বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেজাতীয় সংসদে ‘শিল্পকলা একাডেমি সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬’ পাস: স্বীকৃতি পেল আবৃত্তিশিল্প

জাতীয় সংসদে ‘শিল্পকলা একাডেমি সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬’ পাস: স্বীকৃতি পেল আবৃত্তিশিল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাঙালি সংস্কৃতি ও শুদ্ধ ভাষা চর্চার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ‘আবৃত্তি’ অবশেষে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর স্বীকৃতি লাভ করলো।

আজ, শুক্রবার, সকালে জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ চূড়ান্তভাবে পাস হয়েছে। এই সংশোধনীতে একাডেমির বিভাগসমূহের তালিকায় আবৃত্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুনভাবে- “আবৃত্তি, নৃত্য ও অন্যান্য পারফর্মিং আর্টস” বিভাগ গঠন করা হয়েছে।

এতে আবৃত্তিশিল্প নিয়ে সারাদেশে আন্দোলন ও নানা কর্মসূচির অবসান হলো। দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম- ‘বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প রক্ষা কণ্ঠ’-সহ বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী ও আবৃত্তিপ্রেমীরা আবৃত্তিকে শিল্পকলা একাডেমির স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত ২৪ মার্চ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংস্কৃতি মন্ত্রীর নিকট এবং পরবর্তীতে ঢাকায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। আবৃত্তিশিল্পীদের দীর্ঘদিনের সেই দাবি এই বিল পাসের মাধ্যমে পূর্ণতা পেল।

আবৃত্তি কে শিল্পকলা একাডেমি অধ্যাদেশে স্বীকৃতির এই ঐতিহাসিক অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য- সাঈদ আল নোমান। তিনি আবৃত্তিকে স্বতন্ত্র মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়ে সম্প্রতি সংস্কৃতি মন্ত্রী বরাবর আধা-সরকারিপত্র (ডিও লেটার) প্রদান করেন। সংসদ সদস্যের এই প্রস্তাবনা এবং সংশ্লিষ্ট মহলের তৎপরতায় বিলটি যথাযথ সংশোধনীসহ সংসদে পাস হয়।

এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আবৃত্তির কারণে জীবনের দৃষ্টিভঙ্গিতে বহু উৎকর্ষতা আসে যা ব্যক্তিজীবনকে ছাপিয়ে সমগ্র জাতির সহজাত চিন্তাশীলতায় গুণগত প্রভাব ও পরিবর্তন আনয়ন করে। নজরুল, রবীন্দ্রনাথ তথা কবিতা, সাহিত্য — আর সে অর্থে ‘আবৃত্তি’কে বাদ দিয়ে আমাদের সংস্কৃতিই যেন অসম্পূর্ণ। তাই যে দ্রুততার সাথে আমার লিখিত অনুরোধটি মাননীয় চিফ হুইপ মহোদয় এবং মাননীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী সাড়া দিয়ে আবৃত্তিকে একটি স্বতন্ত্র একাডেমিক বিভাগের অংশ হিসেবে সন্নিবেশিত করলেন সেইজন্য আমি আর আমার মতো লক্ষ লক্ষ সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ আজ কৃতজ্ঞ।”

তিনি আরও বলেন, মহান ভাষা আন্দোলনের উত্তরাধিকার বহনকারী এই রাষ্ট্রে আবৃত্তিকে যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা ছিল সময়ের দাবি। এই সিদ্ধান্তের ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে শুদ্ধ ভাষা ও নন্দনতত্ত্বের চর্চা আরও বেগবান হবে।

সংশোধিত অধ্যাদেশের উল্লেখযোগ্য দিক। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, আগে শিল্পকলা একাডেমির বিভাগ ছিল ৬টি, যা এখন ৯টিতে উন্নীত করা হয়েছে। এর মধ্যে আগে ‘নৃত্য ও অন্যান্য পারফর্মিং আর্টস’ বিভাগটি পরিমার্জন করে নতুন ভাবে- “আবৃত্তি, নৃত্য ও অন্যান্য পারফর্মিং আর্টস’ বিভাগ করা হয়েছে। এটি আবৃত্তিশিল্পীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলো।

সংসদে বিলটি পাস হওয়ার পর সারাদেশের আবৃত্তিশিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও আবৃত্তিপ্রেমীরা মধ্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। একইসাথে সারাদেশের আবৃত্তিপ্রেমীদের পক্ষ থেকে “বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প রক্ষা কণ্ঠ” সরকারকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও আবৃত্তি আন্দোলনে সমর্থন দেয়া সব সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট অগ্রজদেরকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তারা জানায়, এই আইনি স্বীকৃতির ফলে এখন থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আবৃত্তিশিল্পীদের মূল্যায়ন এবং এই শিল্পের প্রসারে প্রয়োজনীয় বাজেট ও কাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত হবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়