প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
প্রচলিত নিয়মে দুর্গাপূজা মূলত মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন ধরে উদযাপিত হয়। তবে পঞ্জিকার বিশেষ গণনা ও তিথির মারপ্যাঁচে এ বছর শারদীয় দুর্গাপূজা এক দিন বেড়ে চলবে ছয় দিন ধরে। মহাসপ্তমীর তিথি দুদিন পড়ায় পূজার দিনসংখ্যা বাড়ার এমন ঘটনা বিরল।
এর ওপর এবার সরকারি ছুটিও বেড়েছে এক দিন। শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আসন্ন দুর্গাপূজাকে ঘিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শুরু হয়ে গেছে উৎসবের আমেজ। সাড়ম্বরে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। সারাদেশের মণ্ডপ, মন্দিরে নির্মীয়মাণ প্রতিমায় মাটির প্রলেপের ওপর রঙের শেষ আঁচড় চলছে। প্যান্ডেল আর সাজসজ্জার কাজও এগিয়েছে অনেকটাই।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবের সূচনা ঘটবে আগামী ১৬ অক্টোবর, চলবে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। এর আগে আজ শনিবার দুর্গাদেবীর আবাহন তথা মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবীর আরাধনা।
মহালয়ার সাত দিন পর আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে সন্ধ্যায় দশভুজা দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। আর ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ছয় দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এ বছর সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। ঢাকা মহানগরীতে এবার ২৫৮টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন থাকছে, যা গতবার ছিল ২৬১টি। রাস্তার মধ্যে পূজা আয়োজনের অনুমতি না মেলায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা ৩টি কমেছে।
আজ দেবীকে মর্ত্যালোকে আমন্ত্রণ
শুভ মহালয়া আজ। দেবীর আরাধনা সূচিত হয় মহালয়া উদযাপনের মাধ্যমে। চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে মর্ত্যালোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে দেবী দুর্গাকে। মূলত দুর্গাপূজার ক্ষণ গণনাও শুরু হবে আজ থেকে।
হিন্দু ধর্মমতে, মহালয়ায় দেব-দেবীকুল দুর্গাপূজার জন্য নিজেদের জাগ্রত করেন। এদিন অতি প্রত্যুষে মন্দিরে মন্দিরে চণ্ডীপাঠের মধ্যদিয়ে দেবীকে আবাহন করা হয়। ভক্তরা গঙ্গাতীরে তাদের মৃত আত্মীয়-পরিজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার সদ্গতি প্রার্থনা করে তর্পণ করেন।
সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস সরকার ও প্রশাসনের
সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গাপূজাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়েছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও বৈঠক করে নিরাপত্তার কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। ঢাকাসহ সারাদেশে আজ ভোরে মহালয়ার অনুষ্ঠান শুরু থেকে দুর্গাপূজার ছয় দিনই কঠোর নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, সরকার, প্রশাসন এবং দেশবাসীর সহযোগিতায় একটি শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা শেষ করতে পারব।


