Wednesday, July 1, 2026
spot_img
Homeসংবাদআন্তর্জাতিকআতঙ্ক বাড়াচ্ছে অ্যাডিনো ভাইরাস, আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

আতঙ্ক বাড়াচ্ছে অ্যাডিনো ভাইরাস, আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এলেও কলকাতায় নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে অ্যাডিনো ভাইরাস। গত ২৪ ঘণ্টায় অ্যাডিনো ভাইরাসের সংক্রমণে কলকাতার বি সি রায় শিশু হাসপাতালে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে গত জানুয়ারি থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অ্যাডিনো ভাইরাসের সংক্রমণে কলকাতায় মোট ৫৬ শিশুর মৃত্যু হলো। সবার বয়স দুই বছরের কম।

বি সি রায় হাসপাতাল সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মৃত্যু হয় শাসনের বাসিন্দা ১১ মাস বয়সী এক মেয়ে শিশুর। সকালে বারাসতের বাসিন্দা ১০ মাসের শিশুকন্যা, দুপুরে হাবড়ার এক বছর তিন মাসের একরত্তি এবং বারাসতের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

অ্যাডিনোসহ নানা ভাইরাসের আক্রমণে কলকাতা শহরের প্রায় সব হাসপাতালে শিশুরোগ বিভাগের শয্যা ভর্তি হয়েছে। বর্হিবিভাগেও হু হু করে বাড়ছে রোগী। হাসপাতালের ওপর থেকে চাপ কমাতে এবার টেলি-মেডিসিনের ওপরে জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর। গরম পড়ায় ভাইরাসটির প্রকোপ কমে আসবে বলে আশার আলো দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বছর চালু হওয়া টেলিমেডিসিন প্রকল্প ‘স্বাস্থ্য ইঙ্গিত’কে আরও মজবুত করতে নির্দেশকা জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, শিশুদের জ্বর-সর্দি-কাশির চিকিৎসাতেও ভালোভাবে ব্যবহার করতে হবে এই সেবা। যাতে জেলার প্রত্যন্ত জায়গার হাসপাতালও তাদের কাছে ভর্তি থাকা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুরোগীর চিকিৎসায় বিসিরায় বা অন্য কোনও মেডিকেল কলেজের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারে।

এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশনে আক্রান্ত শিশুকে বড় হাসপাতালে নিয়ে আসতে অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যায়। তাতে রোগী আরও সঙ্কটজনক হয়েছে। সেখানে টেলিমেডিসিন পরিষেবাকে আরও ভালোভাবে ব্যবহার করলে সুফল মিলবে।’

অল বেঙ্গল প্যারামেডিকস অ্যান্ড মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টস সংগঠনের সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী বলেন, ‘টেলিমেডিসিন প্রকল্পে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ ভালো পরিষেবা পাচ্ছেন। শিশুদের জ্বর, শ্বাসকষ্টের চিকিৎসাতেও তা গুরুত্বপূর্ণ হবে।’

চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গরম বাড়তে থাকায় আশার আলো দেখেছেন তারা। তাদের দাবি, তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেলে শিশুরোগ বিভাগে এবং পেডিয়াট্রিক ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিটে রোগীর সংখ্যা কমবে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ নিয়োগী বলেন, ‘প্রতিদিনই পরিস্থিতির ওপরে নজর রাখা হচ্ছে।’

চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা, বারবার আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণেই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ে। কারণ, ওই ধরনের আবহাওয়া যেকোনও ভাইরাসের টিকে থাকায় পক্ষে আদর্শ। তবে পুরোপুরি গরম পড়লে আর আবহাওয়া বারবার পরিবর্তন হবে না। তাতে ভাইরাসের প্রভাব কমে আসবে। যদিও এবার কেন ভাইরাসজনিত অসুখে এতটা বাড়াবাড়ি হল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, করোনার কারণে চাপা পরেছিল অ্যাডিনোসহ নানা ভাইরাস। এ বছর করোনার প্রকোপ কমতেই সমস্যা শুরু করেছে তারা।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়