Homeচট্টগ্রামচট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবির

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবির

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

একের পর এক কর্মসূচি ও আন্দোলনের কারণে মারাত্মক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে দেশের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে। প্রতিদিন অন্তত দুইশ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা এই প্রতিষ্ঠানে গতকাল  দিনভর ছিল অচলাবস্থা।

আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ছিল স্ববিরতা। কাস্টম কর্মকর্তারা অফিসে থাকলেও করেননি শুল্কায়নের কোনো কাজ। পাঁচটার পরে সীমিত পরিসরে শুল্কায়নের কিছু কাজ করেছেন তারা। এদিকে এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলনের এ প্রভাব পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরেও।

প্রতিদিন গড়ে চার হাজার কনটেইনার খালাস করা চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকেও খালাস হয়নি প্রত্যাশার অর্ধেক পণ্য। এজন্য দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরে তৈরি হয়েছে কনটেইনার জট।

গতকাল পর্যন্ত এই বন্দরে জমেছিল ৪৩ হাজার কনটেইনার। পণ্য খালাস করার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় কনটেইনার বোঝাই আরও ১৮ টি জাহাজ ভাসছে বন্দর সীমাতে। ঈদের আগে এমন অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা।

ইন্টারন্যাশানাল বিজনেস ফোরামের চেয়ারম্যান ও বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব বলেন, ঈদের আগে এমন কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত করছে আমাদের। কারখানায় কাঁচামাল নিতে পারছি না সময়মতো। এজন্য ব্যাহত হবে উৎপাদন।

বন্দরের সচিব ওমর ফারুক জানান, শুল্কায়ন, পরীক্ষণসহ আমদানি কার্যক্রম না হলে বন্দর থেকে কনটেইনার খালাস করা যায় না। কনটেইনার খালাস না হলে জাহাজ থেকে কনটেইনার নামানোর কার্যক্রমেও ধীরগতি দেখা দেয়। এটির প্রভাব পড়ে বন্দরে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্তির প্রতিবাদে কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত ১৪ মে থেকে শুল্কায়ন, পরীক্ষাসহ সব ধরনের কাস্টমস কার্যক্রম বন্ধ রেখে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি পালন করছেন। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ৪৩ হাজার টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার জমে গেছে। অথচ বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টিইইউস কনটেইনার রাখা যায়। এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে কয়েককদিনের মধ্যে কনটেইনার রাখার আর কোনো জায়গা থাকবে না বন্দর ইয়ার্ডে।

সিআ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েমনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমদানি পণ্য খালাস কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াতে শিল্পের অনেক কাঁচামাল আটকে আছে। সময়মতো এগুলো কারখানাতে নিতে না পারলে উৎপাদন কার্যক্রমও পিছিয়ে যাবে। তখন ব্যাহত হবে রপ্তানী কার্যক্রমও।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়