প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের (মিল্ক ভিটা) চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তুমুল জনপ্রিয় এ ব্র্যান্ডের প্রতি লিটার পাস্তুরিত তরল দুধের দাম গত বছরের জুনে ছিল ৭৫ টাকা, এখন যা ৩৫ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে ১১০ টাকায়। অর্থাৎ আট মাসে দাম বেড়েছে ৪৭ শতাংশ। আর আধা লিটার তরল দুধের দাম ছিল ৪০ টাকা, যা এখন ৬০ টাকায় কিনতে হয়।
মিল্ক ভিটা ছাড়াও বিভিন্ন খামার, অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও খোলাবাজারে মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যেত প্রতি লিটার তরল দুধ। সবগুলোর দামই প্রায় ৫০ শতাংশ বা তার কাছাকাছি হারে বেড়েছে। গত বছরের মাঝামাঝি ব্র্যাকের পণ্য আড়ংয়ের তরল দুধের এক লিটারের প্যাকেটের দাম ছিল ৭০ টাকা, এখন যা ৯৫ টাকা। তাদের আধা লিটার দুধের দাম ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা হয়েছে। প্রাণের প্রতি লিটার পাস্তুরিত তরল দুধের দাম ৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ৯০ টাকা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের দুধ রপ্তানিকারক খায়রুল আলম বলেন, গত এক বছরে দুধের দাম যেভাবে বেড়েছে, তা আগে কখনো দেখা যায়নি। সাধারণত রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে দুধের চাহিদা ভালো থাকে। ব্যাংক অনেক যাচাই-বাছাই করে ঋণপত্র খুলছে। দুধের দাম সহসা কমবে বলে মনে হয় না।’
বেড়েছে গুঁড়া দুধের দামও
প্যাকেটজাত গুঁড়া দুধ ডানোর প্রতি কেজির দাম গত ৩১ জানুয়ারি ছিল সর্বনিম্ন ৮৪০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৯০০ টাকা। এক বছর আগে সর্বনিম্ন ৬৫০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৬৮০ টাকায় ডানোর এক কেজি দুধ কেনা যেত। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ডানো গুঁড়া দুধের দাম বেড়েছে ২২০ টাকা, অর্থাৎ ৩২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
নেসলে নিডো এক কেজি গুঁড়া দুধের দাম এখন ৯৮০ টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ৭০০ টাকা। নিডোর ৩৫০ গ্রামের দুধ কিনতে হলে গুনতে হচ্ছে ৪০০ টাকা। আরলা ডানো এক কেজি দুধের দাম এখন ৯২০ টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ৬২০ টাকা। ফার্ম ফ্রেশ কেজিতে ২০০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫০ টাকায়। প্রাণ ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার এক কেজির দাম ২৫০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৮৪০ টাকা। আড়ং ইনস্ট্যান্ট ফুল ক্রিম গুঁড়া দুধের আধা কেজির দাম ৭৫ টাকা বেড়ে ৪২৫ টাকা হয়েছে। নিউজিল্যান্ড ডেইরি প্রোডাক্টস বাংলাদেশের পণ্য ডিপ্লোমা ফুল ক্রিম গুঁড়া দুধ প্রতি কেজির দাম ছয় মাসে ১৭০ টাকা বেড়ে ৮৪০ টাকা হয়েছে।
ডিপ্লোমা (নিউজিল্যান্ড) ব্র্যান্ডের এক কেজির সর্বনিম্ন দাম ৮২০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৮৫০ টাকা, এক বছর আগে যা সর্বনিম্ন ৬৪০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৬৭০ টাকায় কেনা যেত। এ হিসাবে বছর ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২৭ শতাংশ। মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ ব্র্যান্ডের এক কেজি গুঁড়া দুধ কিনতে বর্তমানে গুনতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৪০ টাকা। এক বছরে দাম বেড়েছে ২৫০ টাকা। আবুল খায়ের গ্রুপের মার্কস ব্র্যান্ডের এক কেজি দুধের দাম এখন ৮০০ থেকে ৮২০ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এ পণ্যের দাম বেড়েছে ২০০ টাকা বা ৩২ শতাংশ।
দুধের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (আন্তর্জাতিক বাণিজ্য) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের যে আঘাতটা বাংলাদেশের ওপর পড়েছে, সেটার কারণে দাম বাড়ছে। এ ছাড়া মেগা প্রকল্পগুলোর কারণে সরকারি ভ্যাট-ট্যাক্সের পরিমাণ বেশি নেয়া হচ্ছে। সেটার পণ্যের দামের ওপর একটা প্রভাব ফেলছে।’


