Homeচট্টগ্রামচালু হচ্ছে নতুন বাস টার্মিনাল, কমবে অক্সিজেন এলাকার যানজট

চালু হচ্ছে নতুন বাস টার্মিনাল, কমবে অক্সিজেন এলাকার যানজট

প্রাইম ভিশন ডেস্ক

৩৩ বছর পর নগরীতে আরেকটি অত্যাধুনিক বাস টার্মিনাল চালু হতে যাচ্ছে। কদমতলী ও বহদ্দারহাটে দুটি বাস টার্মিনালের পর নগরীর জালালাবাদ ওয়ার্ডের কুলগাঁও বালুচরা এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ৮ দশমিক ১০ একর জায়গার উপর আলোচ্য বাস টার্মিনালটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এটি হবে বন্দরনগরীর তৃতীয় বাস টার্মিনাল। যেখানে বাসের পাশাপাশি ট্রাকের জন্য আলাদা জায়গা থাকবে। টার্মিনালটি চলতি মাসে উদ্বোধনের পর পুরোদমে চালু হবে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে টার্মিনালের মূল ভবনের ফিনিশিং ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। যা চলতি মাসের মধ্যেই শেষ করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক ও চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসীম উদ্দিন বলেন, মূল ভবনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে ভবনের ফিনিশিংয়ের কাজ, বাগান ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। আমরা আশা করছি চলতি মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। টার্মিনালটির ব্যবহার শুরু হলে সুবিধা পাবে দেশের দুই পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির লাখো বাসিন্দা। এতে চট্টগ্রাম নগরীর প্রবেশমুখ অক্সিজেন এলাকার নিত্যদিনের যানজটের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবে নগরবাসী।

চট্টগ্রাম জেলার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি অভিমুখী বাস-ট্রাকের জন্য কোন টার্মিনাল নেই। টার্মিনাল না থাকায় এসব সড়কের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার উপর যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় কুলগাঁও এলাকায় বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় চসিক। টার্মিনালটি চালু হলে চট্টগ্রামের উত্তরাঞ্চলের যানজট অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম নগরীর প্রথম বাস টার্মিনাল নির্মিত হয় কদমতলীতে। দ্বিতীয় টার্মিনাল নির্মিত হয় বহদ্দারহাটে ১৯৯৩ সালে। এরপর দীর্ঘ ৩৩ বছরেও নির্মাণ হয়নি কোনো বাস টার্মিনাল। সিটি বাস টার্মিনাল প্রকল্পটি ২০১৮ সালের অক্টোবরে অনুমোদন হয়। নানা জটিলতায় প্রায় আট বছরেও প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি চসিক।

প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় হয়েছে ১০৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া, ভূমি উন্নয়নে ৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, অবকাঠামো উন্নয়নে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ইয়ার্ড নির্মাণ বাবদ ২৫ কোটি টাকাসহ মোট ৩৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এই টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার ও আন্তঃনগর উভয় ধরনের বাসই ছাড়বে। টার্মিনালটিতে মোট ১৬০টি বাস-ট্রার্ক পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি বাস মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কে অক্সিজেন হয়ে প্রতিদিন রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি বাদেও উত্তর জেলার বিভিন্ন রুটে ৫০০ থেকে ৬০০ বাস চলাচল করে।

চট্টগ্রাম-নাজিরহাট-খাগড়াছড়ি বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, রাঙামাটি-খাগড়াছড়িসহ উত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটে দৈনিক নিয়মিত পাঁচ শতাধিক বাস চলাচল করে। কিন্তু স্থায়ী টার্মিনাল নেই। তাই মুরাদপুর কিংবা অক্সিজেন এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে যাত্রী নিতে হয় বাসগুলোতে। এতে নগরীর অন্য রুটে চলাচলকারী যানবাহনকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। নতুন টার্মিনাল চালু হলে উত্তরের রুটগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। অক্সিজেনসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রুটে যানজট কমে আসবে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান সোহেল বলেন, কুলগাঁও বালুচরা বাস টার্মিনালসহ বেশকিছু প্রকল্পের কাজ আমাদের শেষ পর্যায়ে। মেয়র দু’এক দিনের মধ্যেই দেশে ফিরলে এগুলো চালু বা উদ্বোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমরা আশা করছি খুব শীঘ্রই বাস টার্মিনালটি চালু করা হবে।

যা যা থাকছে টার্মিনালে: টার্মিনালের প্রবেশ পথে একটি তিন তলা ভবন থাকবে। এছাড়া, একটি সিটি বাস টার্মিনাল, একটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল, ২৫টি যাত্রী বোর্ডিং লেন, ১৪টি অতিরিক্ত ওয়েটিং লেন, একটি বড় খোলা হল রুম এবং তথ্যকেন্দ্র, পুরুষ ও নারীদের জন্য টয়লেট, ২২টি টিকিট কাউন্টার, যাত্রীদের বসার জায়গা, ওয়াইফাই সুবিধা, লাগেজ রুম, ট্যাক্সি বুকিং রুম, ফাস্ট এইড স্টেশন, রেস্তোরাঁ, এসি বাসের যাত্রীদের বসার জায়গা, বাস-ট্রাক মালিকদের জন্য অফিস এবং বাস কর্মচারীদের আবাসন কক্ষ থাকবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়