সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেআহলে বাইতের প্রেম একটা শক্তি, নতুন উদ্দীপনা: আলী হোসেন সোহাগ

আহলে বাইতের প্রেম একটা শক্তি, নতুন উদ্দীপনা: আলী হোসেন সোহাগ

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

চার দশক আগে যখন আল্লামা জালাল উদ্দিন আলকাদেরি (র.) শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের শুরু করেছিলেন তখন তাঁকে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। কারণ তখন শাহাদাতে কারবালা মানে ছিল মিছিল এবং শোকের মাতম।

কিন্তু আহলে বাইতের প্রেম যে শোক না, এটা যে একটা শক্তি, নতুন উদ্দীপনা সেই জিনিসটা তিনি এ মাহফিলের মাধ্যমে দীর্ঘদিন তিনি আমাদের শিখিয়েছেন। আমরা আনন্দিত যে উনি চার দশক আগে যে মাহফিল শুরু করেছিলেন আহলে সুন্নাতের আলেমরা এখন পর্যন্ত সেই মাহফিলে আমাদের সঙ্গে আছেন।

আমরা সবাই মিলে চাই এই মাহফিল আরও এগিয়ে যাক।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে ১০ দিনব্যাপী শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের সংবাদ সম্মেলনে মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের প্রধান সমন্বয়ক ও ভাইস চেয়ার‌ম্যান মোহাম্মদ আলী হোসেন সোহাগ এসব কথা বলেন।

নগরের জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে ১-১০ মহররম এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আয়োজক কমিটি।

লালখান বাজারের একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের জেনারেল সেক্রেটারি প্রফেসর কামাল উদ্দিন আহমেদ ও প্রচার সম্পাদক দিলশাদ আহমদের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের খতিব আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মুহাম্মদ আলাউদ্দিন, শায়খুল হাদিস হজরতুল আল্লামা কাজী মাঈনুদ্দিন আশরাফি, ভাইস প্রেসিডেন্ট খোরশেদুর রহমান, আনজুমান ট্রাস্টের মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক, মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন, প্রফেসর ড. জাফর উল্লাহ, মুহাম্মদ আবদুল হাই মাসুম, হাফেজ মুহাম্মদ ছালামত উল্লাহ্, মুহাম্মদ মাঈনুদ্দিন মিঠু, মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম, আবুল মনসুর শিকদার, জাফর আহমদ সওদাগর, আবু সাঈদ মুহাম্মদ হামেদ, মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, মুহাম্মদ জহির উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আলী হোসেন সোহাগ বলেন, আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি যাঁরা সূচনালগ্ন থেকে আল্লামা জালাল উদ্দিন আলকাদেরির সঙ্গে ছিলেন, আজকে পর্দা করেছেন। আমরা তাঁদের জন্য দোয়া চাই। জালাল উদ্দিন আল কাদেরির (র.) ওফাতের পর আমার আব্বা, পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান দায়িত্ব নিয়েছেন। একটা ব্যাপার আমাদের মাথায় রাখতে হবে, টাকা পয়সা খরচ করে একটি মাহফিল ৫-১০ বছর চালানো যায়। কিন্তু চার দশক মাহফিল চালাতে হলে সেখানে টাকার সাথে মহব্বত, আন্তরিকতার প্রয়োজন হয়। সব সময় কিছু নাম ও চেহারা দেখি। এর বাইরে আরও অনেক নাম ও চেহারা আছে। আমি তাঁদের প্রতি শুকরিয়া জানাই। তাঁরা অনেকে নীরবে কাজ করছেন। আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, আমার আব্বা সুফি মিজানুর রহমানের জন্য। তিনি যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে আমাদের সাথে এ মাহফিলে সম্পৃক্ত হতে পারেন। আমি চট্টগ্রামবাসীকে দাওয়াত দিচ্ছি তাঁরা যেন এ ১০ দিনের মাহফিলে অংশ নিয়ে সমৃদ্ধ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৭ জুন শুরু হচ্ছে ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল। ৪১তম এ মাহফিলে বিশ্ববরেণ্য ইসলামিক স্কলার, পীর মাশায়েখ আহলে বায়তে রাসূলের মান-মর্যাদা নিয়ে আলোচনা করবেন।

ইমাম হোসাইন (রা.) ও আহলে বায়তে রাসূলের (সা.) দর্শন ছিল শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং কল্যাণ ও ইনসাফের পতাকা সমুন্নত করা। মাহফিলে বাগদাদ থেকে বড়পীর হজরত আবদুল কাদের জিলানি (রা.) দরবারের সাজ্জাদানশীর ও বংশধর শাহসুফি সৈয়দ আফিফ উদ্দিন আল-মনসুর আল জিলানি (মজিআ), কলকাতার টিপু সুলতান জামে মসজিদের খতিব বিশ্ববরেণ্য আলেম শাহসুফি সাখাওয়াত হোসেন বরকতীসহ স্কলারার অংশ নেবেন।

রোববার (১৪ জুন) বিকেলে টাইগারপাসের চসিক সম্মেলন কক্ষে ১০ দিনব্যাপী ৪১তম আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল উদযাপন উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় মেয়র বলেন, গত ৪১ বছর ধরে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে ধারাবাহিকভাবে ১০ দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল আয়োজন একটি বিরল ও ঐতিহাসিক উদ্যোগ। দেশের অন্য কোথাও এ ধরনের দীর্ঘ ধারাবাহিকতা আছে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এই ঐতিহ্য আমাদের যেকোনো মূল্যে ধরে রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), হজরত ইমাম হাসান (রা.) ও হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর জীবনাদর্শ এবং কারবালার ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। সেই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে একটি সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়