প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
সমাপনী দিনের মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সমাজসেবায় একুশে পদকপ্রাপ্ত সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। বিদেশি আলোচক ছিলেন ইরাকের বাগদাদের বড় পীর সৈয়দ আবদুল কাদের জিলানী (রা) এর বংশধর আল্লামা সৈয়দ আফিফ আবদুল কাদের মনসুর আল জিলানী (মাজিআ)।
কারবালা ময়দানে ইসলাম দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একদিকে হযরত ইমাম হোসাইন (রা) ও আহলে বায়তে রাসুলের (দ) হাতে মানবিক ইসলামের পতাকা, অন্যদিকে ইসলামের আলখেল্লাধারী ইয়াজিদের সহিংস উগ্রবাদী ইসলাম। আমরা হোসাইনি মানবিক ইসলামের পতাকাই ধারণ করি। ইসলামের এই মূলধারার ওপর আমরা প্রতিষ্ঠিত। কারবালার যুদ্ধে মানবতা, শান্তি, সম্প্রীতির মানবিক ইসলামের বিজয় সূচিত হয়েছে; যার নেতৃত্বে ছিলেন নবী বংশের উজ্জ্বল নক্ষত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা)। ’
তিনি আরও বলেন, ‘আহলে বায়তে রাসুলের (দ) মর্যাদা সমুন্নত করেছেন স্বয়ং আল্লাহ পাক। তাদের ভালোবাসা ফরজ। কুরআন মজিদ এবং সুন্নাহ তথা আহলে বায়তে রাসুলকে (দ) আঁকড়ে ধরলে নাজাত মিলবে। তাদেরকে মহব্বত বা আনুগত্য না করলে পথভ্রষ্ট হতে হবে। আমরা কুরআন মজিদ শুধু পড়ি না। চিন্তা গবেষণাও করি। আর কুরআন মজিদের পয়গামই হচ্ছে আহলে বায়তে রাসূলের (দ) মহব্বত।’
মাতা-পিতার খেদমত, সমাজে সালামের প্রসার ঘটানো এবং স্ত্রী-সন্তানদের ভালোবাসার আহ্বান জানিয়ে সভাপতির বক্তব্যে সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, তবেই আপনাদের ওপর আল্লাহ পাক মেহেরবানি করবেন।
ইমাম হযরত আহমদ ইবনে হাম্বলের (রা) দৃষ্টান্ত টেনে বলেন, যিনি মানুষকে ভালোবাসেন তিনিই প্রকৃত আল্লাহওয়ালা। আপনারা সব সময় আল্লাহর জিকির করবেন। এতে সকল পেরেশানি, দুঃখ দুর্দশা দুর হবে, রিজিক বৃদ্ধি পাবে। এভাবে আল্লাহ পাকের কুদরত থেকে আপনারা মেহেরবানি পাবেন। জিকির, সবর, নেক্কার স্ত্রী, কৃতজ্ঞতাপূর্ণ অন্তর তথা শোকরগুজারি এই চারটি বিষয়কে ইসলাম বেশ গুরুত্ব দিয়েছে। ১০ দিনব্যাপী শাহাদাতে কারবালা মাহফিলে সহযোগিতাকারী সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
আহলে বায়তে রাসূল (দ) আমাদের নাজাত ও মুক্তির ঠিকানা বিষয়ে আলোচনা করেন জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন আলকাদেরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আল্লামা জালাল উদ্দিন আলকাদেরীর (রহ) জ্যেষ্ঠ সন্তান ব্যারিস্টার আবু সাঈদ মুহাম্মদ কাশেম। তিনি বলেন, ‘আমার আব্বাজান কেবলা (রহ) আমাদেরকে ঈমান আক্বিদার দীক্ষা দিয়ে গেছেন। এই মাহফিল তার বড় অর্জন। এজন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ’
অতিথি ছিলেন অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার আবু সাঈদ মোহাম্মদ কাশেম, ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান পেয়ার মোহাম্মদ, পোর্টল্যান্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহামন। কুরআন মজিদ থেকে তেলাওয়াত করেন আন্তর্জাতিক ক্বারী আহমদ বিন ইউসূফ আল আজহারী।
মাহফিল সঞ্চালনা করেন চবি অধ্যাপক ড. আল্লামা জাফর উল্লাহ, হাফেজ মোহাম্মদ ছালামত উল্লাহ ও জমিয়তুল ফালাহর পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আহমদুল হক। মসজিদের নিচতলায় হাজারো মহিলা মাহফিলের আলোচকদের বক্তব্য শোনেন।
মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের শীর্ষস্থানীয়সহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন দরবারের সাজ্জাদানশীন, আওলাদগণ, বিভিন্ন মাদ্রাসার আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মহফিলের প্রধান সমন্বয়ক পিএইচপি ফ্যামিলির পরিচালক মোহাম্মদ আলী হোসেন সোহাগ, খোরশেদুর রহমান, মুহাম্মদ আনোয়ারু হক, সিরাজুল মুস্তফা, মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন, জাফর আহমদ সওদাগর, প্রফেসর কামাল উদ্দিন আহমদ, আব্দুল হাই মাসুম, দিলশাদ আহমদ, মোহাম্মদ ছালামত উল্লাহ, মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিকদার, এস এম শফি, গাজী মুহাম্মদ ইদ্রিচ চেয়ারম্যান, মাহাবুবুল আলম, আব্দুর রহমান, মাইনুদ্দীন মিঠু, মোহাম্মদ ফরিদ মিয়া, শাহাব উদ্দিন, জহির উদ্দিন, খোরশেদ আালী চৌধুরী, নাজিব আশরাফ, মুহাম্মদ আব্দুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


