রবিবার, মে ১০, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেযারা নবী রাসূল সাহাবা ওলীদের বিরুদ্ধে কটূক্তি করে তারা পথভ্রষ্ট ও ঈমানহারা

যারা নবী রাসূল সাহাবা ওলীদের বিরুদ্ধে কটূক্তি করে তারা পথভ্রষ্ট ও ঈমানহারা

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্লাজায় আহলে বায়তে রাসূল (দ) স্মরণে ১০ দিনব্যাপী ৩৮ তম আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল গতকাল (২৫ জুলাই) মঙ্গলবার ৬ষ্ঠ দিনে দেশি-বিদেশি আলোচক ও ইসলামী চিন্তাবিদরা আহলে বায়তে রাসূল (দ) সহ নবী রাসূল মহাত্না সাহাবা ও আউলিয়ায়ে কেরামের শান মর্যাদা মাহাত্ম্য নিয়ে কোরআন হাদিসের আলোকে দলিলভিত্তিক বয়ান পেশ করেন।

প্রতিদিনের মতো দূর দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন। গতকাল থেকে বিপুলসংখ্যক মহিলাও পর্দা সহকারে মসজিদের নিচ তলায় মাহফিলে বক্তাদের আলোচনা শোনেন।

মাহফিলে বক্তারা বলেন, সকল নবী রাসূল সাহাবায়ে কেরাম এবং হযরত ইমাম হাসান (রা) ও ইমাম হোসাইন (রা) সহ আহলে বায়তে রাসূলের (দ) সদস্যগণ নিষ্পাপ, ভুল বিচ্যুতির ঊর্ধ্বে এটাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআতের আক্বিদা। আর আউলিয়ায়ে কেরাম হচ্ছেন সুপথপ্রাপ্ত, অনুসরণ অনুকরণযোগ্য ও মানবজাতির সর্ববিধ কল্যাণ ও নাজাতের উসিলা। যারা আহলে বায়তে রাসূলের (দ) অতুলনীয় শান মর্যাদার ওপর কালিমা লেপন করতে চায় তারা সত্য পথ থেকে বিচ্যুত ও ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত। একইভাবে মহাত্মা নবী রাসূল সাহাবা ও আউলিয়ায়ে কেরামের বিরুদ্ধে যারা বিষোদগার ও কটূক্তি করে তারাও বড়ই দুর্ভাগা, পথভ্রষ্ট ও ঈমানহারা বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের খতিব আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের এই শাহাদাতে কারবালা মাহফিল সারা দেশে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। এমনকি এই মাহফিল এখন আন্তর্জাতিক রূপ পেয়েছে। এই জন্য আমরা চট্টগ্রামবাসী গর্ববোধ করি। বিদেশী আলোচক ছিলেন কলিকাতা ভারত থেকে আগত আল্লামা সাখাওয়াত হোসাইন বারকাতি। এলানে হক বা সত্যের আহবান বিষয়ে আলোচনাকালে তিনি বলেন, ইয়াজিদের তাঁবুতেও নামাজ আজান ছিল। অন্যদিকে ইমাম হোসাইনের (রা) কাফেলাতেও জামাতে নামাজ আদায় করেছেন নবীপরিবারের সদস্যরা। কিন্তু ইয়াজিদিদের নামাজের মধ্যে আহলে বায়তে রাসুলের (দ) তাজিম ও স্মরণ না থাকায় সেই নামাজ আল্লাহ পাকের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। সত্যিকার নামাজি ছিলেন হোসাইনি কাফেলার সদস্যগণ। যেহেতু তাঁদের নামাজে নবীপ্রেম ও আহলে বায়তের (দ) স্মরণ ও তাজিম ছিল।

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব গবেষক আলহাজ¦ সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি, প্রিয় নবীর (দ) নৈকট্য এবং আহলে বায়তে রাসূলের (দ) অনুগ্রহ লাভ করার জন্যই ৩৮ বছর ধরে জমিয়তুল ফালাহর এই শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের আয়োজন। এই মাহফিলের মাধ্যমে হকপন্থী মুুক্তি প্রত্যাশী মানুষ সত্যের দিশা পাচ্ছে।

