শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬
spot_img
Homeসংবাদইরানে স্থল অভিযানে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে স্থল অভিযানে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

১৯৪১ সালের পর থেকে আর কখনো ইরানকে জয় করা যায়নি। সে বছর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সেনাবাহিনী তাদের আকাশ, স্থল ও নৌ শক্তি একত্র করে ইরানে হামলা চালায়। লক্ষ্য ছিল তৎকালীন শাসক রেজা শাহর গড়ে তোলা দুর্বল ও অনুন্নত সামরিক বাহিনীকে দ্রুত পরাজিত করা।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন সেই ব্রিটিশ-রুশ আগ্রাসনের সাফল্য অনুসরণ করতে চাইছেন। সংঘাত শুরুর পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ৫ হাজার মার্কিন মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে। এই সেনারা জাপান থেকে সংঘাতময় ওই অঞ্চলে যাবে। ট্রাম্প গত রাতে সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধ তখনই শেষ হবে ‘যখন আমি তা অনুভব করব।’ অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ‘যত দূর প্রয়োজন, তত দূর যেতে প্রস্তুত।’

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট গত সপ্তাহে বলেছিলেন, স্থল অভিযান ‘এই মুহূর্তে পরিকল্পনার অংশ নয়।’ কিন্তু সেই বক্তব্যের পরও মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ইরানে আক্রমণ চালানো অত্যন্ত কঠিন বলে কুখ্যাত, মূলত এর কঠোর ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে।

দেশটিতে বিস্তীর্ণ লবণাক্ত সমতলভূমি, ঘন ও জলাভূমিময় এলাকা এবং পাথুরে পর্বতমালার দীর্ঘ শৃঙ্খল রয়েছে, যা পুরো দেশটিকে একটি প্রাকৃতিক দুর্গে পরিণত করেছে। এই দুর্গের ভেতর অসংখ্য সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনা লুকিয়ে আছে।

দক্ষিণে অবস্থিত হরমুজ প্রণালির ওপর প্রাধান্যও বড় কৌশলগত সুবিধা দেয় দেশটিকে। ফলে ওমান উপসাগর বা পারস্য উপসাগরে থাকা শত্রুপক্ষের জাহাজ সহজেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন পরিবেশের মুখোমুখি হতে পারে যা আফগানিস্তান, ইরাক এমনকি ভিয়েতনামের চেয়েও কঠিন।

ইরান থেকেই কি শুরু হবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধইরান থেকেই কি শুরু হবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ
তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহে বিশ্লেষক কাজাতাই বালচি লিখেছেন, ‘একটি পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধ মিলিয়েও যত কৌশলগত ক্ষতি হয়েছে, তার চেয়েও বেশি ব্যয়বহুল হতে পারে।’

ইরান বিশ্বের বৃহত্তম দেশগুলোর একটি, যার আয়তন প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার বর্গমাইলের বেশি। এর মোট ভূমি ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, স্পেন ও পর্তুগালের সম্মিলিত আয়তনের চেয়েও বড়। জনসংখ্যার দিক থেকেও এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দেশ, যেখানে ৯ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ বাস করে।

পাশের দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে বোঝা যায় কেন ইরান মধ্যপ্রাচ্যে এত প্রভাবশালী। এটি ইরাকের চেয়ে চার গুণ এবং আফগানিস্তানের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বড়। একই সঙ্গে জনসংখ্যাও এই দুই দেশের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। দেশটির প্রায় পুরো ভূখণ্ডই হাইল্যান্ড বা উচ্চভূমি। রাজধানী তেহরান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। তুলনায় লন্ডনের সর্বোচ্চ উচ্চতা মাত্র ১৩৯ ফুট।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ক্লাস্টার ওয়ারহেড, চ্যালেঞ্জের মুখে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ক্লাস্টার ওয়ারহেড, চ্যালেঞ্জের মুখে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
মার্কিন বিমানবাহিনীর মেডিকেল সার্ভিসের মতে, ৪ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় কাজ করা সামরিক সদস্যদের মধ্যে তীব্র উচ্চতাজনিত অসুস্থতা (অ্যাকিউট মাউন্টেইন সিকনেস) এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস দেখা দিতে পারে। এ ধরনের পরিবেশে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও অভিযোজন প্রয়োজন, যা একটি পূর্ণাঙ্গ স্থল আক্রমণের ক্ষেত্রে সম্ভব নাও হতে পারে।

