প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
চট্টগ্রামে যুবলীগের সম্মেলনকে ঘিরে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপে সরগরম শহর। তিন সাংগঠনিক জেলায় শুধুমাত্র সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আগ্রহ দেখিয়ে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন শতাধিক নেতাকর্মী।
আজ শনিবার দক্ষিণ জেলার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে যুবলীগের সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এদিন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (২৯ মে) হাটহজারী উপজেলার পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উত্তর জেলা যুবলীগের সম্মেলন হবে। সোমবার (৩০ মে) নগরীর পাঁচলাইশে কিং অব চিটাগং কনভেনশন সেন্টারে মহানগর যুবলীগের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে টানা তিন দিনের কর্মসূচি শেষ হবে।
সম্মেলন আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় যুবলীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী বেশি হওয়ায় সম্মেলনে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন তারা। এজন্য চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর-দক্ষিণে যুবলীগের বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতারা শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে কিছু সুপারিশ করেন।
এর আলোকে বৃহস্পতিবার যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের একটি নির্দেশনা জারি করেন। এতে বলা হয়েছে, সম্মেলনস্থলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণি ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া আর কারও নামে স্লোগান দেওয়া যাবে না। এছাড়া কোনো ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, পোস্টার নিয়ে প্রবেশ বা প্রদর্শন করা যাবে না।
নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ বলেন, ‘সাড়ে চার হাজার ডেলিগেট, এক হাজার অতিথিসহ মোট সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, হাউজের ভেতরে-বাইরে মিলিয়ে ৩০ হাজারের মতো জনসমাগম হতে পারে।
২০০৩ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে চন্দন ধরকে সভাপতি ও মশিউর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে নগর যুবলীগের কমিটি হয়। সেই কমিটি বিলুপ্ত করে ২০১৩ সালের ৯ জুলাই আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ১০১ সদস্যের কমিটির মেয়াদ ছিল ৯০ দিন। এর মধ্যে সম্মেলন করে নিয়মিত কমিটি করার কথা বলা হলেও গত নয় বছরে তা হয়নি।
যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৩০ মে অনুষ্ঠেয় নগর যুবলীগের সম্মেলনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ১১৪ জন জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৮ জন সভাপতি এবং ৭৬ জন সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য। পদপত্যাশীদের মধ্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীদের আধিক্য আছে।
সভাপতি পদে নগর যুবলীগের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির দুই যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল হক সুমন ও দিদারুল আলম জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। একই পদে নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম আর আজিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সালাহউদ্দিন, সাবেক ছাত্রনেতা দেবাশীষ পাল দেবু, শেখ নাসির উদ্দিন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দিন ও হাসান মুরাদ বিপ্লব, সুরঞ্জিত বড়ুয়া লাভু, দিদারুল আলম, সুমন দেবনাথসহ আরও কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণি, সাবেক ছাত্রনেতা হাবিবুর রহমান তারেক, আরশেদুল আলম বাচ্চু, সনৎ বড়ুয়া, ইয়াছির আরাফাত, নগর ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, করোনা আইসোলেশান সেন্টারের উদ্যোক্তা মোহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন, আবু নাছের চৌধুরী আজাদ, চবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজনসহ অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদেও সাবেক ছাত্রনেতাদের আধিক্য আছে। এদের অনেকেই আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। উত্তরে সভাপতি পদে নয় জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ২২ জন প্রার্থী হয়েছেন।
উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে জেলা যুবলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম রাশেদুল আলম, উত্তর জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুর রহমান স্বপন, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাজিব উল আহসান সুমন ও চবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির হায়দার করিম বাবুলসহ আরও কয়েকজন আছেন।
সাধারণ সম্পাদক পদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনজুর আলম, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শামসুদ্দোহা সিকদার আরজু, রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ, সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রাশেদ খান মেনন, সন্দ্বীপের মাইটভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, এসএম আল নোমানসহ আরও কয়েকজন।
২০০৩ সালে উত্তর জেলা যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়। সৈয়দ মফিজ উদ্দিন আহমেদকে সভাপতি এবং এস এম শফিউল আজমকে সাধারণ সম্পাদক করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ২০১২ সালে সম্মেলন ছাড়াই এস এম আল মামুনকে সভাপতি ও এস এম রাশেদুল আলমকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সর্বশেষ কমিটি হয়েছে ২০১০ সালে। আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরীকে সভাপতি ও পার্থসারথী চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
এবার দক্ষিণে সভাপতি পদের জন্য ১৩ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ৩৯ জন জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। সভাপতি পদে বোয়ালখালীর পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম জহুর, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক পার্থসারথী চৌধুরী, ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফারুক, নাসির উদ্দিন মিন্টু, মাঈন উদ্দিন চৌধুরী, নুরুল আমিন, চন্দনাইশ যুবলীগের আহ্বায়ক তৌহিদুল আলম, এমএ রহিম আছেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আমিন, আবদুল হান্নান লিটন, মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম, রাজু দাশ হীরু, মাহাবুবুল আলম, এস এম আজিজ ও জাহেদুল ইসলাম।


