প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপনের আর কয়েক ঘণ্টা বাকি। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। টানা চতুর্থ মেয়াদে গঠিত বর্তমান সরকার ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট এটি। দেশের ইতিহাসে এটিই হবে সব থেকে বড় আকারের বাজেট।
জানা গেছে, আগামী অর্থবছর কালো টাকা সাদা করতে সরকারকে কর দিতে হবে মাত্র ১৫ শতাংশ। যদিও প্রদর্শিত বা বৈধ আয়ের ওপর কর পরিশোধ করতে হবে তার দ্বিগুণ। নতুন বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণির সর্বোচ্চ করসীমা ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশে উন্নীতের প্রস্তাব করা হচ্ছে। অর্থাৎ বৈধ আয়ের ওপর করাঘাত আরও বাড়ল।
দেশে দুই বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। টানা ২৪ মাস ধরে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশের বেশি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে পিষ্ট সাধারণ মানুষ। এ অবস্থায় ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর প্রত্যাশা ছিল। যদিও বাজেটে এ ধরনের কোনো ঘোষণা থাকছে না। বিদ্যমান সাড়ে ৩ লাখ টাকাই বহাল রাখা হচ্ছে করমুক্ত আয়ের সীমা। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ব্যক্তি শ্রেণির আয়কর পরিশোধের ধাপ ছিল ছয়টি। আগামী অর্থবছরে সাতটি ধাপের প্রস্তাব করা হচ্ছে।
অন্যদিকে কালো টাকা সাদা করার বিধান আবারো সংযোজনের প্রস্তাব করা হচ্ছে। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ বিষয়ে রাখা বিধানে উল্লেখ রয়েছে, দেশের প্রচলিত আইনে যা-ই থাকুক না কেন, কোনো করদাতা স্থাবর সম্পত্তি যেমন ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট ও ভূমির জন্য নির্দিষ্ট করহার এবং নগদসহ অন্যান্য পরিসম্পদের ওপর ১৫ শতাংশ কর পরিশোধ করলে কোনো কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকারের প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে না।
সমাজে কালো টাকার দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির আকারও দ্রুত বড় হচ্ছে। এ কারণে দেশের ব্যাংকগুলো থেকে নগদ টাকা তোলার চাপ বেড়েই চলছে। চাপ সামলাতে প্রতিনিয়ত ইস্যুকৃত নোটের পরিমাণ বাড়িয়ে চলছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত এপ্রিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইস্যুকৃত নোটের স্থিতি ছিল ৩ লাখ ৫ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যাংকের বাইরে চলে গেছে। যদিও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলে অর্থবছরের শুরুতে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছিল। ঘোষিত মুদ্রানীতির প্রধান লক্ষ্যই ছিল বাজারে অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু ঘুষ, অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত কালো টাকার আধিক্যের কারণে নগদ টাকার চাহিদা দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে।
সরকার এ সুযোগ দিলে বৈধ করদাতারা নিরুৎসাহিত হবেন বলে মনে করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। তিনি বলেন, করদাতারা এতে ক্ষুব্ধ হবেন। কারণ, তারা ৩০ শতাংশ দেবেন আর অপ্রদর্শিত আয়কারীরা দেবেন ১৫ শতাংশ। এটা অন্যায্যতা। এতে করদাতারা নিরুৎসাহিত হবেন। কেননা কর দিলে তাদেরকে অডিটের আওতায় আনা হয়, হাজারো প্রশ্ন করা হয়। অথচ অপ্রদর্শিতদের ক্ষেত্রে কোনো প্রশ্ন থাকবে না! এটি হতে পারে না।


