প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংকের পর গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকও সম্মতি জানিয়েছে। তবে দ্বিধায় রয়েছে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল)। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও আর্থিক সহায়তা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চায় তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার গ্লোবাল ইসলামী ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদা বৈঠক করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ভার্চুয়ালি অংশ নেন। চার ডেপুটি গভর্নর এবং ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগের কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ব্যাংক দুটির সূচকের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়। দুই ব্যাংকও নিজেদের পরিকল্পনা উপস্থাপন করে। এর আগে তিনটি ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আলোচনার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শিগগিরই সরকারের কাছে পরিকল্পনা উপস্থাপনা করবে।
গতকালের বৈঠক শেষে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাংকটির যে ঋণাত্মক পরিস্থিতি রয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন। একীভূত হবে, নাকি অন্য কিছু হবে– সেই সিদ্ধান্ত সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। তবে পর্ষদের পক্ষ থেকে যে কোনো নিষ্পত্তিতে সম্মতি রয়েছে। তিনি বলেন, এ ব্যাংকের ১৪ হাজার কোটি টাকা ঋণের মধ্যে এস আলম গ্রুপ নিয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে খুব সামান্য বন্ধকি সম্পত্তি রয়েছে। একীভূতকরণ করা হলে আমানতকারী ও চাকরিজীবীরা সবাই সুরক্ষা পাবেন বলে তিনি মনে করেন।
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. এম সাদিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ব্যাংকের আর্থিক সূচকের ওপর একটি উপস্থাপনা দিয়েছে। তারাও একটি উপস্থাপনা দিয়েছেন। অনেক বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে তারা নীতিগতভাবে একমত। তবে পরে কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তিনি জানান, এস আলম গ্রুপ এই ব্যাংক থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে। ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক মেজর (অব.) ডা. মো. রেজাউল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকের অবস্থা খারাপ নয়। আমরা কেন একীভূতকরণে যাব?’
এদিকে এক্সিম ব্যাংক এবং এসআইবিএলকে আরও ৮৮৬ কোটি টাকার বিশেষ ধার দিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এক্সিম ব্যাংককে সাড়ে আট হাজার এবং সোশ্যাল ইসলামীকে ছয় হাজার ৬৭৫ কোটা দেওয়া হবে। এ দুটি ব্যাংকে কিছু রপ্তানিকারক গ্রাহকের টাকা আটকে আছে। এতে সংশ্লিষ্ট কারখানার বেতন পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে। রপ্তানি বিল দেশে এসেছে– এমন পোশাক কারখানার আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বেতন পরিশোধের জন্য বিজিএমইএর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক দুটিকে ধার দিচ্ছে। আগামী সপ্তাহে এ অর্থ ছাড় হতে পারে। এ পদক্ষেপের জন্য বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন


