Homeসংবাদআট পুলিশের বিরুদ্ধে প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন

আট পুলিশের বিরুদ্ধে প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় গুলি করে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

আট পুলিশের বিরুদ্ধে প্রথম তদন্ত প্রতিবেদনগত রবিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলনে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে যেসব মামলা হয়েছে, তার মধ্যে এটিই প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন।

গতকাল সোমবার এ নিয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

ব্রিফিংয়ে তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটরের তথ্য মতে, প্রতিবেদনটি ৯০ পৃষ্ঠার। এতে সাক্ষী হিসেবে ৭৯ জনের জবানবন্দি, ১৯টি ভিডিও ফুটেজের বর্ণনা, বিভিন্ন প্রত্রিকায় প্রকাশিত ১১টি প্রতিবেদন, দুটি অডিও রেকর্ডের অনুলিপি, ছয়টি ডেথ সার্টিফিকেট এবং আরো ১১টি দালিলিক নথি রয়েছে। মামলাটির তদন্তকাজ শেষ করতে সময় লেগেছে ছয় মাস ১৩ দিন।

তদন্ত প্রতিবেদনের অভিযোগে বলা হয়, ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আসামিরা নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়াকে গুলি করে হত্যা করে।

হাবিবুর রহমান ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা জোনের সাবেক এডিসি শাহ আলম মো. আকতারুল ইসলাম ও এসি মো. ইমরুল, শাহবাগ থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল সুজন, ইমাজ হোসেন ও নাসিরুল ইসলাম। তাঁদের মধ্যে চারজন পলাতক।

শেখ হাসিনাকে যে কারণে আসামি করা হয়নি : তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের কথা তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের নির্দেশে মাঠ পর্যায়ে থেকে ওই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে ছয়জনকে হত্যা করেন আসামিরা।

তিনি বলেন, ‘আমরা তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। আজ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাইয়ের পর ফর্মাল চার্জ দাখিল করা হবে।’

চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পৃক্ততা পেলেও তাঁদের কেন আসামি করা হয়নি, তা ব্রিফিংয়ে তুলে ধরেন তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘যেহেতু তাঁদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির (ঊর্ধ্বতনের আদেশ-নির্দেশের দায়ের) তদন্ত চলছে, সে জন্য তাঁদের এই মামলায় আসামি করা হয়নি।

তবে নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনার যে ভূমিকা রয়েছে তাঁদের, সেটার বর্ণনা এই তদন্ত প্রতিবেদনে রয়েছে। শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে মাঠ পর্যায়ে থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য, আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতাকর্মীরা তা বাস্তবায়ন করেছেন।’

জুলাই-আগস্টে গণ-আন্দোলনের সময় চানখাঁরপুল এলাকায় আরো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, ‘সেসব ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িত, এসব অপরাধের তদন্ত চলছে। তদন্ত সম্পন্ন হলেই প্রতিবেদন দাখিল করবে তদন্ত সংস্থা। যেহেতু ছয়জনকে হত্যার ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রথম সম্পন্ন হয়েছে, সে জন্য এটি প্রথম দাখিল করা হয়েছে।’

সাভারের আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর মামলার তদন্ত নিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। তদন্ত শেষ হয়েছে। এখন ফাইনাল টাচ চলছে। এই প্রতিবেদন পেয়ে গেলে চানখাঁরপুল ও আশুলিয়ার ঘটনার বিচার একই সময়ে করা সম্ভব হবে।’

গত ১০ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের খবর সংগ্রহকারী গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ, মামলার তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তারের হালনাগাদ তথ্যের এক প্রতিবেদন তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

সেখানে বলা হয়, ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এখন পর্যন্ত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ৩৩০টি অভিযোগ জমা পড়েছে ট্রাইব্যুনালে। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের পর ৩৯টি অভিযোগের তদন্ত চলছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় ২২টি মিসকেস (বিবিধ মামলা) দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্ত ১৪১ জন। প্রসিকিউশনের আবেদনে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরোয়ানা জারির পর ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ৮৭ জন পলাতক।

১৪১ জনের মধ্যে বেসামরিক ব্যক্তি ৭০ জন, পুলিশ সদস্য ৬২ জন এবং সামরিক বাহিনীর ৯ জন সদস্য রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়