প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মনোনয়ন পেলেন যারা । রবিবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম ১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংসদে বসেছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তবে এবার সেখানে মনোনয়ন পেয়েছেন তার ছেলে মাহবুবুর রহমান।
ফটিকছড়িতে খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। উপজেলা সন্দ্বীপের বর্তমান সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা। ২০০৯ সালে মনোনয়ন না পেলেও পরের দুই সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। এবারও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মিতা।
সীতাকুণ্ডে রাজনৈতিক কারণে শক্ত বলয় ছিল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন। তিনি আসনটিতে মনোনয়ন বাগিয়ে নিলেন।
হাটহাজারীতে এবারও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালামকে। তবে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে জোটের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত।
ফজলে করিমের হাতেই রাউজানের নৌকার বৈঠা
টানা চারবারের সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী। রেলপথ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিসহ সরকারি নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সব বাধা ডিঙিয়ে টিকিট উঠেছে ফজলে করিম চৌধুরীর হাতেই।
হাছান মাহমুদের জয়জয়কার
আ.লীগের এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। টানা ১০ বছর রাঙ্গুনিয়ার এমপি। দুবারই পেয়েছেন মন্ত্রীত্ব। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সামলিয়ে বর্তমানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছেন তিনি। এবারও চট্টগ্রাম ৭ আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাকে।
আবারও নোমান আল মাহমুদ
মোছলেম উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর বোয়ালখালী-চান্দগাঁও (চট্টগ্রাম ৮) আসনে উপ-নির্বাচনে জয়ী হয়ে সবেমাত্র হাল ধরেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ। সময় পেয়েছেন মাত্র ৮ মাস। স্বল্প সময়ের জন্য যারা এমপি হয়েছিলেন তাদের মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিতই ছিল, মনোনীতদের তালিকা চূড়ান্তের একদিন আগে যার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন খোদ দলের সাধারণ সম্পাদক।
নওফেল থাকছেন
এবারও ৯ আসনে থাকছেন মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
মহিউদ্দিন বাচ্চু আবারও
চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী, ডবলমুরিং) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চু। তিনি কয়েকমাস আগে অনুষ্ঠিত হওয়া উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এবার আসনটিতে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চু।
বন্দর-পতেঙ্গা লতিফেরে হাতে
২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েও হাত ফসকে যায় নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজনের। মনোনয়ন বাগিয়ে নেন চট্টগ্রাম চেম্বারের তৎকালীন সভাপতি এম এ লতিফ। জীবনের শেষ সময়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আরেকবার সুযোগ চেয়েছিলেন এক সময়ের ছাত্রনেতা সুজন। তবে এবারও হতাশ হতে হয়েছে তাকে। মনোনয়ন পেয়েছেন তিন বারের সাংসদ এম এ লতিফ।

মোতাহেরুল ইসলামের আরেক অর্জন
গেল আগস্টে গণভবন থেকে পূর্ণ সভাপতির মর্যাদা নিয়ে চট্টগ্রাম ফিরেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মোতাহেরুল ইসলাম। এবার আরেক অর্জন তাঁর। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি।
দুইবারের সংসদ সদস্য হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা বদিউল আলম।
ভূমিমন্ত্রী জাবেদের ওপর আস্থা
‘দলিল যার, ভূমি তার’ — নতুন ভূমি আইনের জন্য দেশজুড়ে প্রশংসিত ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। নিজ নির্বাচনী এলাকা আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। আওয়ামী লীগও তার ওপর আস্থা রেখেছে।
বীরমুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের জয়
চট্টগ্রাম ১৪ আসনে নজর পড়েছিল ডজনের বেশি মনোনয়ন প্রত্যাশীর। সবাইকে পাশ কাটিয়ে মনোনয়ন পেয়ে গেলেন বর্তমান সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
টিকে গেলেন নদভী
বর্তমান সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীকে ঠেকিয়ে মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় তাকে টেকাতে একাট্টা হয়েছিলেন অনেকেই। মনোনয়ন ফরম তোলা প্রভাবশালী এক স্থানীয় নেতাও ভিড়েছিলেন তার দলে। তবে শেষ পর্যন্ত সব অভিযোগের পাহাড় চাপা দিয়ে মনোনয়ন পেলেন প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী।
বাঁশখালীর মোস্তাফিজুর রহমান
বাঁশখালীর বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানকে ঠেকিয়ে দলের টিকিট কেটেছিলেন হেভিওয়েট অনেকে। আঁটসাটভাবে মাঠে নেমেছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক মুজিবুর রহমান সিআইপি। শেষমেশ নৌকা পেলেন মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী।


