলো সুষম খাদ্য, ঘুম ও সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষার বিকল্প নয়।

তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ) অফিস অব ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট, নিউট্রিয়েন্টস, ২০২৩, পিইউবিএমইডি, ২০২৫, জার্নাল অব কসমেটিক ডারমাটোলজি, ২০২৬, ফোর্টিজ, হেলথকেয়ার এবং ওয়েলবিয়িং নিউট্রিশন

ছবি: পেক্সেলস

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়