ইরান শুধু বড় ও উঁচু দেশই নয়, এর অধিকাংশ অঞ্চলই পর্বতময়। দেশটিতে তিনটি প্রধান পর্বতমালা রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় জাগরোস পর্বতমালা। এটি তুরস্ক সীমান্তসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে প্রায় ৯৯০ মাইল বিস্তৃত হয়ে হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী বন্দর আব্বাস পর্যন্ত পৌঁছেছে। এটি পারস্য উপসাগরের ওপর উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দরগুলোর একটি অংশ অবস্থিত।

এই পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট দেনা, যার উচ্চতা ১৪ হাজার ৪৬৫ ফুট। কাস্পিয়ান সাগরের তীরে আলবুর্জ পর্বতমালা রয়েছে, যা তেহরানের উত্তর দিককে প্রাকৃতিক সুরক্ষা দেয়। এই পর্বতমালাতেই ইরানের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট দামাভান্দ অবস্থিত, যার উচ্চতা ১৮ হাজার ৪০৫ ফুট। এ ছাড়া রয়েছে মাকরান পর্বতমালা, যা ওমান উপসাগর সংলগ্ন ইরানের অংশজুড়ে বিস্তৃত।

ইরানের অল-আউট গেমপ্ল্যান: লক্ষ্য বিশ্ব অর্থনীতির শ্বাসরোধ করে মার্কিন অহংকারকে নতজানু করাইরানের অল-আউট গেমপ্ল্যান: লক্ষ্য বিশ্ব অর্থনীতির শ্বাসরোধ করে মার্কিন অহংকারকে নতজানু করা
ইরানের জনসংখ্যার বড় অংশ এসব পর্বতমালা এলাকায় বসবাস করে। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইরানের অধিকাংশ সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাও এই তিন পর্বতমালাজুড়ে ছড়িয়ে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। পর্বতে যুদ্ধ পরিচালনা অত্যন্ত কঠিন। ন্যাটোর মাউন্টেইন ওয়ারফেয়ার সেন্টার অব এক্সেলেন্সের মতে, সেখানে প্রবেশের অসুবিধা, দুর্গম ভূখণ্ড, চরম আবহাওয়া এবং উচ্চতার কারণে ব্যাপক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়।

এই পরিবেশে সৈন্য ও সামরিক যানবাহনকে খাঁড়া ঢাল, সরু পথ এবং মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। ফলে ন্যাটো সুপারিশ করে, সেনাবাহিনীকে ছোট ছোট ইউনিটে ভাগ করে কাজ করতে হবে, যাতে তারা দ্রুত ও নমনীয়ভাবে চলাচল করতে পারে। কিন্তু এতে প্রতিটি ইউনিট শত্রুপক্ষের দ্বারা সহজে ঘিরে পড়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রকাশনা ১৯৪৫—এর সামরিক সম্পাদক ক্রিস ওসবার্ন সতর্ক করে বলেছেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস সহজেই বিপুলসংখ্যক যোদ্ধা মোতায়েন করতে পারবে, যারা গেরিলা যুদ্ধে প্রশিক্ষিত এবং নিজেদের ভূখণ্ড সম্পর্কে আক্রমণকারী বাহিনীর চেয়ে অনেক বেশি জানে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের প্রচলিত সেনাবাহিনীকে পরাজিতও করে, তবুও এই অনিয়মিত বাহিনী বহু বছর ধরে লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে।’

ইরানের সীমান্তের যে অংশটি উচ্চভূমি নয়, সেটি হলো খুজেস্তান প্রদেশ, যা পারস্য উপসাগরের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত। তবে সেখানে আক্রমণ চালাতে গেলেও আক্রমণকারী বাহিনীকে ভিন্ন ধরনের, কিন্তু সমান কঠিন আরেক সমস্যার মুখে পড়তে হবে।

