প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
রোগীর খাবারে যেন কোনোভাবেই পানির অভাব না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। প্রচুর পরিমাণে পানি পানের পাশাপাশি চিকিৎসকরা ডায়েটে মরসুমি ফল রাখার কথাও বলে থাকেন।
পরিস্থিতি খুব বেশি খারাপ না হলে বাড়িতে সেবা যত্ন করলেই সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন ডেঙ্গু রোগী। এসময় রোগীর খাদ্যতালিকায় এমন সব খাবার রাখতে হবে যা থেকে তিনি দ্রুত শক্তি পাবেন। কিছু ফল রয়েছে যা ডেঙ্গু রোগীর অণুচক্রিকার সংখ্যা বাড়ায়, শক্তিও বৃদ্ধি করে। চলুন ফলগুলো সম্পর্কে জেনে নিই-
বেদানা
বেদানায় প্রচুর পরিমাণ আয়রন থাকে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য এটি খুব উপকারি ফল। আনার খেলে দেহের শক্তি বাড়ে। এছাড়াও দেহের অণুচক্রিকার সংখ্যা বাড়াতেও সাহায্য করে এটি।
ডাবের পানি
জ্বর হলে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেহে পানির ঘাটতি দেখা দেওয়া স্বাভাবিক বিষয়। এই পানির ঘাটতি দূর করতে ভরসা রাখতে পারেন ডাবের পানিতে। এছাড়াও পুষ্টিগুণ ও বিভিন্ন ইলেক্ট্রোলাইটে সমৃদ্ধ এই ডাবের জল দৈহিক শক্তিও বাড়াবে।
কিউয়ি
কিউয়ি ফলে রয়েছে ভালো মাত্রায় ভিটামিন সি ও ডায়েটারি ফাইবার। ডেঙ্গু হলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে এটি খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। এই ফল হজেও সাহায্য করে।
পেঁপে
ডেঙ্গু রোগীরা প্রতিদিনের খাবারতালিকায় পেঁপে রাখতে পারেন। অনেকে বলেন, পেঁপে পাতার রস খেলে অণুচক্রিকার মাত্রা বাড়ে। তবে চিকিৎসকদের কাছে এই বিষয়ে কোনো সঠিক তথ্য নেই। পাকা পেঁপে খেলে শরীরের পানির অভাব পূরণ হয়। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শরীর চাঙ্গা রাখে।
কলা
ডেঙ্গু রোগী শারীরিকভাবে ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রতিদিন একটি কলা খেলে শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। এটি শরীরের পানি ঘাটতি মেটায়।
দুধ, দই ও দুগ্ধজাত খাবার প্রোবায়োটিকসের সমৃদ্ধ উৎস। দইয়ে থাকা ল্যাকটোব্যাসিলাস নামক ব্যাকটেরিয়া আমাদের অন্ত্রের উপকার করে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে দুগ্ধজাত খাবার শরীরে পটাশিয়াম, ফসফরাস ও সোডিয়ামের পরিমাণ ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
প্রোটিন জাতীয় খাবার তাড়াতাড়ি রোগ সারাতে মুখ্য ভূমিকা নেয়। তাই এই সময় খাবারে মাছ, মাংস, ডাল, ডিম, বাদাম ইত্যাদি থাকা একান্ত জরুরি।
জ্বরে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে তরল খাবার খাওয়া তুলনামূলক সহজ। তাই এ সময় শক্ত খাবারের পরিবর্তে তরল খাবার যেমন মাংসের স্যুপ, দইয়ের লাচ্ছি ইত্যাদি খাওয়ানো উচিত। এ ক্ষেত্রে খাবার দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা পরপর পরিবেশন করা ভালো।
সবুজ শাকসবজি ভিটামিন কে ও আইয়ের সমৃদ্ধ উৎস। এ দুটি ভিটামিনই রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় ইত্যাদি রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে।
ভিটামিন সি ও ফোলেটও প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে। কমলালেবু, পাতিলেবু, জলপাই, আনারস, বেরি ও কিউই ফল এই ভিটামিনের সমৃদ্ধ উৎস।
ডেঙ্গু রোগীরা বিটরুটের স্যুপ খেতে পারেন। এতে প্রচুর পরিমাণে পানি, ভিটামিন (বি৯, ভিটামিন সি), খনিজ পদার্থ (ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম, আয়রন) রয়েছে।
রোগী যখন ডেঙ্গু থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হতে থাকেন, তখন সহজে হজমযোগ্য খাবার যেমন– খিচুড়ি, দই, ভাত, পোরিজ, সেদ্ধ আলু সেদ্ধ শাকসবজি, পেঁপে, কুমড়া, সবুজ মটর ইত্যাদি খাওয়ানো শুরু করা যেতে পারে। পাশাপাশি দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পর্যাপ্ত পানি, তরল খাবার খেতে হবে। এ ছাড়া ডাবের পানি, ফলের রস খেতে হবে।
এ সময় মসলাদার ও বেশি তেলযুক্ত খাবার না খাওয়াই ভালো। সফট ড্রিংকস, উচ্চ ফ্যাটযুক্ত খাবারও এই সময় এড়িয়ে চলা দরকার।


