রবিবার, মে ১০, ২০২৬
spot_img
Homeসংবাদঅপপ্রচার চলছে, সতর্ক থাকুন: রাষ্ট্রদূতদের প্রধানমন্ত্রী

অপপ্রচার চলছে, সতর্ক থাকুন: রাষ্ট্রদূতদের প্রধানমন্ত্রী

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে জানিয়ে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশ সম্পর্কে যেন বিদেশে ভুল বার্তা না যায় সে ব্যাপারে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় ইতালির রাজধানী রোমে ইউরোপে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

নির্দেশনামূলক বক্তব্যে রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বলতে চাই, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের কাছে অপপ্রচারসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা। যদি এটা করা হয়, তাহলে মিথ্যা রটনাকারীরা বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো সুযোগ পাবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব জায়গায় আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়েছে, সেই জায়গাগুলোতে আমাদের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত, যাতে তারাও অপপ্রচার এবং ভুল তথ্যের শিকার হয়ে বিভ্রান্ত না হয়।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘কিছু লোক আছে যারা অপরাধ করে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তারা দেশের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। যারা কখনোই দেশকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে পারেনি, এমন কিছু লোক এবং কিছু অপরাধী যারা অপরাধ করে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তারা দেশের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির চরিত্র অগ্নিসন্ত্রাস। নির্বাচন ঠেকানোর নামে তারা ৫০০ ভোটকেন্দ্র জ্বালিয়ে দিয়েছে। ২৯টি ট্রেনে আগুন দিয়েছে। বাস জ্বালিয়েছে, মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। তারা আবার মানবাধিকারের কথা বলে। অথচ আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব- এটা আমাদের স্লোগান। আমরা ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে নিয়োজিত, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর ফলে তারা আস্থা হারিয়ে ফেলে।’

এটি মানুষকে তাদের অপরাধপ্রবণতা বাড়াতে উৎসাহিত করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে প্রতিরোধ করেছিল, তাদের ওপরই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। কিসের জন্য এটা করা হলো?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা একদিকে মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য আওয়াজ তুলছেন, অন্যদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের পক্ষে কথা বলছেন। এই দ্বিচারিতা চলছে বিশ্বময়।’

প্রধানমন্ত্রী মানবাধিকারের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘মানবাধিকার রক্ষা কেউ করলে, সেটা আওয়ামী লীগই করে, আর যারা মানবাধিকারের কথা বলে- তারা মানুষ হত্যা করে।’

দেশের নাম উল্লেখ না করে শেখ হাসিনা বলেন,যারা তার বাবা-মা, ভাই, আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের গুলি করে হত্যা করেছে, তারা এখনো সে দেশে পলাতক রয়েছে। তিনি বলেন, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা খুনিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়নি। তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের সুরক্ষা দেওয়া এবং যারা মানবাধিকার রক্ষা করে, তাদের বিরুদ্ধে যাওয়া- আমি এটিকে একটি খেলা হিসাবে দেখি।’

সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়