প্রাইম ভিশন ডেস্ক
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গড়া প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর পরিশোধ করতেই হবে।
আয়কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া দুটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার এই রায় দেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে নিযুক্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘আদালত রুল ডিসচার্জ বা খারিজ করে রায় দিয়েছেন। ফলে কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ৬৬৬ কোটি টাকা আদায়ের দ্বার উন্মোচিত হলো। একটি ডিমান্ড নোটিশ জারির মাধ্যমে এই টাকা আদায়ের উদ্যোগ নিতে পারবে কর কর্তৃপক্ষ। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই ডিমান্ড নোটি জারি করতে হবে।’
হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, আদালত সংক্ষিপ্ত রায় দিয়েছেন। কোনো কারণ উল্লেখ করেননি। বিস্তারিত রায় পাওয়ার পর তারা আপিল করবেন।
আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ২০১৭ সালে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এই ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দাবি করেছিল এনবিআর। তখন ঢাকার কর অঞ্চল-১৪ পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। তাতে ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে আয়কর হিসেবে এই অর্থ দাবি করা হয় । শুনানির জন্য সময় দেওয়া হয় দুই সপ্তাহ।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে গ্রামীণ কল্যাণের একটি চুক্তি ছিল, যার অধীনে গ্রামীণ টেলিকম তাদের একটি ব্যবসার অর্জিত লভ্যাংশের (ডিভিডেন্ড) ৪২.৫০ শতাংশ গ্রামীণ কল্যাণকে দেয়। পরবর্তীকালে আয়কর কর্তৃপক্ষ ফাইলটি পুনর্মূল্যায়ন (রি-ওপেন) করে দেখতে পায়, গ্রামীণ টেলিকম থেকে অর্জিত ওই আয়ের ওপর কোনো উৎসে কর (ট্যাক্স অ্যাট সোর্স) কাটা হয়নি।
তবে গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন দাবি করেছেন, তারা উৎসে কর দিয়েছেন।
গ্রামীণ কল্যাণ তখন প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে এক মাস সময় চাইলেও তা নাকচ করে কর কর্তৃপক্ষ। পরে পুনর্বিবেচনার আবেদনও খারিজ হলে প্রতিষ্ঠানটি হাইকোর্টে দুটি রিট আবেদন করে করে। তাতে ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর চাওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।
সেই রিট আবেদনগুলোর শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং আয়কর দাবি করা প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে কয়েক দফায় সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ কর কর্তৃপক্ষের দুটি প্রজ্ঞাপন বাতিল করে রুল নিষ্পত্তি করেন। তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল বিভাগ রুলটি মেরিটের ভিত্তিতে পুনরায় শুনানি ও নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
দীর্ঘ শুনানির পর ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গ্রামীণ কল্যাণের করা দুটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট।
তার একদিন পরই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনার সরকার। এরপর ওই রায় প্রত্যাহার করে নেয় হাইকোর্টের একই বেঞ্চ। ফলে মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি নতুন একটি বেঞ্চে পাঠান।
বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাগুলোর উপর গত ১৪ জুলাই পুনরায় শুনানি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার আদালত রুল খারিজ করে রায় দেন।


