প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আদালত চত্বর থেকে দুই জঙ্গিকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তির নাম আমরা জেনেছি। তাকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার সহযোগী বেশ কয়েকজনকেও শনাক্ত করা হয়েছে। আপাতত তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করছি না। পরিকল্পনা কিভাবে হয়েছে তাও আমরা জানতে পেরেছি।
সোমবার সন্ধ্যায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আদালতের সামনে থেকে জঙ্গি ছিনতাই অপারেশনে কারা কারা ছিল তাদের বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিকেও শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের সবাইকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার কাজ চলছে।
তিনি আরো বলেন, তাদের আরো বড় কোনো পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা চারজনকে ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু দুজনকে নিতে পারেনি। যেসব আসামিকে আদালতে হাজিরার জন্য আনা হয়েছিল তারা সবাই আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার সদস্য। তাদের সবাইকে সিটিটিসি ২০১৬ সালে গ্রেফতার করেছিল। তাদের গ্রেফতারের মাধ্যমে অনেকগুলো ঘটনা ও হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়েছিল।
সিটিটিসি প্রধান বলেন, আমরা প্রতিটি পয়েন্টকে সতর্ক করে দিয়েছি। জঙ্গিরা যেন সীমান্ত পাড়ি দিতে না পারে, তারা যেন কোনোভাবে বের হতে না পারে সেজন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা যেন কোনোভাবে আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁক গলে বের হয়ে যেতে না পারে। ছিনতাই হওয়া দুই জঙ্গিকে ধরিয়ে দিতে পারলে ২০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গতকালের জঙ্গি ছিনতাই অপারেশনে নতুন জঙ্গি সংগঠনের কোনো হাত নেই। জড়িতদের মধ্যে কমপক্ষে ১০-১২ জন আনসার আল ইসলামের সদস্য।
উল্লেখ্য, রোববার দুপুরে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রধান ফটকের সামনে থেকে মোটরসাইকেলে আসা চার জঙ্গি পুলিশের চোখে-মুখে পিপার স্প্রে করে জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেয়।
ছিনিয়ে নেয়া জঙ্গিরা হলেন- সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মাধবপুরের মইনুল হাসান শামীম এবং লালমনিরহাটের আদিতমারি উপজেলার ভেটেশ্বর গ্রামের আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব। তাদের গ্রেফতারে রাজধানী, সারাদেশের আদালত, সীমান্ত এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।