নিজের শুরু করা সংঘাত ট্রাম্পের গলার কাঁটা, এখন বন্ধ করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্য হারাবে যানিজের শুরু করা সংঘাত ট্রাম্পের গলার কাঁটা, এখন বন্ধ করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্য হারাবে যা
এই অঞ্চলটি বিস্তৃত জলাভূমির জন্য পরিচিত। সবচেয়ে বড়গুলোর মধ্যে রয়েছে শাদেগান পন্ডস, যা প্রায় ৪ লাখ হেক্টর জুড়ে বিস্তৃত একাধিক জলাভূমির সমষ্টি। জলাভূমি দিয়ে অগ্রসর হওয়া আক্রমণকারী বাহিনীর জন্য কুখ্যাতভাবে কঠিন। ট্যাংকের মতো ভারী যান সহজেই জলসিক্ত মাটিতে আটকে যেতে পারে। এ ছাড়া জলাভূমির আশপাশের ভূখণ্ড সাধারণ স্থলযানের জন্য অতিরিক্ত জটিল, আবার নৌযানের জন্য অনেক সময় অতিরিক্ত অগভীর।

যদি কোনো আক্রমণকারী সেনা হেঁটে জলাভূমি পার হওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাদের নির্দিষ্ট পথ ধরেই চলতে হবে। এতে তারা ইরানি সেনাদের জন্য সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠবে, কারণ স্থানীয় ভূখণ্ড সম্পর্কে ইরানি সৈন্যরা নিজেদের হাতের তালুর মতোই পরিচিত।

কিন্তু যদি যুক্তরাষ্ট্র ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের কৌশল অনুসরণ করে ইরানে প্যারাট্রুপার দিয়ে আকাশপথে আক্রমণ চালায়—সে ক্ষেত্রে ফলাফল কী হবে? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অপারেশন ওভারলর্ডের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নরম্যান্ডিতে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো দখলের জন্য প্রায় ১৭ হাজার প্যারাট্রুপার ও গ্লাইডার নামিয়েছিল।

নরম্যান্ডিতে এয়ারহেড প্রতিষ্ঠা করার ফলে মিত্রবাহিনী পরে উভচর যান নামাতে পেরেছিল। তবে এমন কৌশল সফল করতে হলে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের জলসীমায় পূর্ণ আধিপত্য প্রয়োজন। হরমুজ প্রণালি ইতিমধ্যেই ইরানি নৌযানে পরিপূর্ণ, যারা উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের দিকে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা তেলবাহী জাহাজগুলোকে আক্রমণাত্মকভাবে তাড়া করছে।

হরমুজ প্রণালি এত সহজে কীভাবে বন্ধ করতে পারল ইরানহরমুজ প্রণালি এত সহজে কীভাবে বন্ধ করতে পারল ইরান
এই জলপথ বিশ্ব তেল বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথ, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। কিন্তু চলমান যুদ্ধের কারণে তেল পরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এই পথে। ইরান মঙ্গলবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট ‘এক লিটার তেলও’ বেরত হতে দেবে না।

এ ছাড়া ইরানের প্রায় পুরো উপকূলজুড়ে রয়েছে খাঁড়া পর্বতমালা। উপকূল থেকে ভূমির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা সমুদ্রপথে আক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। উদাহরণ হিসেবে, নিকশাহর শহরটি ওমান উপসাগর থেকে মাত্র ৬০ মাইল দূরে হলেও এর উচ্চতা ১ হাজার ৬৭৩ ফুট। ফলে আকাশপথে আক্রমণ সফল হলেও, ইরানের বিশাল আয়তন ও ভূপ্রকৃতি সমুদ্রপথ থেকে পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ পরিচালনাকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলবে।

ইরানে দুটি বড় লবণাক্ত মরুভূমিও রয়েছে—দাশত-ই কাবির এবং দাশত-ই লুত। এ দুটির মোট আয়তন প্রায় ৫০ হাজার বর্গমাইল, যা মূলত দেশের কেন্দ্র ও পূর্বাঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত। এগুলো দেশের কয়েকটি অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম, যেখানে উল্লেখযোগ্য উচ্চতা নেই। তবে মরুভূমিতে যুদ্ধের নিজস্ব সমস্যা রয়েছে। সাধারণত মরুভূমিতে অবকাঠামো খুবই দুর্বল থাকে, ফলে সৈন্য ও সরঞ্জাম সরানো কঠিন হয়।

