প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
দেশের সিনেমায় চলছে সুবাতাস। দেশের গন্ডি পেড়িয়ে দেশের বাইরেও চলচ্ছে দেশীয় সিনেমার জয়জয়কার। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বেশ কিছু চলচ্চিত্র নিয়ে কলকাতার নন্দনে শুরু হচ্ছে ‘৫ম বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব’। আগামী ২৮ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এ উৎসব চলবে ৩১ জুলাই পর্যন্ত। উৎসবে দেখানোর জন্য প্রাথমিকভাবে ৪৫টি সিনেমা বাছাই করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ সরকারের এ মন্ত্রণালয়ই চারদিনের এ উৎসবের আয়োজন করেছে। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, সিনেমা বাছাইয়ের জন্য গত ১২ জুলাই বৈঠকে বসেছিলেন তারা।
সেখানে প্রাথমিকভাবে ৪৫টি সিনেমা বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়; এর মধ্যে পাঁচটি প্রামাণ্যচিত্র এবং দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও রয়েছে।
ফারুক আহমেদ জানান, “এই ৪৫ সংখ্যাটি চূড়ান্ত নয়, সেটি কম-বেশিও হতে পারে। কারণ কেউ যদি উৎসবে অংশ নিতে না পারেন, সেক্ষেত্রে সংখ্যাটি কমে যেতে পারে। উৎসবে কতটি সিনেমা অংশ নিচ্ছে, সেটি আরও ২/৩ দিন পরে বোঝা যাবে।”
প্রাথমিক এই তালিকায় কোরবানির ঈদের মুক্তি পাওয়া শাকিব খানের ‘প্রিয়তমা’, আফরান নিশো-তমা মির্জার ‘সুড়ঙ্গ’, অপু বিশ্বাসের ‘লাল শাড়ি’ ও চয়নিয়া চৌধুরীর ‘প্রহেলিকা’র নাম আছে।
এছাড়া গত বছরে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের জোয়ার তোলা সিনেমা, ‘হাওয়া’ ও ‘পরাণ’ দেখানো হবে উৎসবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তরুণ বয়সের সময়কাল নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘দুঃসাহসী খোকা’, ‘চিরঞ্জিব মুজিব’, এবং একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ নিয়ে বানানো ‘রেডিও’ এ তালিকায় রাখা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত সিনেমাগুলোর মধ্যে আছে, ‘গেরিলা’, ‘স্ফুলিঙ্গ’, ‘মা’, ‘১৯৭১ সেই সব দিন’, ‘জেকে ১৯৭১’, এবং গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘দামাল’।
এছাড়া, ‘রিকশা গার্ল’, ‘বিউটি সার্কাস’, ‘গুণীন’, ‘পাপাপূণ্য’, ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা’ সিনেমা দেখানো হবে উৎসবে। আরও দেখানো হবে ‘ন ডারাই’, ‘গলুই’, ‘গণ্ডি, ‘আয়নাবাজি, ‘দেবী’, ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ এর মত পুরস্কার পাওয়া এবং সাড়া ফেলা কিছু সিনেমা।
নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত ‘সাঁতাও’ এবং বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের জীবন সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া’ সিনেমা দুটি চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রামাণ্যচিত্র ক্যাটাগরিতে দেখানো হবে ‘হাসিনা এ ডটারস টেল’।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এই সিনেমাগুলোর নামের তালিকা চূড়ান্ত বাছাইয়ের জন্য তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের কাছে পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রীর করা চূড়ান্ত তালিকায় যেসব সিনেমার নাম আসবে, সেগুলোই উৎসবের জন্য মনোনীত করা হবে।
ফারুক আহমেদ জানান, চলচ্চিত্র উৎসবের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকছে, সেখানে উপস্থিত থাকবেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকেও। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের এক ঝাঁক তারকাশিল্পীও উৎসবে থাকছেন।
প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত হয়েছে যে সিনেমাগুলো তা উল্লেখ করা হলঃ
‘রিকশা গার্ল’: পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরী। প্রযোজক এম. এইচ. এম শিহাব আহমেদ সিরাজী, জিয়াউদ্দিন আদিল ও ফরিদুর রেজা সাগর।
