প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে গতকাল রাত থেকে ঘিরে রাখা বাড়িটি থেকে নারী, শিশুসহ ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে চারজন পুরুষ, ছয়জন নারী ও তিন শিশু।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে উপজেলার ১৩ নম্বর কর্মধা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি টাট্টিউলি গ্রামের বাইশালীবাড়ি এলাকার ওই বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। আজ শনিবার (১২ আগস্ট) সকাল ৭টায় অভিযান শুরু করে সিটিটিসি।
শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ব্রিফিংয়ে সিটিটিসির প্রধান মো. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
আটকরা হলেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার দক্ষিণ নলতা গ্রামের ওমর আলীর ছেলে শরীফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার কানলা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে হাফিজ উল্লাহ, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলার রসুলপুর গ্রামের নজরুলের ছেলে খায়রুল ইসলাম, তার স্ত্রী মেঘনা, তাদের এক বছর বয়সি কন্যাশিশু, সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার মাইজবাড়ি গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে রাফিউল ইসলাম, পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের আব্দুস ছত্তারের স্ত্রী শাপলা বেগম, তার দেড় বছর ও ছয় মাস বয়সি দুই কন্যাশিশু, নাটোরের সদর উপজেলার চাদপুর গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে ও সোহেল তানজীম রানার স্ত্রী মাইশা ইসলাম, বগুড়ার শরিয়াকান্দি উপজেলার আব্দুল জলিলের মেয়ে ও সুমন মিয়ার স্ত্রী মোছা. সানজিদা খাতুন, সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার দক্ষিণ নলতা গ্রামের আমিনা বেগম এবং তার মেয়ে মোছা. হাবিবা বিনতে শফিকুল। এর মধ্যে তিন শিশুকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সিটিটিসির সোয়াত টিমের ‘অপারেশন হিল সাইড’ নামে অভিযান শেষে সিটিটিসি-প্রধান সাংবাদিকদের বলেন, কুলাউড়ায় যে জঙ্গিরা আস্তানা করেছিল, তারা বাংলাদেশে নতুন উগ্রবাদী ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’ নামক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। এক সপ্তাহ আগে খবর পাই মৌলভীবাজার জেলার কোথাও নতুন এই উগ্রবাদী সংগঠনের আস্তানা রয়েছে। গতকাল শুক্রবার আমরা গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে নিশ্চিত হই কুলাউড়া উপজেলার নির্জন পাহাড়ি এলাকা পূর্ব টাট্টিউলিতে তারা আস্তানা।
সে মোতাবেক শুক্রবার রাত থেকে মৌলভীবাজার জেলা ও কুলাউড়া থানা পুলিশ আস্তানাটি ঘিরে রাখে জানিয়ে তিনি বলেন, আজ শনিবার ভোরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিটিসি সোয়াত টিম অভিযানে নামে। বিনা বাধায় আস্তানা থেকে চার পুরুষ, ছয় নারী ও তিন শিশুকে আটক করা হয়।
অভিযানে আস্তানা থেকে বিস্ফোরকসহ জিহাদি বই, টাকা উদ্ধার করা হয় বলেও জানান তিনি।
সিটিটিসি-প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, জঙ্গি আস্তানা গড়তে কুলাউড়া পাহাড়ে ৫০ শতাংশ জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে তারা বসবাস করছিলেন। আরও অনেকে এ আস্তানায় ছিল বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। আমরা সবিইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হব।’


