প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
চট্টগ্রাম নগরের রিয়াজ উদ্দিন বাজারে মারধরের নাটক সাজিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নয় লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে সাত লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে নগরের দামপাড়ায় সিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিসি (দক্ষিণ) মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগে, সোমবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- পটিয়া উপজেলার দেউরডেঙ্গা এলাকার মো. একরামুল আলম, মীরসরাই উপজেলার সাহেদ হাসান মনা, সাতকানিয়ার মো. ইয়াছিন ওরফে এরফান ওরফে সাব্বির ও কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রবিউল হোসেন ওরফে ইকবাল হোসেন ওরফে ইবু।
পুলিশ জানায়, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রিয়াজ উদ্দিন বাজার এলাকায় নুর এন্টারপ্রাইজ নামে একটি মোবাইল ফোন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারীকে মারধর করে নয় লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন দুর্বৃত্তরা। ঐ ঘটনায় রাতেই কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন প্রতিষ্ঠানের মালিক নুর মোহাম্মদ ইয়াছিন।
এরপর ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সাহেদ হোসেন মনাকে শনাক্ত করা হয়। সোমবার বিকেলে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রউফাবাদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন সাহেদ হোসেন মনা। তার কাছ থেকে ছিনতাইকৃত টাকার মধ্যে ভাগে পাওয়া ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
সাহেদ হোসেন মনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন বিকেলে সদরঘাট থানার মাদারবাড়ি এলাকা থেকে একরামুল আলমকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে একরামুল জানান- গ্রেফতারকৃত মনাসহ আট থেকে ১০ জন মিলে ছিনতাই করা টাকা তার কাছে জমা দেন। এরমধ্যে কিছু টাকা মনাকে এবং আরো কিছু টাকা দলের অন্য সদস্যদের দিয়ে অবশিষ্ট টাকা নিজের কাছে রেখে দেন তিনি।
একরামুলের দেখানো তথ্যমতে একটি হোটেলের কক্ষ থেকে ছয় লাখ ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে মনা ও একরামুলের দেওয়া তথ্যে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্ণফুলী থানার চরলক্ষ্যা এলাকা থেকে মো. ইয়াছিন ও রবিউল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন ইয়াছিন ও রবিউল। একরামুলের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সহযোগিতায় ছিনতাইয়ের পরিকল্পনার কথা জানান তারা। তারা আরো জানান- একরামুলের পরিকল্পনায় বাদীর প্রতিষ্ঠানের টাকা ব্যাংকে কে আনা-নেয়া করেন সেই বিষয়টি কয়েকদিন ধরে অনুসরণ করেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় মারামারির নাটক সাজিয়ে
টাকাগুলো ছিনতাই করেন।
ডিসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃতরা সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সদস্য। বড় বড় ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে তাদের ব্যাংক লেনদেনের বিষয়ে খবরাখবর রাখে চক্রটি। ব্যবসায়ীদের কে কখন কোন ব্যাংকে টাকা জমা দেন কিংবা কে উত্তোলন করেন তাদের টার্গেট করে গতিবিধি নজরদারিতে রাখে। এরপর টাকা জমা দিতে যাওয়ার সময় কিংবা উত্তোলন করে আসার সময় কাঙ্ক্ষিত স্থানে পৌঁছানোর পর মারামারির পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন, যাতে কোনো পথচারী বাঁচানোর চেষ্টা না করেন। মারামারির একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, মামলার বাদী নুর মোহাম্মদ ইয়াছিনের প্রতিষ্ঠানটি মোবাইলের ব্যবসা করে। তার প্রতিষ্ঠানের এসআর মোরশেদ আলম ও সহকারী ম্যানেজার ত্রিদিব বড়ুয়া প্রায় সময় প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক লেনদেনের সব কার্যক্রম করে থাকেন। সে হিসেবে রোববার দুপুরে প্রতিষ্ঠানের নয় লাখ ৮০ হাজার টাকা একটি লাল রংয়ের পুরাতন ব্যাগে নিয়ে ব্যাংকে জমা দিতে যাচ্ছিলেন দুজন। ঐ সময় কোতোয়ালি থানার জুবিলি রোডের রয়েল টাওয়ার এলাকায় পৌঁছানোর পর অজ্ঞাত সাত থেকে আটজন তাদের ধাক্কা দেন।
সহকারী ম্যানেজার ত্রিদিব বড়ুয়া ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা দুইজনকে এলোপাথাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম এবং ছুরিকাঘাত করে সঙ্গে থাকা ব্যাগভর্তি নয় লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন।
কোতোয়ালি থানার ওসি জাহিদুল কবীর বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একরামুল আলমের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় দুইটি চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। এছাড়া সাহেদ হোসেন মনার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় দুইটি চাঁদাবাজির, দুইটি অস্ত্র এবং তিনটি জখম সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। ইয়াছিনের বিরুদ্ধেও কোতোয়ালি থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে।


