প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। একজন হামে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে আরও ১২ থেকে ১৮ জনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। আসন্ন ঈদে মানুষের চলাচল ও সামাজিক মেলামেশা বাড়লে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। তাঁদের মতে, শুধু হাসপাতালনির্ভর চিকিৎসা দিয়ে এখন আর হামের রোগীদের সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। মৃত্যু কমাতে হলে কমিউনিটি পর্যায়ে দ্রুত অস্থায়ী হাসপাতাল গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা শিশুর জ্বর দেখা দিলেই তাকে দ্রুত আইসোলেশনে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি এখন মহামারী পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আক্রান্তের পাশাপাশি মৃতের সংখ্যাও লাফিয়ে বাড়ছে। চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে ১৫ শিশুর মৃত্যু হচ্ছে, যা গত মাসে ছিল ৯ জন। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে হামে শিশুমৃত্যুর হার বেশি। সংক্রমণ পুরোপুরি ঠেকানো এখন কঠিন। তাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে শিশুমৃত্যু কমানোর ওপর।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেনের মতে, হাম মহামারী পর্যায়ে চলে গেছে। সংক্রমণ হবেই। এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, আক্রান্ত হলেও যেন মৃত্যু না হয়। এ জন্য রোগী সংকটাপন্ন হওয়ার আগেই চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে।
মুশতাক হোসেন বলছেন, হামে শিশুমৃত্যুর বড় কারণ অপুষ্টি। গ্রাম ও শহরের দরিদ্র, ভাসমান এবং বস্তি এলাকার শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব পরিবারের অনেকের পক্ষেই ঘরে আলাদা করে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। তাই হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় তাঁবু গেড়ে অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করা যেতে পারে। এতে রোগীরা দ্রুত চিকিৎসা পাবে, একই সঙ্গে মূল হাসপাতালের ওপর চাপও কমবে।
জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, ঈদের আগে ও পরে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখনই জরুরি প্রস্তুতি নিতে হবে। কমিউনিটি পর্যায়ে দ্রুত রোগী শনাক্ত, আইসোলেশন, চিকিৎসা ও পুষ্টিসহায়তা নিশ্চিত করা গেলে হামে শিশুমৃত্যু কমানো সম্ভব হবে।


