Homeএই মুহুর্তেসীতাকুণ্ডকে ডেঙ্গুর ‘হটস্পট’ ঘোষণা, ৭ দিনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু

সীতাকুণ্ডকে ডেঙ্গুর ‘হটস্পট’ ঘোষণা, ৭ দিনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এখানে প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগী বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়েছে মৃত্যুর হারও। পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় জেলা প্রশাসন পুরো উপজেলাকে ডেঙ্গুর ‘হটস্পট’ ঘোষণা এবং উপজেলার ৭টি সুনির্দিষ্ট এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে এখানে টানা ৭ দিনের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে এই প্রোগ্রাম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের গোলাম মাইনুদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরিফ উদ্দিন,  চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিব্বির আহম্মেদ এবং পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও নানান শ্রেণি পেশার মানুষ।

 

উদ্বোধনকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার মধ্যে সীতাকুণ্ড উপজেলাকে ডেঙ্গুর প্রধান হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলার ৭টি এলাকাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ থেকে আগামী ৭ দিন ধরে উপজেলার প্রতিটি এলাকায় একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমরা চাই এই ৭ দিনের কঠোর অভিযানের পর সীতাকুণ্ডে যেন নতুন কোনো ডেঙ্গু রোগী না থাকে। সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় এই অভিযান সফল করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, ‘সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। চিহ্নিত ৭টি রেড জোনে বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার সুবিধার্থে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ডেঙ্গু টেস্ট বা পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ঘরের কোণ, ছাদ, ফুলের টব বা যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জ্বর হলে অবহেলা না করে অবিলম্বে হাসপাতালে এসে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।

প্রসঙ্গত, সীতাকুণ্ডে এখন পর্যন্ত মোট ৫১৭ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৫ জন। এর মধ্যে ৩ জন শিশু। সর্বশেষ গত একদিনে এখানে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়