Homeএই মুহুর্তেবড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার বাদীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা

বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার বাদীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনিরের বড় ভাই টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনিরের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলার বাদী কলেজছাত্রী মির্জা আফরোজ এশার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে।

আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে এশা মির্জার বড় বোন শনিবার (১৯ নভেম্বর) রাতে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলাটি করেন। আসামি করা হয়েছে এশা মির্জারই বড় ভাই মির্জা জিয়াউর হাসান জনি ও সৌরভ নামের এক যুবককে।

টাঙ্গাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ছালাম মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘শনিবার রাতে আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ এনে এশা মির্জার বড় বোন মির্জা লুনা মামলা করেছেন। মামলায় এশার ভাই মির্জা জিয়াউর হাসান জনি ও সৌরভ নামের একজনকে আসামি করেছে।’

শনিবার (১৮ নভেম্বর) বিকালে টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের করের বেতকার (বোয়ালী) এলাকার নিজ বাসা থেকে এশার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এশা বোয়ালী এলাকার মৃত লতিফ মির্জার মেয়ে। তবে এটি হত্যা না কি আত্মহত্যা এ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজাল।

এ বিষয়ে ওসি বলেন, ‘এশার লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আজ ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।’

চলতি বছরের ৫ এপ্রিল টাঙ্গাইল মডেল থানায় বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন এশা। সেসময় বাদী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ধর্ষণের কারণেই তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। ৬ এপ্রিল আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন ভুক্তভোগী।

হাইকোর্টে আবেদন করে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন বড় মনির। গত ৩০ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে চেম্বার আদালত জামিন স্থগিত করে দুই সপ্তাহের মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। গত ১৫ মে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এরই মধ্যে ২৭ জুন এশা সন্তানের জন্ম দেন। ১১ জুলাই হাইকোর্ট থেকে জামিন পান আসামি। কিন্তু পরদিনই রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে সেই জামিনাদেশ স্থগিত করে সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিতের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন চেম্বার আদালত।

গত ২৮ আগস্ট ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে এশা অভিযোগ করেন, ক্ষমতা খাটিয়ে বড় মনি ডিএনএ-এর রিপোর্ট পাল্টে দিতে পারেন। হুমকিধমকির পরও সন্তানের অধিকার নিশ্চিতের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন এশা।

তবে আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া ডিএনএ রিপোর্ট অনুযায়ী, এশার নবজাতকের সঙ্গে বড় মনিরের ডিএনএ-এর মিল পাওয়া যায়নি। এর ভিত্তিতে গত ৯ অক্টোবর হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখার আদেশ দেন আপিল বিভাগ। বড় মনির বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়