প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
বর্ষা পেরুলেই ডেঙ্গু আক্রান্ত কমে যাওয়ার কথা, সেখানে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে গড়ে ওঠা পরিস্থিতি অক্টোবর ও নভেম্বরে ডেঙ্গু বাড়ছে। প্রধান হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন গড়ে একশো জ্বরের রোগী আসছেন এবং তাদের মধ্যে অন্তত ১০ থেকে ১৫ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। গত চার বছরের ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৪ হাজার ৩৮৮ জন। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে ৯৩৫ জন, অক্টোবরে ৯৯০ জন এবং নভেম্বরে ৮৮৩ জন আক্রান্ত হন; অর্থাৎ তিন মাসেই আক্রান্ত ২ হাজার ৩৮৮ জন, যা মোট আক্রান্তের ৬৩ শতাংশের সমান।
চলতি বছরে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুও হয়েছে; এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২৫ জন। ২০২৪ সালে মারা গিয়েছিলেন ৪৫ জন, ২০২৩ সালে ১০৭ জন এবং ২০২২ সালে ৪১ জন মারা গিয়েছিলেন।
শহর ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নির্ণয় সংক্রান্ত কাজও জোরদার করা হলেও সুফল পর্যাপ্ত নয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মশা নিধন কার্যক্রম হিসেবে ক্রাশ প্রোগ্রাম, আবর্জনা পরিষ্কার, এডিস মশা নিধন ও লার্ভা ধ্বংসসহ বিভিন্ন অভিযান চালাচ্ছে; তবু প্রকোপ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সিভিল সার্জন ও সিটি কর্পোরেশনের যৌথ জরিপে নগরের ২৫টি এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে—বন্দর, কোতোয়ালী, কেপিজেড, হালিশহর, সদরঘাট, বাকলিয়া, বায়েজিদ, পাহাড়তলী, ডবলমুরিং, খুলশী, পাঁচলাইশ, আকবরশাহ, চকবাজার, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, আগ্রাবাদ, পাথরঘাটা, লালখানবাজার, আন্দরকিল্লা, কাট্টলী, দেওয়ানহাট, ২ নম্বর গেট, মুরাদপুর, চন্দনপুরা ও মোহাম্মদপুর।
এর মধ্যে বন্দর, কোতোয়ালী, কেপিজেড, হালিশহর ও সদরঘাটকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের সূত্র জানায়, এসব এলাকায় আবর্জনা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, খোলা নালি ও নির্মাণকাজের কারণে পানির প্রসার এবং জমে থাকা জল এডিস মশার বৃদ্ধির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে; ফলে ক্রাশ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ব্যপকভাবে চালালেও মশার ঘনত্ব দ্রুত কমছে না।
চিকিৎসকরা রোগীদের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন যে কোনো ধরনের জ্বর অনুভূত হলে সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে; প্রয়োজনে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।


