Homeসংবাদকুমিল্লায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা

কুমিল্লায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

কুমিল্লায় সংকেত বিভ্রাটে যাত্রী ও মালবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় উভয় ট্রেনের ৬টি বগি লাইনচ্যুত হয়। রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

নাঙ্গলকোট রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার জামাল হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার পর থেকে ঢাকা-চাঁদপুর অভিমুখী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

রেলওয়ে পুলিশ ও যাত্রীরা জানিয়েছেন, রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কুমিল্লার লাঙ্গলকোটে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল উপজেলার হাসানপুর রেলস্টেশনের পাশে। যাত্রীবাহী ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সোনার বাংলা এক্সপ্রেস।

লাকসাম রেলওয়ে থানার ইনচার্জ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, ট্রেনটিতে ৫৮৪জন যাত্রী ছিলেন। রাত ১২টা ১০ মিনিটে এটি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল।

দুর্ঘটনার পর থেকে হাসানপুর রেলস্টেশনের কর্মকর্তারা পলাতক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল মালবাহী ট্রেনটি। এ সময় সোনার বাংলা ট্রেন এতে ধাক্কা দেয়। আহতদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে তিনজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন, জিআরপি পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক তানবীর, পুলিশ সদস্য আবসার, সোনার বাংলা ট্রেনের অ্যাটেনডেন্ট সাইদুর রহমান।

দুর্ঘটনার দেড় ঘন্টা পর লাকসাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে তল্লাশি চালান। রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি।

আহত ও সোনার বাংলা ট্রেনে কর্মরত জিআরপি পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক তানবীর বলেন, সন্ধ্যায় ফেনী রেলস্টেশনে ট্রেনের গতি কমিয়ে তারা ইফতার সামগ্রী কেনেন। হাসানপুর রেলস্টেশনে প্রবেশের আগে হঠাৎ ট্রেনটি আঁকাবাকা হয়ে দুলতে থাকে। এরপর বিকট শব্দ হয়। পরে দেখেন ট্রেনটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

রেলওয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, হাসানপুর রেলস্টেশন মাস্টারের দায়িত্ব অবহেলায় ২ নম্বর লাইনে সিগনাল পয়েন্ট ঠিক করতে দেরি হয়। ওই লাইনে আসার কথা ছিল সোনারবাংলা এক্সপ্রেসের। এর আগে থেকেই ঢাকামুখী মালবাহী ট্রেনটি হাসানপুর স্টেশনের চার নম্বর ফ্ল্যাটফর্মে দাঁড়ায়। এর কিছুক্ষণ পর ফেনী স্টেশন অতিক্রম করে ঢাকা অভিমুখী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস। এর মাঝেই হাসানপুর রেল স্টেশনে বিদ্যুৎ চলে যায়। পাঁচ থেকে ছয় মিনিটের মধ্যে জেনারটর সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়। হাসানপুর স্টেশনে দায়িত্বরতরা ম্যানুয়ালি সোনার বাংলা ট্রেনটিকে এক নম্বর লাইনে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অন্যদিকে স্বয়ংক্রিয় সংকেত পেয়ে সোনার বাংলা ট্রেনটি চার নম্বর লাইনে প্রবেশ করে। তখন সংঘর্ষ হয়।

আরেকটি সূত্রে জানা যায়, মালবাহী ট্রেনটি ফাউলিং মার্কে (স্টেশনের নিরাপদ সীমানা, ২২০ মিটার দূরত্বে) দাঁড়ানো ছিল। নিয়মানুসারে লাইন ক্লিয়ার করে একইমুখী ট্রেন ছাড়ার কথা। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত গার্ড সঠিক সংকেত দিতে ব্যর্থ হন।

সোনার বাংলার যাত্রী সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা ইফতার শেষ করলাম। এমন সময় বিকট শব্দ। এক সময় মনে হলো আমরা আকাশে উঠে যাচ্ছি। পরে মানুষের চিৎকার কানে এলো। দেখলাম আমাদের ট্রেন অন্য ট্রেনের ওপরে উঠে গেছে।’

লাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান মেহেবুব রাত নয়টার দিকে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকে রেলস্টেশনে অবস্থান করছেন। তখন পর্যন্ত নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। আহত ৫০ জনের মধ্যে ঢালুয়ার একটি ফার্মেসিতে প্রায় ২০জন যাত্রী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যদের উদ্ধার করে লাকসাম এবং কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়