প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
কক্সবাজারের উখিয়ায় পুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে দুই জঙ্গি নেতাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র এই দুই সদস্যকে গ্রেফতার করতে গিয়ে প্রতিরোধের মুখে পড়ে এলিট ফোর্স। দুই জঙ্গি নেতা পাহাড়ে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিতেন। সম্প্রতি সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করায় তারা এসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আত্মগোপন করেন।
সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ.ন.ম ইমরান খান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
র্যাবের অভিযানে গ্রেফতার দুই জঙ্গি সদস্য হলেন- মাসুকুর রহমান ওরফে রনবীর ওরফে মাসুদ এবং আবুল বাশার মৃধা ওরফে আলম ওরফে কয়। তাদের মধ্যে রনবীর শুরা সদস্য ও সামরিক শাখার প্রধান। আর বাশার একজন বোমা বিশেষজ্ঞ বলে দাবি র্যাবের। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, পাহাড়ে প্রশিক্ষণরত ৫৫ জনের যে তালিকা তারা প্রকাশ করেছে সেখানে গ্রেফতার আবুল বাশারের নামও রয়েছে।
এই জঙ্গি নেতার বরাত দিয়ে র্যাব জানিয়েছে, গত ৩ অক্টোবর র্যাব এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পর আবুল বাশার ৫৫ জনের দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পাহাড় থেকে পালিয়ে সিলেটে গিয়ে সামরিক শাখার প্রধান রনবীরের কাছে আশ্রয় নেন। পরে তারা দুজন কিছুদিন আগে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে আত্মগোপন করেন।
র্যাব জানিয়েছে, জঙ্গি সংগঠনটির সামরিক শাখার প্রধান রনবীর ওরফে মাসুদ এবং আইইডি বা বোমা বিশেষজ্ঞ মো. আবুল বাশার মৃধা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে সেখানে চিরুনি অভিযান শুরু করে র্যাব। এ সময় র্যাবের সঙ্গে জঙ্গিদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। অবশেষে রনবীর ও বাশার পালানোর চেষ্টাকালে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হন।
র্যাব জানায়, তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড গুলি, একটি ব্যাংক কার্টিজ, দুটি একনলা বন্দুক, ১১টি ১২ বোরের কার্তুজ, একটি খালি খোসা, ১০০ রাউন্ড .২২ বোরের গুলি, একটি মোবাইল, নগদ দুই লাখ ৫৭ হাজার ২৬০ টাকা।তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানায় র্যাব।


