প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে হৃদয়ের টানে এই রথযাত্রায় এসেছি। আমি আপনাদের ভাই, বন্ধু।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহোদয় দেশের মানুষের দুঃখ লাগবের জন্য বৈষম্যহীন ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সবার আগে বাংলাদেশ।
হাজার বছরের ইতিহাসে এই ভূখন্ডে বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছে। এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও সমৃদ্ধ করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে নগরের প্রবর্তক মোড়ে ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের রথযাত্রার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়তে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক আস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের উন্নয়নের সুফল তখনই অর্থবহ হবে, যখন সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ সমান সুযোগ, মর্যাদা এবং অংশীদারিত্ব অনুভব করবেন। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের উন্নয়নের যাত্রায় সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের অবদান সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় অগ্রযাত্রায় সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আমরা একটি সমৃদ্ধ, উদার ও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রেইনবো নেশন গড়তে আমরা সবাই একসাথে কাজ করবো।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধেরর প্রতীক। আমি সবসময় ঐক্যের পক্ষে। চ্ট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেইফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বর্তমানে বিএনপি সরকার বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকায় রক্ষায় অঙ্গিকারাবদ্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন যাতে সকল সনাতনীরা নিশ্চিতভাবে রথযাত্রার আনন্দ উপভোগ করতে পারে। সরকারও চেষ্টা করছে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে। আমি মেযর হিসেবে নয়, জনগণের সেবক হিসেবে আপনাদের পাশে থাকতে চাই। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করে। এবারের রথযাত্রা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে। সিটি করপোরেশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে।
রথযাত্রা উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ দারুব্রহ্ম জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী। স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হরিশ কুমার। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরি সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, শ্রীমৎ স্বামী পরিতোষানন্দ গিরি মহারাজ, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের যুগ্ম মহাসচিব বিশ্বজিৎ দত্ত বাবু, বেসরকারি কারা পরিদর্শক উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন দাশ, ডা. যীশুময় দেব, সুমন সরকার, সুব্রত আইচ প্রমুখ।
ভোরে মঙ্গলারতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানমালার শুভ সূচনা হয়। বিকাল ৪টায় রথযাত্রার বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রা প্রবর্তক মোড় থেকে শুরু হয়ে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সিনেমা প্যালেস এসে শেষ হয়।