মরুভূমিতে পানি প্রায় থাকে না, পুরো সেনাবাহিনীকে টিকিয়ে রাখার মতো তো নয়ই। পর্যাপ্ত পানির উৎস খুঁজে বের করা এবং তা বজায় রাখা আক্রমণকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। দাশত-ই কাবিরে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা এ ধরনের পরিবেশে অভ্যস্ত নয় এমন সৈন্যদের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করবে।

ইরান যুদ্ধ যেভাবে আরও জটিল, দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারেইরান যুদ্ধ যেভাবে আরও জটিল, দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে
আবার মরুভূমিতে রাতের বেলায় তাপমাত্রা দ্রুত নেমে যায়। বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় তাপমাত্রা খুব অস্থিতিশীল থাকে। ফলে রাতের ঠান্ডাও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপ্রত্যাশিত সমস্যা হয়ে উঠতে পারে, যদি তারা আক্রমণ চালায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় লবণাক্ত সমভূমিতে চলাচলের সমস্যা। লবণের ধুলো অত্যন্ত ক্ষয়কারী, যা দ্রুত সুরক্ষামূলক উপকরণ, যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম নষ্ট করে দিতে পারে।

ইরানের প্রাকৃতিক ভূপ্রকৃতি তাকে এক শক্ত প্রতিপক্ষ বানিয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের সাফল্যকে গুরুতরভাবে সীমিত করতে পারে। কাতারের এএফজি কলেজের (ইউনিভার্সিটি অব অ্যাবারডিন অধিভুক্ত) অধ্যাপক থমাস বনি জেমস আল জাজিরাকে বলেন, পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ সম্ভব নাও হতে পারে, তবে ইরানের পারমাণবিক উপকরণ সরিয়ে নেওয়ার জন্য সীমিত অভিযান তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘ছোট বিশেষায়িত ইউনিট দিয়ে নির্দিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে সীমিত অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনাই বেশি, যা দ্রুত মোতায়েনযোগ্য বাহিনী, যেমন ৮২ তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন, দ্বারা সমর্থিত হতে পারে।’

এটি ট্রাম্পের ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে। জেমস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সেনা পাঠায়, তবে তাদের লক্ষ্য হবে গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো, যেমন নাতাঞ্জ নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটি, ফোর্দো ফুয়েল এনরিচমেন্ট প্ল্যান্ট এবং ইসফাহান নিউক্লিয়ার টেকনোলজি সেন্টার।

তিনি বলেন, এতে ‘সুরক্ষিত স্থাপনায় অনুপ্রবেশ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, এবং সংবেদনশীল পারমাণবিক উপকরণ খুঁজে বের করা বা নিরাপদ করা’ অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যেখানে গতি, নিখুঁত কৌশল এবং কম সময় অবস্থানের ওপর জোর দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো সীমিত স্থল অভিযান শুরু হবে আকাশে আধিপত্য অর্জন এবং ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দমন করার মাধ্যমে, যাতে বিমান ও সহায়ক বাহিনী নিরাপদে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারে।’

এরপর দ্রুত প্রত্যাহারের মাধ্যমে অভিযান শেষ হবে। মার্কিন সেনারা দ্রুত নির্ধারিত স্থানে গিয়ে দেশ ত্যাগ করবে। তবে এতে সংঘাতের সমাপ্তি ঘটবে না বলে সতর্ক করেছেন চ্যাথাম হাউসের নীল কুইলিয়াম। তিনি বলেন, ‘এসব অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। এগুলো পরিচালিত হবে অত্যন্ত বৈরী পরিবেশে এবং এমন সব স্থাপনার বিরুদ্ধে, যেগুলো দেশের নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা কঠোরভাবে সুরক্ষিত।’

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়