Homeমুল পাতাপ্রকাশ্যে এলো এমবিএ ছাত্রের চুরির অভিনব কৌশল

প্রকাশ্যে এলো এমবিএ ছাত্রের চুরির অভিনব কৌশল

প্রাইম ভিশন ডেস্ক 

ভারতের হায়দরাবাদে দাঁড়িয়ে থাকা বিভিন্ন গাড়ির অতিরিক্ত চাকা ও রিম চুরির অভিযোগে এক ২৩ বছর বয়সি এমবিএ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে ১৫টি চাকা উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২টিই মাহিন্দ্রা থার গাড়ির।

রোববার এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২০ অক্টোবর রেথিবোলির গ্যালাক্সি এনক্লেভ অ্যাপার্টমেন্টের সামনে পার্ক করা একটি মাহিন্দ্রা থার গাড়ির অতিরিক্ত চাকা চুরির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। তবে সোবহান কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমবিএ করছেন প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়নি।

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। সেখানে দেখা যায়, সোবহান আলী খান নামের ওই তরুণ একটি স্কুটারে চেপে সেখানে হাজির হন। এরপর চারপাশ ভালো করে দেখে নিয়ে গাড়িটির চাকা খুলে চম্পট দেন।

ফুটেজে দেখা গেছে, প্রথমে স্কুটারে বসে চারপাশ পর্যবেক্ষণ করেন সোবহান। এরপর নেমে কালো রঙের থার গাড়িটির দিকে এগিয়ে যান এবং দরজা খুলে দেখার চেষ্টা করেন। পরে আবার ফিরে এসে নিজের স্কুটারের পাশে দাঁড়িয়ে প্রায় এক মিনিট ধরে অলিগলিতে নজর রাখেন। পরিস্থিতি সুবিধাজনক মনে হতেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে গাড়িটির চাকা খুলে নিয়ে স্কুটার চেপে এলাকা ছাড়েন তিনি।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শনিবার সোবহানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সোবহানের মূল নিশানা ছিল মাহিন্দ্রা থার গাড়িগুলো। আর চুরি করার জন্য তিনি বেশ অভিনব এক পন্থা অবলম্বন করতেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলেন, সোবহান প্রথমে বিভিন্ন চাকা মেরামতের (পাংচার) দোকানে যেতেন। নিজের চাকা পাংচার হয়েছে দাবি করে ২০০ থেকে ৩০০ রুপি জামানত জমা দিয়ে সরঞ্জাম ধারে নিতেন। এরপর গাড়িগুলোর স্টেপনি ও রিম খুলে নিয়ে এসে সরঞ্জাম ফেরত দিয়ে জামানতের টাকা নিয়ে যেতেন।

পুলিশ আরও জানায়, স্প্যানার (হাতুড়ি বা চাবি) ব্যবহার করে খুব সহজেই স্টেপনি খুলে ফেলতে পারতেন তিনি। তার বাবা একটি হুইল-অ্যালাইনমেন্টের দোকানে কাজ করার কারণে আগে থেকেই গাড়ির চাকা খোলা ও লাগানোর বিষয়ে ভালো জানাশোনা ছিল সোবহানের।

আরও পড়ুন
কোর্ট মার্শালে দোষী সাব্যস্ত, বরখাস্ত লে. কর্নেল ফারুখ
কোর্ট মার্শালে দোষী সাব্যস্ত, বরখাস্ত লে. কর্নেল ফারুখ
জিজ্ঞাসাবাদে সোবহান ১০টি থানা এলাকায় মোট ১১টি চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এর মধ্যে আত্তাপুর এলাকার দুটি ঘটনা রয়েছে। এছাড়া ফিল্ম নগর, ল্যাঙ্গার হাউস, গুডিমালকাপুর, সাইফাবাদ, চান্দ্রায়ানগুফতা, চাদরঘাট, ছাত্রিনাকা, মীরপেট ও নারায়ণগুড়া থানা এলাকায় এসব চুরি ঘটে।
উদ্ধার করা ১৫টি চাকার মধ্যে থারের চাকা ছাড়াও দুটি ফোর্ড এন্ডেভার এবং একটি ফোর্ড ইকোস্পোর্ট গাড়ির চাকা রয়েছে।

কবে থেকে সোবহান এই চুরির সঙ্গে যুক্ত, তার সঙ্গে আরও কোনো মামলা জড়িত কিনা এবং চুরি করা চাকাগুলো কোথায় বিক্রি করা হতো—তা নিশ্চিত হতে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে চাকা বিক্রির সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক ও ক্রেতাদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়