‘JK-1971’: পরিচালক ও প্রযোজক ফাখরুল আরেফীন খান।
‘বীরকন্যা প্রীতিলতা’: পরিচালক ও প্রযোজক প্রদীপ ঘোষ।
‘রেডিও’: পরিচালক অনন্য মামুন এবং প্রযোজক মোহাম্মদ আরিফ ইকবাল।
‘১৯৭১ সেই সব দিন’, পরিচালক হৃদি হক এবং প্রযোজক লাকী ইনাম।
‘নকশীকাঁথার জমিন’, পরিচালক ও প্রযোজক খান শারফুদ্দীন মোহাম্মদ আকরাম (আকরাম খান)।
‘শ্যামা কাব্য’: পরিচালক ও প্রযোজক বদরুল আনাম সৌদ।
‘দু:সাহসী খোকা’: পরিচালক ও প্রযোজক মুশফিকুর রহমান গুলজার।
‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’: পরিচালক আবদুস সামাদ খোকন এবং প্রযোজক তামান্না সুলতানা।
‘প্রহেলিকা’: পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী এবং প্রযোজক জামাল হোসেন।
‘সুড়ঙ্গ’: রায়াহান রাফি এবং প্রযোজক শাহরিয়ার করিম ভূঁইয়া (শাহরিয়ার শাকিল)।
‘লাল শাড়ি’: পরিচালক বন্ধন বিশ্বাস এবং প্রযোজক অপু বিশ্বাস।
‘প্রিয়তমা’: পরিচালক হিমেল আশরাফ এবং প্রযোজক মোহাম্মদ আরশাদ আদনান।
‘গুণিন’: পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিম এবং প্রযোজক রেদোয়ান রনি।
‘বিউটি সার্কাস’: পরিচালক ও প্রযোজক মাহমুদ দিদার।
‘হাওয়া’: পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন এবং প্রযোজক অঞ্জন চৌধুরী
‘পরাণ’: পরিচালক রায়হান রাফি এবং প্রযোজক তামজিদ-উল আলম।
‘দামাল’: পরিচালক রায়হান রাফি এবং প্রযোজক ফরিদুর রেজা সাগর।
‘পায়ের তলায় মাটি নাই’: পরিচালক ও প্রযোজক আবু শাহেদ ইমন।
‘পাপপূণ্য’: পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিম এবং প্রযোজক ফরিদুর রেজা সাগর।
‘সাঁতাও’: পরিচালক ও প্রযোজক খন্দকার সুমন।
‘মা’, পরিচালক অরণ্য আনোয়ার এবং প্রযোজক পুলক কান্তি বড়ুয়া ও অরণ্য আনোয়ার।
‘দেশান্তর’: পরিচালক ও প্রযোজক আশুতোষ ভট্টাচার্য্য (আশুতোষ সুজন)
স্ফুলিঙ্গ’: পরিচালক ও প্রযোজক তৌকির আহমেদ।
‘চিরঞ্জীব মুজিব’: পরিচালক নজরুল ইসলাম এবং প্রযোজক লিটন হায়দার।
‘বিক্ষোভ’: পরিচালক শামীম আহমেদ রনি এবং প্রযোজক পিংকি আক্তার।
‘রেহানা মরিয়ম নূর’: পরিচালক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ এবং প্রযোজক এহসানুল হক।
‘নোনা জলের কাব্য’: পরিচালক ও প্রযোজক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত।
‘মৃধা বনাম মৃধা’: পরিচালক ও প্রযোজক রনি ভৌমিক।
‘কূড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া’: পরিচালক ও প্রযোজক মুহম্মদ আব্দুল কাইউম।
‘গলুই’:পরিচালক এস এ হক অলিক এবং প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু।
‘গণ্ডি’: পরিচালক ও প্রযোজক ফাখরুল আরেফিন খান।
‘ন ডরাই’: তানিম রহমান অংশু এবং প্রযোজক মাহবুব-উর-রহমান।
‘আলফা’: নাসির উদ্দীন ইউসুফ এবং প্রযোজক ফরিদুর রেজা সাগর।
‘পুত্র’: পরিচালক সাইফুল ইসলাম মান্নু এবং প্রযোজক বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর।
‘আয়নাবাজি’: পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরী এবং প্রযোজক জিয়াউদ্দিন আদিল ও গাউসুল আলম শাওন।
‘দেবী’: পরিচালক অনম বিশ্বাস এবং প্রযোজক জয়া আহসান।
‘গেরিলা’: পরিচালক নাসির উদ্দীন ইউসুফ এবং প্রযোজক ফরিদুর রেজা সাগর।
প্রামাণ্যচিত্রঃ
‘হাসিনা এ ডটারস টেল’, পরিচালক রেজাউর রহমান খান পিপলু এবং প্রযোজক রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও নসরুল হামিদ।
‘অবিনশ্বর’, পরিচালক ও প্রযোজক ফাখরুল আরেফিন খান।
‘একটি দেশের জন্য’, পরিচালক ও প্রযোজক আল আমিন (শামীম আল আমিন)
‘চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু’, প্রযোজক বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর।
‘কাঙ্গাল হরিনাথ’, প্রযোজক বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর।
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রঃ
‘ওমর ফারুকের মা’, পরিচালক ও প্রযোজক এম এম জাহিদুর রহমান।
‘ধড়’, পরিচালক ও প্রযোজক আকা রেজা গালিব।


