বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তে‘মুমিনুলের বাঁচার আকুতি’-বাবার সঙ্গে শেষ কথা..

‘মুমিনুলের বাঁচার আকুতি’-বাবার সঙ্গে শেষ কথা..

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

চট্টগ্রামের মহসিন কলেজ থেকে সদ্য অর্থনীতিতে অনার্স শেষ করে চাকরি শুরু করেছিলেন মমিনুল। পরিবারের অভাব দূর করতে এক বছর চাকরি করেই মাস্টার্স শেষ করার ইচ্ছে ছিলো তার। কিন্তু সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোর অগ্নিকাণ্ডে তার সেই স্বপ্ন ভস্মীভূত হয়ে গেছে। আশার প্রদীপ হারিয়ে যেন বোবা হয়ে গেছেন বাবা ফরিদুল ইসলাম। অন্যান্য স্বজনদের আহাজারিতে চারপাশ ভারি হয়ে উঠলেও, তার চোখে ছিল না অশ্রু।

শনিবার রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারি এলাকার একটি কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৪৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। হতাহতদের মধ্যে ডিপোর কর্মীদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্য ও ফায়ার সার্ভিস কর্মী রয়েছেন। মমিনুল হক সেই নিহত শ্রমিকদের একজন।

ছেলের সঙ্গে শেষ কথোপকথনের বিষয়ে বাবা ফরিদুল বলেন, “ফোনেই ছেলের আর্তচিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম। সে চিৎকার করে বলছিল- ‘বাবা এখানে কিছুক্ষণ পরে পরে ব্লাস্ট হচ্ছে।’

দ্বিতীয়বার ফোন করে মমিনুল বলেছিল, ‘বাবা আমার একটা পা উড়ে গেছে। আমাকে কালেমা পড়ে দেন।’ এটাই আমার সঙ্গে তার শেষ কথা।”

ফরিদুল জানান, মমিনুলের সঙ্গে কথা শেষে তিনি চট্টগ্রাম শহরে থাকা নিজের স্বজনদের ফোন করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে বলেন। পরে তার চাচা খোরশেদ আলম হাসপাতালে এসে ভাতিজার লাশ দেখতে পান। পরিবারে দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মমিনুল মেজ।

নিহত মমিনুলের খালাতো ভাই তায়েব দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “তিন মাস আগে মহসিন কলেজ থেকে ইকোনমিক্সে অনার্স শেষ করে চাকরি শুরু করে মমিনুল। সে আমাকে বলেছিলো মানুষ তিন-চার বছর চাকরি করেও পড়ালেখা করে, আমি এক বছর চাকরি করে ঘরের আর্থিক অবস্থা ফেরাতে চাই, এরপর মাস্টার্স পরীক্ষা দেবো। কিন্তু সেটা হলো না।”

“মমিনুল রাত ৮টার দিকে ডিপোতে যান। ৯টার সময় ফোন দিয়ে শুধু বলেছে- ‘ভাই আমাকে বাঁচা’। হাসপাতালে এসে দেখি আমার ভাই আর নাই,” বলেন তায়েব।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়