প্রাইম ভিশন ডেস্ক
ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে এবং সম্ভব হলে স্থলপথেও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। ইয়েমেনি সূত্রগুলোর বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রিয়াদের মতে, দক্ষিণ লোহিত সাগর হয়ে তেল রপ্তানির ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, সৌদি বাহিনী সম্প্রতি ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে সরে গেছে। এটি মধ্যাঞ্চলের আল-বাইদা গভর্নরেটে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতির অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২০-২১ সাল থেকে অঞ্চলটি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সময়ে, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের হামলা থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত রাখতে একটি বহুজাতিক নৌ জোট গঠনে কাজ করছে রিয়াদ।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান ও জিবুতিসহ ১৪টি দেশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোটের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালিসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশকেও এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে লোহিত সাগরে তাদের ‘অ্যাসপিডেস’ নৌ মিশন পরিচালনা করছে।
ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিরা, যারা ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশটির লোহিত সাগর উপকূলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, ২০ জুলাই সৌদি জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেয়। তবে সব জাহাজের কাছ থেকে তারা পথকর আদায় করবে—এমন খবর অস্বীকার করেছে গোষ্ঠীটি। হুতিরা বলেছে, সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নিলে এ অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে।
সাম্প্রতিক এ উত্তেজনায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানির জন্য লোহিত সাগরের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বর্তমানে দেশটির অর্ধেকের বেশি অপরিশোধিত তেল স্থলপথে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে নেওয়া হয়।
সৌদি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় তারা প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে তারা বলে আসছেন, বিস্তৃত আঞ্চলিক উত্তেজনার স্থায়ী সমাধান শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক উপায়েই হওয়া উচিত।


