প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউনূসের মামলার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ন্যায্য ও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে বলে আশা করে দেশটি। অন্যদিকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলকে তারা কীভাবে দেখবে তা নিয়ে আগাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ওয়াশিংটন।
নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বুধবার (৩ জানুয়ারি) এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক মিলারকে বলেন, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম প্রাপ্ত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে নববর্ষের প্রথম দিন বাংলাদেশের শ্রম আদালত কারাদণ্ড দিয়েছে। এ বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া জানতে চাচ্ছি। বাংলাদেশে আইনের শাসন এবং বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা, এ দুই বিভাগের চ্যালেঞ্জ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে সে বিষয়ে আপনাদের পররাষ্ট্র বিভাগের মনোভাব কী? বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অসংখ্য বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী, গণমাধ্যম এবং মানবাধিকার কর্মীরা একই ধরনের মামলায় অনেকটা একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে অনেকের দুর্দশার মাত্রাটা আরও খারাপ।
উত্তরে মিলার বলেন, মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কারসহ মর্যাদাপূর্ণ অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। আমরা তার বিরুদ্ধে মামলাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। রায়ের পর ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনাও আমরা খেয়াল করেছি। মামলাটি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে একটি ন্যায্য ও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলতে আমরা উৎসাহিত করছি। মামলাটি নিয়ে পরবর্তী সব ঘটনা আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করব।
পরবর্তীতে ৭ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে মিলারকে প্রশ্ন করেন একই সাংবাদিক। দ্বিতীয় প্রশ্নে ওই সাংবাদিক বলেন, চলতি সপ্তাহের শেষেই বাংলাদেশে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে নিজ দল থেকে ডামি প্রার্থী দাঁড় করাতে প্রকাশ্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে গঠনমূলক পরামর্শ দিয়েছিল, তা আমলে নেওয়া হয়নি। তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কী এ ধরনের একটি ডামি নির্বাচনকে বৈধতা দেবে? যদি না দেয়, তাহলে এই ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বাইডেন প্রশাসন? গত সপ্তাহে বিবিসির এক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, বাংলাদেশের নির্বাচন ওয়ান ওম্যান শোতে পরিণত হয়েছে।
উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের মুখপাত্র বলেন, এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর সম্ভবত আমি আগেও দিয়েছি। কিন্তু এটি যেহেতু নতুন বছর তাই আমি আবারও এ প্রশ্নের উত্তর দেব। বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক, এটাই আমাদের চাওয়া। আমরা এটি বারবার স্পষ্ট করেছি। আসন্ন নির্বাচনকে আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করব। কিন্তু নির্বাচনের ফল নিয়ে আমাদের কী প্রতিক্রিয়া হবে বা আমাদের পদক্ষেপগুলো কী হতে পারে তা নিয়ে নিয়ে আমরা এখনই কোনো মন্তব্য করব না।
ইউনূস প্রতিহিংসার শিকার
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার তিন সহকর্মীকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
সোমবার (১ জানুয়ারি) অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করা হয়েছে। বিবৃতিটি সংস্থাটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের (টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ৮৩ বছর বয়সি নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার তিন সহকর্মীকে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর অধীনে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি শ্রম আদালত। ইউনূস দোষী সাব্যস্ত হওয়াটি বাংলাদেশের মানবাধিকারের বিপর্যস্ত অবস্থার প্রতীক। দেশটির কর্তৃপক্ষ মানুষের স্বাধীনতা খর্ব করেছে। সমালোচকদের তাঁবেদার হতে বাধ্য করেছে।
শ্রম আইন লঙ্ঘন করে শ্রমিকদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে সোমবার (১ জানুয়ারি) গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান, শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বহুল আলোচিত মামলায় তাদের দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। তবে এক মাসের মধ্যে আপিল করার শর্তে জামিন পাওয়ায় আপাতত জেলে যেতে হচ্ছে না তাদের।
সোমবার (১ জানুয়ারি) বেলা ৩টার দিকে এই রায় ঘোষণা করেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানা।
ড. ইউনূসের সঙ্গে দণ্ড পাওয়া অন্য তিনজন হলেন গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহান।


