Homeএই মুহুর্তেসিডিএ’র মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া চূড়ান্ত

সিডিএ’র মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া চূড়ান্ত

প্রাইম ভিশন ডেস্ক

পরিকল্পিত, টেকসই ও আধুনিক মহানগরী হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তুলতে ‘চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান (২০২৫-২০৫০)’ এর খসড়ার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। রোববার (২ আগস্ট) থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০ দিন নাগরিকদের মতামত ও আপত্তি গ্রহণ শেষে পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন। এ সময় প্রকল্পের অগ্রগতি, জনমত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং বাস্তবায়ন কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়।

চউক সূত্র জানায়, ২০২৫ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত মেয়াদি এই মহাপরিকল্পনায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডসহ পার্শ্ববর্তী পৌরসভা ও উপজেলার প্রায় এক হাজার ২৫৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৫৮৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, যা সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বর্তমানে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৯০ শতাংশ। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
মহাপরিকল্পনায় ভূমি ব্যবহার, পরিবহন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ, আবাসন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ মোট ১৯টি খাতে ২৭৬টি উন্নয়ন প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন খাতে ১০১টি এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২১টি প্রকল্প রয়েছে।

চউক জানিয়েছে, জনমত গ্রহণের জন্য নাগরিকরা ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চউক ভবনে সরাসরি উপস্থিত হয়ে অথবা ডিজিটাল ওয়েব-জিআইএস (Web-GIS) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মতামত ও আপত্তি জানাতে পারবেন।

পরিকল্পনায় নগরীর ওপর চাপ কমাতে ‘পলিকেন্দ্রিক গ্রোথ মডেল’ বাস্তবায়নের পাশাপাশি কর্ণফুলী টানেলকে কেন্দ্র করে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ ধারণা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আনোয়ারার জন্য পৃথক অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান রাখা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে নগর এলাকায় ৩০ দশমিক ৪ কিলোমিটার এবং বৃহত্তর এলাকায় ১১১ দশমিক ৩ কিলোমিটার নতুন খাল খননের প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া ভূমি মালিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে ‘ট্রান্সফার অব ডেভেলপমেন্ট রাইটস (টিডিআর)’, ‘গাইডেড ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ ও ‘ট্রাইপার্টাইট মডেল’ ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ১৯৬১, ১৯৯৫ ও ২০০৮ সালের পর এটি চট্টগ্রামের চতুর্থ মহাপরিকল্পনা। একটি এলাকার সমস্যা সেই এলাকার মানুষই সবচেয়ে ভালো জানেন। তাই নাগরিকদের যৌক্তিক মতামত যাচাই-বাছাই করেই পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি বলেন, অতীতে উন্নয়নের নামে নগরীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পাহাড় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন থেকে নকশার বাইরে কোনো ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। নতুন আইন অনুযায়ী নকশা লঙ্ঘনকারীদের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। এ জন্য স্বরাষ্ট্র, আইন ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কারণে সৃষ্ট যানজট নিরসনে ইতোমধ্যে এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে চট্টগ্রামকে একটি সবুজ, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানের নান্দনিক মহানগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়