আজকের ফেতনা ফাসাদের বড় দুঃসময়ে ঈমান আক্বিদা সুরক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। খতিবে বাঙাল অধ্যক্ষ আল্লামা জালাল উদ্দীন আলকাদেরীর (রহ) অসামান্য দ্বীনি খেদমতের দৃষ্টান্ত মহররম মাসের ১০ দিনব্যাপী এ শাহাদাতে কারবালা মাহফিল। এজন্য তিনি প্রবহমান পুণ্য তথা অশেষ সওয়াব পাবেন কবরে হাশরে। আহলে বায়তের প্রতি ইমামগণের ভালোবাসা বিষয়ে আলোচনা করেন নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস আল্লামা মুহাম্মদ এনামুল হক সিকদার। তিনি বলেন, যুগে যুগে সকল বুজুর্গ ইমামগণ আহলে বায়তে রাসুলের (দ) প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তাঁদের লেখনী ও বক্তব্যে আহলে বায়তের প্রতি তাজিম ও মহব্বত ফুটে উঠেছে। আহলে বায়তে রাসুলের (দ) প্রতি তাজিম ও ভালোবাসা ঈমানের দাবি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচক আল্লামা আব্দুল মোস্তফা আব্দুর রহিম আজহারি বলেন, আহলে বায়তে রাসূল (দ) ও শানে সাহাবাকে তুলে ধরতেই এই শাহাদাতে কারবালা মাহফিল। ইসলামের নামে ফেতনা ফাসাদে লিপ্ত সব বাতিলদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের সচেতন করাই এ মাহফিল আয়োজনের মূল লক্ষ্য। মাহফিলে অতিথি ছিলেন, আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ¦ মোহাম্মদ মহসিন, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আলহাজ¦ পেয়ার মোহাম্মদ, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ বোরহানুল হাসান চৌধুরী, শাহাজাদা আমিন উদ্দিন খান আব্দুল্লাহ, শাহ সুফি মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা আমিরভাণ্ডারী, কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মুহাম্মদ বেলাল, জামেয়ার শিক্ষক মাওলানা মুহাম্মদ জসীম উদ্দিন আলকাদেরী।

মাহফিল সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক আল্লামা ড. মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ ও জমিয়তুল ফালাহর পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আহমদুল হক। এছাড়া মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের শীর্ষস্থানীয়সহ সর্বস্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দরবারের সাজ্জাদানশীন, আওলাদবৃন্দ, বিভিন্ন মাদ্রাসার আলেমদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহফিলের প্রধান সমন্বয়ক পিএইচপি ফ্যামিলির পরিচালক আলহাজ¦ মোহাম্মদ আলী হোসেন সোহাগ, খোরশেদুর রহমান, সিরাজুল মুস্তফা, মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন, জাফর আহমদ সওদাগর, প্রফেসর কামাল উদ্দিন আহমদ, আব্দুল হাই মাসুম, আলহাজ¦ দিলশাদ আহমদ, ছাবের আহমদ চিশতী, মোহাম্মদ ছালামত উল্লাহ, মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিকদার, এস এম শফি, গাজী মুহাম্মদ ইদ্রিচ চেয়ারম্যান, মাহাবুবুল আলম, আব্দুর রহমান, মাইনুদ্দীন মিঠু, মোহাম্মদ ফরিদ মিয়া, শাহাব উদ্দিন, জহির উদ্দিন, খোরশেদ আালী চৌধুরী, নাজিব আশরাফ প্রমুখ। মিলাদ কিয়াম শেষে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, দেশ ও বিশ^বাসীর শান্তি সমৃদ্ধি এবং যুদ্ধ সংঘাত হানাহনি থেকে বৈশি^ক শান্তি কামনায় মুনাজাত করা হয়। মসজিদের নিচতলায় পর্দা সহকারে মহিলাদের মাহফিলে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। মাহফিল সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে sufitv.com, www.shahadat-e-karbala.com.

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়