প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন দিতে প্রস্তুত দলটির প্রায় ৬০ জন বিধায়ক। এ সংক্রান্ত চিঠি নিয়ে বিধানসভায় হাজির হয়েছেন ঋতব্রত। তার সমর্থনে বিধানসভায় আসছেন তৃণমূলের অনেক বিধায়ক।
এই পদক্ষেপ সফল হলে বিধানসভায় এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীই হয়তো ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে যাবে। অনেকেই এই পরিস্থিতির সঙ্গে ২০২২ সালে মহারাষ্ট্রে শিবসেনার ভাঙনের মিল খুঁজে পাচ্ছেন।
বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর সদস্যরা ঋতব্রতর প্রার্থিতাকে সমর্থন করতে তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৬০ জনের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন। তৃণমূলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘আসল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে আমাদের চিঠি প্রস্তুত। বুধবার আমরা সেই চিঠি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে জমা দেব।’
‘খেলা হবে’
বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার সদস্য তাপস রায় মঙ্গলবার এক ফেসবুক পোস্টে তার পুরোনো দল তৃণমূলের এই ভাঙন নিয়ে মন্তব্য করেন।
তাপস রায় লেখেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতন অবস্থা হলো তৃণমূলের। বিধানসভার স্পিকার এর কাছে প্রায় ৫০ জন টিএমসির বিধায়ক নিয়ে পৌঁছে গেছে ঋতব্রত। খেলা হবে।’
এদিকে, মঙ্গলবার কলকাতায় এক সমাবেশে তৃণমূল নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে বিজেপি তৃণমূলকে ভাঙার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘দিল্লি থেকে তৃণমূলকে ভাঙার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কিন্তু আমরা তা হতে দেব না। আমরা লড়াই করব।’
তৃণমূলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানেই তৃণমূল। বাকি সব স্রেফ তামাশা।’ তবে নির্বাচনে হারের পর মমতার এই প্রথম সমাবেশে মাত্র ৯ জন সাংসদ ও বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন।
কী বলছেন ঋতব্রত?
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মমতার জন্য এই লড়াই মোটেও সহজ হবে না। হিন্দুস্তান টাইমসকে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আমি এখনো তৃণমূলেরই অংশ। যারা দাবি করেন যে তারা তৃণমূলে (তৃণমূল স্তরে) দল চালাচ্ছেন, তারা আসলে তৃণমূলের সঙ্গে সব সংযোগ হারিয়েছেন। একজন ব্যক্তি দলকে করপোরেট রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু জনগণ তা মেনে নেয়নি। মানুষ তৃণমূলের একটি আরও উন্নত সংস্করণ চায়।’
সংবিধানের দশম তফশিল অনুযায়ী, বিদ্রোহী নেতাদের নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে অন্তত ৫৪ জন (দুই-তৃতীয়াংশ) বিধায়কের স্বাক্ষর প্রয়োজন।
যেভাবে শুরু বিবাদের
তৃণমূলের অন্দরের এই লড়াই নীরবেই শুরু হয়েছিল। গত ৬ মে তৃণমূল বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু ১১ মে ঋতব্রতসহ দলের দুজন বিধায়ক স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন যে বিরোধীদলীয় নেতা নিয়োগের নথিতে থাকা বেশ কয়েকটি স্বাক্ষর জাল। এরপরই স্পিকার রথীন্দ্র বসু তৃণমূলের সুপারিশ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।
গত সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে বিজেপির কোনো হাত নেই।’
গত ১ জুন তৃণমূল আনুষ্ঠানিকভাবে ওই দুই বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়।


