প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
গভীর রাতে হঠাৎ অজানা নম্বর থেকে ফোন। ফোনের ওপারের ব্যক্তি নিজেকে ‘জিন’ অর্থাৎ অশরীরী পরিচয় দেন। রাজমিস্ত্রিকে সাত ঘড়া মোহর, মণি-মাণিক্য দেওয়ার প্রলোভন দেখান তিনি। ধর্মের ভয় দেখিয়ে ধাপে ধাপে তার অ্যাকাউন্ট থেকে ২ লাখ ৭৬ হাজার রুপি হাতিয়ে নেয়া হয়।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় সাইবার ক্রাইম আইনে মামলা করেছেন। এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের শ্যামনগর গ্রামে। ওই ভুক্তভোগী পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। খবর সংবাদ প্রতিদিনের
বিভিন্ন উপায়ে সাইবার জালিয়াতি করে মানুষকে আর্থিক প্রতারণার খবর শিরোনামে এসেছে। কখনও লিঙ্ক পাঠিয়ে, কখনও ওটিপি দিয়ে, কখনও আবার তথ্য হাতিয়ে। এবার অশরীরীর দোহাই দিয়ে রাজমিস্ত্রির কাছ থেকে যাবতীয় সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল।
ওন্দা ব্লকের শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দা আমিনুদ্দিন মণ্ডল। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। দিনভর রোজগারের অর্থ তিলে তিলে সঞ্চয় করেছিলেন। কিন্তু ‘জিন’ এর কবলে পড়ে সেটুকুও খোয়াতে হল।
খবরে বলা হয়েছে, অক্টোবরের শেষ দিকে গভীর রাতে একটি অজানা নম্বর থেকে ফোন আসে আমিনুদ্দিনের কাছে। এত গভীর রাতে ফোন দেখে অবাক হন তিনি। ফোন ধরতেই ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে ‘জিন’ বলে পরিচয় দেন। বলেন, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার একটি বিশেষ জায়গায় মণি-মাণিক্য, হিরে-জহরত ও সোনা ভর্তি সাত ঘড়া ধন রাখা আছে। ৩৩৬৫ জন জিন সেই সম্পত্তি পাহারা দিচ্ছে। সম্প্রতি দুষ্কৃতীরা ওই এলাকাটিকে অপবিত্র করে দিচ্ছে। তাই সেই সম্পদ সরিয়ে তা তুলে দিতে হবে কোনও ধর্মপ্রাণ মানুষের হাতে। সেক্ষেত্রে ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসাবে আমিনুদ্দিনকেই বেছে নিয়েছেন তারা।
ফোনে এমন প্রস্তাব শুনে হকচকিয়ে যান ওই ব্যক্তি। এরপর থেকে প্রায়ই মাঝরাতে ফোন আসতে শুরু করে আমিনুদ্দিনের কাছে। শেষ পর্যন্ত আমিনুদ্দিন সেই কথা বিশ্বাস করেন। ‘জিন’ নির্দিষ্ট একটি দিনে সেই সম্পদ আমিনুদ্দিনের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানায়। তবে শেষ মুহুর্তে সে বলে, আমিনুদ্দিনের বাড়িতে বাস্তু দোষ রয়েছে, তাই সম্পদ পৌঁছনো যাচ্ছে না। বাস্তু দোষ কাটাতে বিভিন্ন আচার পালনের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ধাপে ধাপে আমিনুদ্দিনকে অনলাইনে টাকা দেওয়ার কথা বলে অশরীরী।
আমিনুদ্দিনের দাবি, প্রথমে জিনের প্রলোভনে পা দিয়ে এবং পরে ভয়ে ধারদেনা করে ধাপে ধাপে মোট ২ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ রুপি পাঠান আমিনুদ্দিন। একটা সময় পর বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।


